সরকারি কর্মীদের ডিএ-র টাকায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডার! মমতার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক শুভেন্দু
সরকারি কর্মীদের ডিএ-র টাকায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডার! মমতার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক শুভেন্দু
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের প্রকল্প লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে গর্জে উঠলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। টুইটারে সরকারি কর্মীদের প্রতি অবহেলার কথা তুলে ধরে তিনি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রক্লপ নিয়ে খোঁচা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। শুভেন্দু বললেন, সরকরি কর্মীদের ডিএ-র টাকায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী।

সরকারি কর্মচারীদের টাকায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডার
রাজ্যের বিরোধী দলেনতা শুভেন্দু অধিকারী এদিন বলেন, চার বথর ধরে মহার্ঘভাতা হকেয়া পড়ে রয়েছে। কোনও হুঁশ নেই রাজ্য সরকারের। রাজ্য সরকার কিছুতেই সেই টাকা দিচ্ছে না। সরকারি কর্মচারীদের প্রাপ্য সেই টাকা দিয়েই কি তবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প চলছে? এই বলেই তিনি খোঁচা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

দাবি সমর্থনে অঙ্ক কষে দেখিয়েছেন শুভেন্দু
একেবারে অঙ্ক কষে তিনি মিলিয়ে দিয়েছেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার আর সরকারি কর্মচারীদের বঞ্চনার তথ্য। শুভেন্দু টুইটে লিখেছেন, দেশের কোনও রাজ্যে সরকারি কর্মচারী এমনন বঞ্চনার শিকার হয়নি, যেমনটা বাংলার হয়ে চলেছে। বাংলায় অতীতে এমন বঞ্চনার ইতিহাস নেই। তিনি তাঁর কথার সমর্থনে একটি অঙ্ক কষে দেখিয়েছেন।

গ্রুপ ডি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘভাতা প্রসঙ্গে
শুভেন্দু গ্রুপ ডি কর্মীদের বেতন ও বকেয়া মহার্ঘভাতার একটি হিসেব তুলে ধরেছেন। তিনি লেখেন, গ্রুপ ডি কর্মীদের বেতন ১৭ হাজার টাকা। আর তাঁদের ২৮ শতাংশ মহার্ঘভাতা বকেয়া। অর্থাৎ প্রতি মাসে ৪,৭৬০ টাকা তাঁরা পাচ্ছেন না। অর্থাৎ বছরে পাচ্ছেন না ৫৭,১২০ টাকা। উচ্চপদস্থ কর্মীরা বছরে লক্ষ লক্ষ টাকা কম পাচ্ছেন।

আগুনে ঘি ঢেলে দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা
সাড়ে তিন লক্ষ সরকারি কর্মচারী ও অবসরপ্রাপ্ত পেনশভোগী রয়েছে। সেই টাকা যোগ করলে কত হয়? এই প্রশ্ন তুলে তিনি জানিয়ে দেন সরকারি কর্মীদের হকের টাকার ভাগ দিয়েই কি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার চলছে? শুভেন্দুর এই টুইট ফের বিতর্ক তৈরি হবে, সরকারি কর্মীদের মধ্যে উষ্মা তৈরি হবে, আগুনে ঘি ঢেলে দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু।
|
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা নিয়ে মমতার বার্তা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০২১-এ তৃতীয় মেয়াদের জন্য সরকরা গঠন করেই প্রতিশ্রুতিমতো লক্ষ্মীর ভাণ্ডার চালু করে দিয়েছেন। কোথা থেকে টাকা আসবে তা দেখানো হয়নি বাজেটে। কোনও বরাদ্দ না দেখিয়েই তিনি মাসের পর মাস বাংলার গৃহকর্ত্রীদের জন্য দিয়ে যাচ্ছেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ৫০০ ও ১০০০ টাকা। তিনি ইতিমধ্যেই বলেছেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা জোগাড় করতে নবান্নকে প্রতিদিন ভাবতে হচ্ছে। প্রশাসনিক বৈঠকে গিয়ে তাই তিনি বলছেন, এখন আর কেউ কিছু চাইবেন না।

শুভেন্দু অধিকারী খোঁচা দিয়েছেন মমতাকে
এই অবস্থায় শুভেন্দু অধিকারী খোঁচা দিয়ে জানিয়েছেন, সরকারি কর্মীদের প্রাপ্য না দিয়ে সেই টাকা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প চলাচ্ছে রাজ্য সরকার। তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকারি কর্মচারী সংগঠন এ ব্যাপারে এখনও স্পিকটি নট। শুভেন্দু চাইছেন সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে নতুন করে ভাবাতে। কেন তাঁরা বঞ্চিত হবেন, তা নিয়ে আওয়াজ তুলতে।












Click it and Unblock the Notifications