মহিলারাই বিদায় করবেন মমতার সরকারকে, কাল পাঁশকুড়ায় ঝাঁটা নিয়ে হবে মিছিল, মন্তব্য শুভেন্দুর
পশ্চিমবঙ্গে নারী সুরক্ষা তলানিতে। আজ নন্দীগ্রামে এমনই দাবি করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তীব্র সমালোচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
আজ নরেন্দ্র মোদীর ৭৫তম জন্মদিন উদযাপনের মাধ্যমে সেবা পক্ষে সেবা প্রদান কর্মসূচির সূচনাও করেন শুভেন্দু।

শুভেন্দুর কথায়, যে মায়েরা, বোনেরা দিন-রাত এক করে সরকারি প্রকল্পগুলি জনমানসে পৌঁছে দেন এবং নিরলস পরিশ্রম করে আমাদের বিভিন্ন ভাবে সেবাদান করেন, সেই সব গ্রামীণ সেবিকাদের এমন একটি অর্থবহ দিনে আজ সেবা প্রদান করার সুযোগ হলো। মোদীজির কর্মনিষ্ঠার মতোই ওঁদেরও অক্লান্ত পরিশ্রম ও সমাজের প্রতি একনিষ্ঠ সেবা আমাদের অনুপ্রেরণা জোগায়। পঞ্চায়েত স্তরে নির্বাচিত মহিলা জনপ্রতিনিধি, স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও সমবায়ের মহিলাদের হাতে তিনি উপহার ও তুলসি গাছের চারা তুলে দেন।
এরপরই শুভেন্দু সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, বাংলায় নারী সুরক্ষা তলানিতে। ইন্টারনাল সিকিউরিটি রাজ্যের বিষয়। কিন্তু যোগী আদিত্যনাথ, হিমন্ত বিশ্বশর্মা, চন্দ্রবাবু নাইডুর বা দিল্লির পুলিশ যেভাবে কাজ করে, এখানে তা হয় না। মালদহের চাঁচলে রবীন্দ্রনাথের ছবি যে পোড়াল তাকে ততক্ষণ অবধি গ্রেফতার করা হয় না, যতক্ষণ না পর্যন্ত তৃণমূল তাকে সাসপেন্ড করে।
শুভেন্দু বলেন, ধর্ষকদের নেত্রী কে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া আবার কে! অভয়ার দেহ যে তাড়াতাড়ি পুড়িয়ে দিল প্রমাণ লোপাট করতে সেই সোমনাথকে পানিহাটির চেয়ারম্যান করে দিলেন মমতা। অনুব্রত মণ্ডল পুলিশের মা, স্ত্রীদের ধর্ষণ করার কথা বার পাঁচেক বললেও তাঁর নিরাপত্তা বাড়িয়ে পদ দিয়ে রাজা বানিয়ে দেওয়া হলো। এ কোন রাজ্যে আমরা বাস করি? ব্রিটিশরাও বলেনি শাঁখা, পলা, নোয়া, মঙ্গলসূত্র খুলে পরীক্ষা দিতে হবে। এখানে মুসলিম লিগের সরকার চলছে। ফলে বলা হচ্ছে নোয়া খুলে পরীক্ষা দিতে হবে। কোনওদিন এ রাজ্যে এমন হয়নি আগে। একজন মহিলা চাকরি উপেক্ষা করেছেন, এর মাধ্যমে চাকরিও হবে না। তিনি নোয়া খুলতে রাজি হননি। কারণ,সম্প্রতি তাঁর বিয়ে হয়েছে। সনাতনী, ভারতীয়, হিন্দু সংস্কৃতির প্রমাণ তিনি খুলতে চাননি। এই মহিলারাই এই সরকারকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করবেন বলে মন্তব্য শুভেন্দুর।
পাঁশকুড়ায় সরকারি হাসপাতালে ধর্ষণের প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, অভিযুক্ত জাহির আব্বাস তৃণমূলের বড় হার্মাদ নেতা। মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীদের শ্লীলতাহানি, ধর্ষণ করার জন্য তার আলাদা ঘর ছিল। এর পিছনে বড় মাথা না থাকলে এত বাড়তে পারে না। ২০১৮ সাল থেকে এ সব করছে। কাল মহিলারা ঝাঁটা নিয়ে পাঁশকুড়ায় মিছিল করবেন। যার মাথায় মমতার হাত, সেই খাবে জেলের ভাত।
মমতার এসআইআরের বিরোধিতা প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে এসআইআরের। কমিশন সংবিধান মেনেই কাজ করবে, কোনও লিডারের ইশারায় কাজ করবে না। ১৩ লক্ষ এমন নাম পাওয়া গিয়েছে যাঁদের আধার কার্ড মৃত্যুর কারণে নিষ্ক্রিয়, কিন্তু ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম আছে। এ ছাড়া ১ কোটি এমন নাম আছে যেখানে এক ব্যক্তির দুই-তিন জায়গায় নাম রয়েছে, বাংলাদেশের মুসলিম, রোহিঙ্গা-সহ অনুপ্রবেশকারীদের নামও রয়েছে। এই নামগুলি বাদ না গেলে ঠিকভাবে নির্বাচন হতে পারে না।












Click it and Unblock the Notifications