মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমতাচ্যুত করতে তাঁর পথই অনুসরণ! 'কৌশল' বদল শুভেন্দু অধিকারীর
একটা সময়ে ছিলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম সেনাপতি। জঙ্গলমহল ছাড়াও, মুর্শিদাবাদ, মালদহ, উত্তর দিনাজপুরে তৃণমূলকে নিরঙ্কুশ করতে নেত্রীর নির্দেশ পালন করেছিলেন। সেপথ তাঁর জানা। তবে তৃণমূল ক্ষমতায় থাকায় তিনি বাড়তি সুবিধা পেয়েছিলেন। তবে এখন তিনি বিজেপিতে। বিরোধী দলনেতার আসনে। তিনি জানেন, ২০০৯ সালে তৎকালীন শাসক সিপিআইএম এবং বিরোধী তৃণমূলের কথা। জানেন সেই সময় তৃণমূল সুপ্রিমোর স্লোগানের কথা। এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাতে সেই পথই অনুসরণ শুরু করেছেন বিরোধী দলনেতা।

২০০৯-এ কী করেছিলেন মমতা
২০০৬ সালে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসার পরে নন্দীগ্রাম-সিঙ্গুরের মতো ঘটনা ঘটে গিয়েছে। গ্রাম বাংলায় বামেদের জনপ্রিয়তাও ভাঁটার দিকে। তবে তখনও ২০০৮-এর পঞ্চায়েত ভোট হয়নি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্লোগান তুলেছিলেন লাল হটাও, দেশ বাঁচাও। সিপিআইএম হটাও, দেশ বাঁচাও। যেহেতু প্রধান শাসকদল হিসেবে সিপিআইএম-এর কতৃত্ব সর্বত্র ছিল, সেই কারণে তিনি সিপিআইএমকে নিশানা করেছিলেন। যে কারণে নিচুতলায় অনেক জায়গায় বাম-শরিকরা সিপিআইএম-এর বিরুদ্ধে তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত হতে শুরু করে। তৃণমূলের পাশে এসে দাঁড়ায় এসইউসিআই, পিডিএস-এর মতো দলও। এর ফলে ২০০৮-এর পঞ্চায়েত নির্বাচনে বাম শিবিরে ভাঙন প্রকট হয়ে ওঠে। আর ২০০৯-এর লোকসভায় রাজ্যে বামেদের ভবিতব্য পরিষ্কার হয়ে যায়।

মমতার পথ অনুসরণ
বাম শাসনের শেষ সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই প্রচার কিংবা সেই কৌশল প্রয়োগ করতে শুরু করেছেন বিরোধী দলনেতা। এর ফলে নিজের প্রচারেও অনেকটাই বদল এনেছেন তিনি। বারে বারেই তিনি বলছেন নো ভোট টু মমতা-র কথা। যে কারণে গত শুক্রবার তিনি বলেছেন, নো ভোট টু মমতা করেই বর্তমান তৃণমূল সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে। এই মনোভাব নিয়েই মানুষকে তৈরি করতে হবে। নো ভোট টু মমতা স্লোগানকে সামনে রেখেই বিভিন্ন বিরোধী দল কাছাকাছি আসবে।

মানুষ বিজেপিকে ভোট দেবেন
শুভেন্দু অধিকারীর যুক্তি, নো ভোট টু মমতা স্লোগানের পরে মানুষকে একজোট করার পরে তাঁরা বিজেপিকে ভোট দেবেন। কারণ রাজ্যে কংগ্রেস, সিপিআইএম এবং তৃণমূল পরীক্ষিত হয়ে গিয়েছে। কিন্তু বিজেপি রাজ্যে এখনও পরীক্ষিত নয়। সেই কারণে মানুষ বিকল্প হিসেবে বিজেপিকে বেছে নেবে। এব্যাপারে তিনি বগটুইতে অন্যতম স্বজন হারানো পরিবারের সদস্য মিহিলাল শেখের বিজেপির মঞ্চে আসার কথাও তিনি বলেছেন।

শুভেন্দুর জোট ব্যাখ্যা
সোমবার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অফিসে গিয়ে দেখা করেন। তিনি দেখা করেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা এবং পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন রাজ্যপাল তথা বর্তমান উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়ের সঙ্গেও। এরপর বিজেপির দফতরের কথা সাংবাদিক সম্মেলনে শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যে জোট নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, তিনি কখনই জোটের কথা বলেননি। তিনি বলেন, সিপিআইএম এবং কংগ্রেসকে প্রকাশ্যে বলতে হবে তৃণমূলকে ভোট নয়। আর সেখানেই মানুষ বিকল্প হিসেবে বিজেপিকেই বেছে নেবেন বলে যুক্তি বিরোধী দলনেতার।












Click it and Unblock the Notifications