‘সবার আগে দেশ’ ঝন্টুর এই নীতিকে সম্মান শুভেন্দু অধিকারীর, সকলকে বললেন মেনে চলতে
কাশ্মীরের উধমপুরে জঙ্গি হামলায় শহিদ সেনা কমান্ডো ঝন্টু আলি শেখের বাড়িতে অবশেষে পৌঁছলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বহুদিন ধরে রাজ্য বিজেপির নীরবতা নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ার পর মঙ্গলবার দুপুরে ঝন্টুর পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের পাশে থাকার বার্তা দিলেন তিনি।
এদিন ঝন্টুর বাড়িতে গিয়ে তাঁর পরিবারকে সমবেদনা জানান শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে তিনি আর্থিক সহায়তাও প্রদান করেন এবং শহিদ জওয়ানের স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে আলাদা করে সাক্ষাতের ইচ্ছাও প্রকাশ করেন। এদিন ঝন্টুর জন্যে শ্রদ্ধার্ঘ্য সভারও আয়োজন করা হয়। সেখান থেকেই একাধিক বিষয়ে কথা বলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা।

তাঁর কথায়, "চারজন শহীদ হয়েছেন এই ঘটনায়। সেই চারজনের মধ্যে একজন ছিলেন বীর ঝন্টু আলি শেখ। আমি এই মাটিকে প্রণাম করি, যে মাটিতে ঝন্টু আলির জন্ম হয়েছে। কথায় আছে, 'সবার আগে দেশ', আর সেই কথা অক্ষরে অক্ষরে রেখেছেন ঝন্টু। তাই তাঁকে প্রণাম জানাই। ওই দিন আমি আসতে পারিনি কারণ ওই দিন আমি সামশেরগঞ্জে ছিলাম। তবে ভারত সরকার তাঁকে সর্বাধিক সম্মান দিয়েছে"।
এরপরই তিনি বলেন, "ভগিনী নিবেদিতাও নিজের লেখা বইয়ে বলেছিলেন দেশের আগে কিছু নয়। আজ সেই কথা যেন অক্ষরে অক্ষরে পালন করে দিলেন ঝন্টু শেখ। তিনি বলেছিলেন দেশ সবার আগে। তাই দেশকে বাঁচাতে তিনি আত্মবলিদান দিয়েছেন। চলুন সবাই মিলে তাঁকে কথা দিই, তাঁর এই বলিদান ব্যর্থ হতে দেব না। দেশের জন্যে যা করার, দেশকে রক্ষা করতে আমাদের যা করতে হয় আমরা তা করব"।
তবে এই সফরের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। বিরোধী দলগুলি - বিশেষত তৃণমূল ও সিপিএম - প্রথম থেকেই অভিযোগ করে আসছিল যে, ঝন্টু শেখ মুসলিম হওয়ায় বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাননি। এমনকি, একটি অডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়, যেখানে দুই বিজেপি নেতাকে বলতে শোনা যায়, "ঝন্টুর বাড়িতে গেলে ভোট বাড়বে না"। যদিও এই অডিওর সত্যতা যাচাই করেনি কেউ।
শুভেন্দু অধিকারীর এই দেরিতে হলেও ঝন্টুর বাড়িতে যাওয়া প্রসঙ্গে তৃণমূল নেতা বাণী রায় কটাক্ষ করে বলেন, "যাক, দেরিতে হলেও বিজেপির বোধোদয় হয়েছে। যদি মানবতার পাঠ ওখান থেকে শেখা যায়, তাহলে ওঁদের মঙ্গলই হবে"।
পাল্টা জবাবে শুভেন্দুর সফরসঙ্গী এক বিজেপি নেতা বলেন, "আমরা কখন কোন শহিদ সেনার বাড়ি যাব, তার কৈফিয়ত তৃণমূল, কংগ্রেস বা সিপিএমকে দিতে হবে না। বরং মুর্শিদাবাদের ঘরছাড়া মানুষদের নিয়ে ভাবা উচিত ওদের"।
এদিকে, ঝন্টু শেখের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি ফোনে পরিবারকে সমবেদনা জানান, যা প্রশংসিত হয়েছিল বিভিন্ন মহলে। সেনা কমান্ডো ঝন্টু আলি শেখের আত্মত্যাগ নিয়ে রাজনীতির এই উত্তাপ আগামী দিনে আরও বিতর্কের জন্ম দেবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।












Click it and Unblock the Notifications