কী আছে 'রাম রাজ্যে' জানেন, মুসলিমদের উদ্দেশে প্রশ্ন! জঙ্গিপুরে শুভেন্দুর মুখে মমতার 'বিভাজনে'র রাজনীতি
মুসলিমরা বিজেপির সভায় আসেন না, কিংবা তাদেরকে ভোট দেন না। এমনটাই নাকি এই রাজ্যের রীতি। এদিন জঙ্গিপুরের সভা থেকে বিরোধী দলনেতা সভায় আসা মুসলিমদের সংখ্যা পরখ করে নিতে চাইলেন। তিনি নিজের ভাষণের মধ্যেই বলেন, অনেক চাচাকে দেখতে পাচ্ছি। কে কে এসেছেন উঠে দাঁড়ান।
তারপর বিরোধী দলনেতা বলেন খুব বেশি না হলেও অনেকেই এসেছেন। তিনি দাবি করেন, পরিস্থিতি বদল হচ্ছে। এনেক সংখ্যালঘুই বিজেপির দিকে ঝুঁকছেন বলে দাবি করেন তিনি।

- মোদীর রাম রাজ্য
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, হিন্দুরা জয় শ্রী রাম বলেন, ধর্মীয় কারণে। কিন্তু তাই বলে তা বলতে মুসলিমদের ওপরে কোনও চাপ দেওয়া হয় না। তিনি বলেন, রামের নাম করতে হবে না, কিন্তু বিজেপি তথা প্রধানমন্ত্রী মোদী রাম রাজ্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বিজেপির সেই প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে পেটে ভাত, হাতে কাজ এবং সুস্বাস্থ্য।
- মমতাকে নিশানা
শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে বলেন, তিনি আগেরদিন ফরাক্কায় এক ঝুড়ি লোক নিয়ে সভা করেছেন। সেখানে ছিলেন তিন হাজার মানুষ আর চার হাজার পুলিশ। বিরোধী দলনেতা মুখ্যমন্ত্রীর রেশন দেওয়ার প্রতিশ্রুতিচচকে কটাক্ষ করেন। তিনি দাবি করেন, সারা দেশে যে ৮২ কোটি লোককে প্রতিমাসে বিনা পয়সায় রেশন দেওয়া হয়, তাঁদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের সাত কোটি মানুষ রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সভায় বলেছেন, জল দিয়েছি বাড়িতে বাড়িতে। এই কথা উল্লেখ করে বিরোধী দলনেতা বলেন, প্রকল্পের নাম জল জীবন মিশন। টাকা দিয়েছে কেন্দ্র। একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর প্রচারে কান্দি মাস্টার প্ল্যানে টাকা দেওয়ার দাবিকেও কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, কান্দি মাস্টার প্ল্যানে ৪২৯ কোটি টাকা দিয়েছে কেন্দ্র।
- মমতার বিরুদ্ধে বিভাজনের রাজনীতির অভিযোগ
বিরোধী দলনেতা এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিভাজনের রাজনীতির অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, হিন্দু এলাকায় গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিএএ-র কথা বলছেন আর মুসলিম এলাকায় গিয়ে বলছেন এনআরসি নিয়ে। তিনি বলেন সারা দেশে একটি রাজ্যে রয়েছে তৃণমূল আর আঠারো রাজ্যে বিজেপি। বিরোধী দলনেতা চ্যালেঞ্জ করে বলেন, তৃণমূল একটা মুসলিম নাম বলুক, তাঁকে কোনও বিজেপি রাজ্য থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারী এদিন তৃণমূল প্রার্থী খলিলুর রহমানের নাম উল্লেখ করে বলেন, তিনি তো বিজেপি শাসিত রাজ্যে ব্যবসা করেন, তাঁর ওপরে কোনও আঘাত নেমে এসেছে কি?
তিনি অভিযোগ করেন এই বিভাজনের রাজনীতির কারণে ২০২১-এ হাজার দুয়ারি এক্সপ্রেস এবং নিমতিতায় দোকান পুড়িয়েছিল তৃণমূলের গুণ্ডারা। রেজিনগর ও বেলডাঙায় রেলস্টেশন পোড়ানো হয়েছিল। রেললাইন উপড়ে ফেলা হয়েছিল।












Click it and Unblock the Notifications