প্রধান বিচারপতির ডাকা এসআইআর বৈঠকে কেন মনোজ পন্থ? উত্তরের অপেক্ষায় শুভেন্দু, গ্রেফতারি দাবি সুকান্তর
কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডাকা একটি বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত চুক্তিভিত্তিক কর্মী ও প্রাক্তন মুখ্য সচিব মনোজ পন্থ কীভাবে উপস্থিত থাকতে পারেন? আজ এই প্রশ্ন তুললেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
ইতিমধ্যেই পন্থকে গ্রেফতারির দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ড. সুকান্ত মজুমদার। এই বিষয়টি মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে জানাতে বলা হয়েছে।

শুভেন্দু বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে কোনও অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিক নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকতে পারেন না। ফলে মনোজ পন্থের এই বিষয়ে কোনও আইনগত অধিকার নেই। এই বিষয়ে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের মাধ্যমে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার কী ব্যবস্থা নেন, তার জন্য আমরা অপেক্ষা করছি।
আজ রাজ্যের নির্বাচন কমিশনের দফতরে যাওয়া প্রসঙ্গে শুভেন্দু জানান যে, এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক ও সিনিয়র আইএএস আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের কাছে বিভিন্ন দাবি ও প্রশ্ন তুলে ধরা। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন সংক্রান্ত একাধিক নির্দেশিকা দিয়েছে এবং আজও সেই বিষয়ে সংশোধন চলছে। তিনি আরও জানান যে, নদিয়া জেলা থেকে একটি অডিও ক্লিপ মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে, যেখানে দেখা গিয়েছে যে, নথি জমা দেওয়ার শেষ দিনে নদিয়া জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রভাব খাটিয়েছেন।
ভারতীয় জনতা পার্টি ইতিমধ্যেই সেই অডিওটি প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যমে প্রচার করেছে। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, যদি নির্বাচন কমিশন এই অডিও ক্লিপকে প্রমাণযোগ্য বলে মনে করে, তবে তা কেন্দ্রীয় ফরেনসিক পরীক্ষাগারে পাঠানো উচিত এবং সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত জেলাশাসক ও জেলাশাসকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তিনি আরও দাবি করেন যে, পূর্ব বর্ধমানের জেলা নির্বাচন আধিকারিক হিসেবে কর্মরত আয়েষা রানি এবং উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসককে আচরণবিধি কার্যকর হওয়ার আগে বা সঙ্গে সঙ্গেই বদলি করা উচিত।
শুভেন্দু অধিকারী উল্লেখ করেন যে ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ২২৫ জন নির্বাচন নিবন্ধন আধিকারিক নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা লঙ্ঘন করেছেন। নির্দেশিকা অনুযায়ী নির্বাচন নিবন্ধন আধিকারিকদের পশ্চিমবঙ্গ সিভিল সার্ভিসের এ গ্রেড অফিসার বা আইএএস পর্যায়ের মহকুমা শাসক হওয়ার কথা, কিন্তু তা মানা হয়নি। তিনি বলেন, মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে এই আধিকারিকদের বদলি করা উচিত।












Click it and Unblock the Notifications