শুভেন্দু ‘বড়’ নেতা হিসেবে তুলে ধরতে সফল বিজেপিতে! পিছিয়ে পড়ছেন দিলীপ-মুকুলরা
শুভেন্দু ‘বড়’ নেতা হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে সফল! পিছিয়ে পড়ছেন দিলীপ-মুকুলরা
বিজেপিতে যোগ দিয়েই রাজনীতির ময়দানে কাঁপাতে নেমে পড়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাক্তন সৈনিক শুভেন্দু অধিকারী। নিজের এলাকা- অবিভক্ত মেদিনীপুরে পরপর সভা করে চলেছেন। প্রতিদিনই হেডলাইনে আসছেন। এর মাধ্যমে তিনি শুধু তৃণমূলকেই 'জবাব' দিচ্ছেন না, বার্তা দিচ্ছেন বিজেপিকেও। বুঝিয়ে দিচ্ছেন তিনিই এখন 'বড়' নেতা!

স্বল্প পরিসরেই জায়গা করে নিচ্ছেন বিজেপিতে
তৃণমূলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরে সবথেকে জনপ্রিয় নেতা হিসেবে তাঁর নামই আসত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া দলে অনুগামী আধিক্য তাঁরই। অনুগামী ছিল মুকুল রায়েরও, তবে আক্ষরিক অর্থেই মুকুল রায় জননেতা নন। আর শুভেন্দু অধিকারী একাধারে দক্ষ সংগঠক, একাধারে জননেতা। দু-দিকই আছে তাঁর। ফলে স্বল্প পরিসরেই তিনি জায়গা করে নিচ্ছেন বিজেপিতে।

পুরনো দল তৃণমূলের বিরুদ্ধে হুঙ্কার শুভেন্দুর
বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীতে প্রথম দিলীপ ঘোষের সঙ্গে সভা করেন শুভেন্দু অধিকারী। তারপর থেকেই নিজের গড়ে একের পর এক ব়্যালি এবং জনসভা করতে শুরু করেন তিনি। সেই জনসভা থেকে হুঙ্কার ছাড়েন তাঁর পুরনো দল তৃণমূলের বিরুদ্ধে, তাঁর পুরনো দলের প্রতিদ্বন্দ্বী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। এমনকী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করতেও তিনি ছাড়েননি।

শুভেন্দু-ঝড়ে বিজেপির তথাকথিত নেতারাও চাপে
তাঁর এই জনসভার জোয়ারে বিজেপির তথাকথিত নেতারাও পড়েছেন চাপে। তাঁর সঙ্গে পাল্লা দিতে পারছেন না কেউ। শুভেন্দু নামক ঝড়ের সামনে থমকে যাচ্ছেন দিলীপ ঘোষ-মুকুল রায়রাও। শুভেন্দু মাত্র ১০ দিনেই বুঝিয়ে দিয়েছেন, দলের অন্যদের থেকে তিনি অনেক এগিয়ে। এই মুহূর্তে বঙ্গ বিজেপির সবথেকে বড় নেতা হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা তাঁরা কাছে চ্যালেঞ্জ।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদর্শ বিকল্প হতে চান শুভেন্দু!
একুশের লড়াইকে তাই চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। শুধু তৃণমূলকে জবাব দেওয়াই নয়, বিজেপির বাকিদেরও হারাতে হবে এই লড়াইয়ে। তাঁকে হয়ে উঠতে হবে ওয়ান অ্যান্ড অনলি শুভেন্দু অধিকারী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদর্শ বিকল্প হয়ে ওঠার লড়াই তাঁর সামনে। সেই লড়াই তিনি শুরু করে দিয়েছেন ইতিমধ্যেই।

বিজেপিকেও বুঝিয়ে দিচ্ছেন তাঁর অবস্থান কী হওয়া উচিত
বিজেপি যোগ্য মুখ খুঁজে পাচ্ছিল না একুশের আগে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিকল্প মুখ কে হবেন? তাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে মুখ করেই বিজেপি বাংলার ভোটে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে কোনও নাম সামনে আনতে পারেনি তারা। শুভেন্দু তাই বিজেপিকেও বুঝিয়ে দিচ্ছেন তিনিই হতে পারে সেই পদের যোগ্য। তিনি অন্য সবার থেকে এগিয়ে।

শুভেন্দু ১০ দিনেই রপ্ত করে নি্য়েছেন গেরুয়া-ধাঁচ
প্রতি সভায় শুভেন্দু লোক টানছেন। ব়্যালিতে উপচে পড়ছে ভিড়। মাত্র ১০ দিনেই তিনি রপ্ত করে নি্য়েছেন হিন্দুত্ব। সনাতন হিন্দুত্ববাদীদের বারতা দিতে শ্রীরামের সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন কৃষ্ণ নাম। আবার নিজেকে হিন্দু ব্রাহ্মণ পরিবারের সন্তান আখ্যা দিয়ে জেহাদিদের বার্তা দিচ্ছেন। আর মুখের ভাষায় এনেছেন অবাঙালি টান। মঞ্চের বক্তব্যে বাংলা বদলে যাচ্ছে হিন্দিতে। ভাইপো হয়ে যাচ্ছে ভাতিজা।












Click it and Unblock the Notifications