বাংলাদেশের ডেপুটি হাই কমিশনের দফতরে বৈঠক সারলেন শুভেন্দু, 'মমতা-পুলিশ'কেও চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশের উপ-হাই কমিশনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। পাঁচ সদস্যের এক প্রতিনিধিদলের অংশ হিসেবে এই বৈঠকে তিনি প্রতিবেশী দেশে সংখ্যালঘুদের উপর কথিত নির্যাতন বন্ধের দাবি জানান।
একই সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের কড়া সমালোচনাও করেন শুভেন্দু। এই সপ্তাহের গোড়ার দিকে উপ-হাইকমিশনের সামনে যাঁরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন, তাঁদের উপর পুলিশি পদক্ষেপের জন্য তিনি রাজ্য সরকারের তীব্র নিন্দা করেন।

বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, উপ-হাইকমিশনের কর্তারা সোমবার থেকে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ এড়িয়ে যাচ্ছিলেন। তবে সেই অফিসের বাইরে বড়সড় প্রতিবাদের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পরই তাঁরা দেখা করতে রাজি হন।
গত বছর অগাস্টে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অপসারণের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের, বিশেষ করে হিন্দুদের উপর একের পর এক ঘটনায় নির্যাতন চালানো হচ্ছে। সম্প্রতি ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাস নামে ২৫ বছর বয়সী এক হিন্দু কর্মীকে ভিড়ের হাতে গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলা হয়। এরপরও এক হিন্দুকে হত্যা করা হয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারী জানান, তিনি বাংলাদেশি কূটনীতিকদের কাছে দীপু দাসের মামলাটি উত্থাপন করেছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। শুভেন্দুর দাবি, দীপু দাসকে পুলিশি হেফাজত থেকে বের করে এনে হামলা চালানো হয় এবং তাঁর কাছে একটি সাধারণ মোবাইল ফোন থাকা সত্ত্বেও মিথ্যাভাবে অভিযোগ করা হয় যে তিনি ওই পোস্টটি লিখেছেন।
শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন যে, তিনি নিহতের পরিবারের জন্য দেওয়া ক্ষতিপূরণ সম্পর্কে তথ্য চেয়েছেন। বিরোধী দলনেতা আরও জানান, তিনি প্রতিবেশী দেশে হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের ধারাবাহিক আটকের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তাঁর দাবি, চিন্ময়কে বিনা যুক্তিতে জেলে রাখা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।
বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গত বছর ডিসেম্বরে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তিনি চট্টগামে একটি মিছিলে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। শুভেন্দু অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের পূর্ববর্তী সরকারগুলো রোহিঙ্গা মুসলিমদের দেশে প্রবেশ করতে দিয়েছে, কিন্তু হিন্দুদের নিশানা করা হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন হিন্দুদের মারধর ও তাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
গত ২৩ ডিসেম্বর কলকাতায় বেকবাগান এলাকায় হাই কমিশনের সামনে বিক্ষোভকারীদের উপর পুলিশি লাঠিচার্জের কথা উল্লেখ করে শুভেন্দু দাবি করেন, পুলিশের এই নির্মম পদক্ষেপে একজন সন্ন্যাসী-সহ ১০ জনের বেশি ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার পুলিশকে তাঁর ব্যক্তিগত বাহিনীতে পরিণত করেছেন। এটা লজ্জার বিষয়।"
রাজ্য সরকারকে "হিন্দু-বিরোধী" বলে আখ্যা দিয়ে শুভেন্দু দাবি করেন, আজ তাঁর সঙ্গে বেশ কয়েকজন সাধু-সহ প্রায় ১,০০০ বিক্ষোভকারী উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, আগামী দিনে এই আন্দোলন আরও তীব্র হবে। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "আগামী মাসে গঙ্গাসাগর মেলার পর পাঁচ লাখ সাধু এখানে আসবেন। তখন দেখা যাবে কলকাতা পুলিশের কত শক্তি!" দিনের শুরুর দিকে একটি হিন্দু সংগঠন বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনে গিয়ে স্মারকলিপি জমা দিয়েছিল।












Click it and Unblock the Notifications