মুকুল রায় কোন দলে রয়েছেন, হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে আবার জানতে চাইলেন শুভেন্দু
তৃণমূলে না বিজেপিতে মুকুল রায়? স্পিকারের রায়ের পর আবারও সেই বিতর্কের সূচনা হল। শুভেন্দু হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন স্পিকারের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে।
মুকুল রায় বিজেপির টিকিটে জেতার পর তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি বিধায়ক পদ ত্যাগ করেননি। বিধানসভায় তিনি বিরোধী শিবিরের দিকেই বসছেন। সেই থেকেই বিতর্ক, কোন দলে রয়েছেন মুকুল রায়? আগেও এই প্রশ্ন উঠেছিল, আবারও সেই একই প্রশ্নে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন শুভেন্দু অধিকারী।

কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন শুভেন্দু
রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে আবার জানতে চাইলেন মুকুল রাযের অবস্থান। কোন দলে রয়েছেন মুকুল রায়? সেই প্রশ্ন তুলে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করার আবেদন করলেন। বিধানসভার অধ্যক্ষের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন শুভেন্দু অধিকারী।

স্পিকারের রায় বেরনোর ৯ মাস পর মামলা
এর আগে শুভেন্দু অধিকারীর করা দলত্যাগ বিরোধী আইন প্রয়োগের মামলায় মুকুল রায় বিজেপিতেই রয়েছেন বলে জানান স্পিকার বিমান বন্যোি পাধ্যায়। তারপর স্পিকারের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে প্রায় ফের হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন স্পিকারের রায় বেরনোর ৯ মাস পর।

নতুন করে মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে মামলা
বিধানসভার অধ্যক্ষের নির্দেশ ছিল, মুকুল রায় বিজেপিতে আছেন। এরপর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে নতুন করে মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে মামলা করলেন বিরোধী দলনেতা। এখন এই মামলার শুনানিতে কী রায় দেন বিচারপতি, সেটাই দেখার। তবে কেন ৯ মাস পর ফের এই বিতর্কের অবতারণা, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন পড়েছে।

তৃণমূলে যোগ দিয়ে বিজেপি বিধায়কের পরিচয়!
মুকুল রায় বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগদানের পরই পিএসি চেয়ারম্যান হয়েছিলেন। তারপর থেকেই মুকুল রায় নিজেকে ফের বিজেপি বিধায়ক পরিচয় দিতে শুরু করেন। মুকুল রায়কে দলতযাগ না কিরয়ে পিএসটি চেয়ারম্যান করা তৃণমূলের রাজনৈতিক কৌশল বলে মনে করেন রাজনীতিবিদরা। মুকুল রায় বিজেপি বিধায়কের মতো আচরণ করছিলেন। তৃণমূল বিরোধী মন্তব্যও করেন তিনি।

বারবার ভোলবদল, নানা মন্তব্যে জল্পনা বৃদ্ধি
কিন্তু পিএসি চেয়ারম্যান পদ ছাড়তেই ফের ভোলবদলে ফেলেন তিনি। বিধানসভায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে ভোট দিতে আসতেই তাঁকে নিয়ে জল্পনার জটাজাল তৈরি হয়। আসলে মুকুল রায় বর্তমান দল কোনটি, তিনি কোন দলের প্রতিনিধিত্ব করছেন, তা বারেবারে নানা জবাবে অলঙ্কৃত করেছেন নিজেই। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিনেও তার অন্যথা হয়নি।

দলত্যাগ বিরোধী আইন প্রয়োগের জন্য মামলা
তৃণমূল পার্টির জন্মলগ্ন থেকেই মুকুল রায় সেকেন্ড ইন কম্যান্ড ছিলেন। সেই মুকুল রায় ২০ বছরের সম্পর্ক চুকিয়ে বিজেপিতে চলে গিয়েছিলেন ২০১৭ সালের নভেম্বরে। সাড়ে তিন বছর পর একুশের নির্বাচনে শেষেই তাঁর ঘরে ফেরা। বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক চুকিয়ে তাঁর তৃণমূলে ঘর ওয়াপসি হতেই তাঁর বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইন প্রয়োগের জন্য মামলা করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

মুকুলের বিধায়ক পদ খারিজের দাবি শুভেন্দুর
মুকুল রায়ের বিধাযক পদ খারিজের দাবিতে শুভেন্দু অধিকারীর করা মামলা পেন্ডুলামের মতো বিধানসভা থেকে হাইকোর্ট, হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছে। শেষে তা ফিরে আসে ফের বিধানসভায়। তার মধ্যে তাঁকে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান করে দেওয়া হয়। ফলে আরও বিতর্ক বাধে।

মুকুল রায় বিজেপিতেই আছেন, জানান স্পিকার
মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইন কার্যকর করতে উঠে পড়ে লাগেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকেও তাঁকে অপসারণ করার দাবিও তোলেন তিনি। শেষমেশ বিধানসভায় মামলা ফিরতে জানিয়ে দেওয়া হয় মুকুল রায় বিজেপিতেই আছেন।

শুভেন্দুর অভিযোগ খারিজ করেছিলেন অধ্যক্ষ
কিন্তু বিধানসভার অধ্যক্ষ মুকুল রায় বিজেপিতেই আছেন বলে রায়ে শুভেন্দু অধিকারীর করা অভিযোগ খারিজ হয়ে যাওয়ার পর আচমকাই পিএসি চেয়ারম্যান পদ ছেড়ে দেন তিনি। তাঁর জায়গায় পিএসি চেয়ারম্যান করা হয় আর এক দলত্যাগী বিধায়ক কৃষ্ণকুমার কল্যাণীকে। পিএসি চেয়ারম্যান পদ ছেড়ে দেওয়ার পর প্রথম মুকুল রায় প্রকাশ্যে আসেন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে।

বিজেপিতে নয়, তৃণমূলেই আছি, বলেছিলেন মুকুল
বিধানসভায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বেমালুম বলেন, আমি বিজেপি নই। আমরা দল তৃণমূল। তৃণমূলই জিতবে। তাঁর এই কথার পর জল্পনা শুরু হয়ে যায় ফের। যিনি মাত্র কয়েকদিন আগেই বলেছিলেন তিনি বিজেপিতেই আছেন, কোনওদিনও তৃণমূলে যোগদান করেননি। তিনিই আবার বললেন, আমি বিজেপিতে নয়, তৃণমূলেই আছি।

বাকি দলত্যাগী বিধায়কদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নয়
এখন মুকুল রায়ের কোন দলে রয়েছেন তা জানতে আবার নতুন করে মামলা রুজু করলেন শুভেন্দু অধিকারী। আবারও মুকুল মামলার সূচনা হল হাইকোর্টে। তবে মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে মামলা করলেও বাকি আরও যে ৫ বিধায়ক বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা রুজু হয়নি।












Click it and Unblock the Notifications