Suvendu Adhikari: অভিষেকের 'শুভেচ্ছা'-র পাল্টা কী বললেন শুভেন্দু? সিদ্দিকুল্লাহ-র ছক নিয়ে সতর্ক করলেন রাজ্যকে
Suvendu Adhikari: শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে এফআইআর দায়ের করেছেন। বিজেপি নেতারাও কলকাতা ও জেলায় এফআইআর দায়ের করেছেন তৃণমূল বিজেপি নেতাদের বাড়ি ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করার জন্য।
তা নিয়েই সরগরম রাজ্য-রাজনীতি। শুভেন্দু এই বিষয়টি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলেও জানিয়েছেন। যদিও গোটা বিষয়টিকে আমল দিতে নারাজ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে জানা যাচ্ছে, অভিষেকের নির্দেশে ইতিমধ্যেই বিজেপি নেতাদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। আগামী সপ্তাহে সেই তালিকা প্রকাশের কথা রয়েছে। অভিষেক চেয়েছিলেন বুথস্তরে শান্তিপূর্ণভাবে বিজেপি নেতাদের ঘেরাও। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করতে বলেছেন ব্লকস্তরে। যদিও এই ঘোষণা মৌলিক অধিকার খর্ব করবে বলে আইনানুগ পদক্ষেপ চাইছেন শুভেন্দু।
শুভেন্দু আরও বলেছেন, তিনি বিজেপি নেতা-কর্মীদের পাশে রয়েছেন। কাউকে যাতে কোনও ক্ষতি বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে পড়তে না হয় তার কৌশল জানানোর কথাও বলেছেন। এরই মধ্যে হেয়ার স্ট্রিট থানায় শুভেন্দু গতকাল ই-মেল করে মমতা ও অভিষেকের নামে এফআইআর দায়ের করেছেন। আজ অভিষেককে তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, শুভেচ্ছা রইল।
শুভেন্দু আজ দিল্লি বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে বলেন, আমার নামে আইনজীবীকে দিয়ে ১৫৪ ধারায় এফআইআর করানো হলে আমিও একই ধারায় এফআইআর দায়ের করে পদক্ষেপ চেয়েছি। এক যাত্রায় পৃথক ফল হয় না। উনি (অভিষেক) এখানে আগুন লাগিয়ে ২৬ তারিখ বিদেশ যাওয়ার প্লেনের টিকিট কেটেছেন। ইডির অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছেন।

রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বলেন, উনি ইডির অনুমতি নিয়ে বিদেশ যেতে চাইছেন। আর নীচের তলার কর্মীদের লাগিয়ে দিচ্ছেন সিভিল ওয়ারে। বুঝিয়ে দিচ্ছেন তোমরা মারামারি করে মরো, আমি বিদেশে থাকি! বিজেপির ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিমের রাজ্যে আসাকে তৃণমূলের কটাক্ষ প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, এটা ওদের অভ্যাস।
মণিপুর নিয়ে লোকসভায় প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করেছে তৃণমূল। শুভেন্দু বলেন, প্রধানমন্ত্রী কী করবেন তা আমার বলার কথা নয়। তবে তিনি উদ্বিগ্ন ও সচেতন। সংসদ শুরুর দিনই নিজের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। তৃণমূলের কাছে মণিপুর নিন্দনীয়, বাংলার ঘটনা প্রশংসনীয়। বিজেপির কাছে মণিপুর, মালদহ-সহ বাংলার ঘটনা নিন্দনীয়, ঘৃণ্য।
শুভেন্দু রাজ্যের নাগরিক, মুখ্য সচিব, পুলিশ-সহ প্রশাসনের সকলকে সতর্ক করে বলেছেন, ইউনিফর্ম সিভিল কোড নিয়ে মানুষকে ভুল বোঝাতে শুক্রবার জুম্মার দিন মানুষকে বিভ্রান্ত করতে লিফলেট ছড়াচ্ছে সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ। এরাই ২০১৯ সালে সিএএ নিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করে আগুন লাগিয়েছিল।
শুভেন্দুর দাবি, তৃণমূলের থেকে সংখ্যালঘু ভোটারদের একাংশ মুখ ফেরানোতেই ইউসিসি নিয়ে ফের বিভ্রান্ত করে অশান্তি পাকানোর চেষ্টা হচ্ছে। প্রশাসনকে বলব এ ধরনের কাজে যেন অনুমতি না দেওয়া হয়। এর আগে মাদ্রাসার অপ্রাপ্তবয়স্কদের রাস্তায় নামিয়ে নৈরাজ্য চালানো হয়েছিল। পরে প্রমাণ হয় সিএএ আর এনআরসি আলাদা।
এখনও অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি খসড়া প্রকাশ হয়নি। সরকারি স্তরে আলোচনা শুরু হয়নি। তাতেও জমিয়তেকে দিয়ে নৈরাজ্য তৈরির চেষ্টা চলছে। সংখ্যালঘু-সহ সকলকে আবেদন জানাব, কেউ বিভ্রান্ত হবেন না। সিদ্দিকুল্লাহ জমিয়েতেকে ব্যবহার করতে চাইছেন মানুষকে বিভ্রান্ত করতে। রাজ্যে যেন ফের কোনও অশান্তির পরিবেশ তৈরি না হয়, সম্প্রীতি নষ্ট না হয়।












Click it and Unblock the Notifications