Suvendu Adhikari: "কোনও সনাতনী মমতাকে ভোট দেবে না," হলদিয়ার সভা থেকে 'ধর্ম রক্ষার' লড়াইয়ের ডাক শুভেন্দুর
Suvendu Adhikari: তমলুকের পর এবার হলদিয়া। রবিবার হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে ফের মিছিল করলেন শুভেন্দু অধিকারী। দোলে বিভিন্ন জায়গায় হিন্দুদের উপর আক্রমণের অভিযোগে ফের পথে বিরোধী দলনেতা। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা ব্যানার্জির সরকারকে উৎখাতের ডাক শুভেন্দুর। হিন্দু নিপীড়ন থেকে অভয়াকাণ্ড, সুর চড়ালেন নানা ইস্যুতে। হিন্দুদের এক হওয়ারও আহ্বান জানালেন বিরোধী দলনেতা।
কেন্দ্রে মোদী সরকার তৃতীয়বার ক্ষমতায় এসেছে। দিল্লির বিধানসভা ভোটে সম্প্রতি ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে গিয়েছে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আপ। এবার ছাব্বিশে তৃণমূলের বিদায়ের পালা বলে এদিন হলদিয়ার সভা থেকে মন্তব্য শুভেন্দুর। তিনি বলেন, ঝাঁটা গেছে, একেও ঝেঁটিয়ে বিদায় দিতে হবে। ভুয়ো ভোটার প্রসঙ্গেও মন্তব্য করলেন শুভেন্দু। ২০ বছর আগে মরে গেছে, সেও ভোট দিয়েছে বলে দাবি বিরোধী দলনেতার।

এদিন হিন্দুত্বে শান দিয়ে মমতাকে অলআউট আক্রমণ শুভেন্দুর। তিনি বলেন, "কোনও সনাতনী মমতাকে ভোট দেবে না। বাংলাদেশ দেখার পর, সরস্বতী পুজোয় সংঘাত দেখার পর কেউ মমতাকে ভোট দেবেন না। তমলুকে দোলের দিন প্ররোচনা ছিল, বেছে বেছে হিন্দুদের দোকান ভাঙবে। হিন্দুদের মারল, তারা এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অথচ পুলিশের গাড়ি ছিল, ওরা আসার সঙ্গে পুলিশ গাড়ি ঘুরিয়ে চলে গেল। করের টাকায় এরা বেতন পায়। আমাদের এই জেলাতে কেন এরকম হবে?"
২ মে ২০২১ ভোটে জেতার সার্টিফিকেট নিতে গিয়ে জেহাদিদের হাতে হামলার শিকার হন বলে মন্তব্য করেন শুভেন্দু। তিনি জানান, "যেভাবে গাড়িতে পাথর ছুড়েছে, কাচ আস্ত রাখেনি। এরা যা খুশি করবে, তা আমাদের মেনে নিতে হবে?" নন্দীগ্রামের বিধায়ক আরও বলেন, "অভয়াকাণ্ডে মমতার নির্দেশে বোন অভয়াকে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, সেই সোমনাথকে পানিহাটি পৌরসভার চেয়ারম্যান করে মমতা প্রাইজ পোস্টিং দিয়েছে। তার প্রতিবাদেও আজকের এই মিছিল।"
বিরোধী দলনেতাকে সাসপেন্ড করিয়ে বিধানসভায় মমতা ২টি অবৈধ বিল পাস করিয়েছেন বলে তোপ দাগলেন শুভেন্দু। কর্মসংস্থান নিয়েও ব্যাপক আক্রমণ শানান শাসকদলকে। বলেন, "মমতা বন্দোপাধ্যায় ২ কোটি ১৫ লক্ষ বেকার তৈরি করেছেন। ওবিসি তালিকা বাতিল করে আবার সমীক্ষা করার কথা বলেছে। ২০ হাত অন্তর অন্তর বারের লাইসেন্স দিয়ে মদময় করে দিয়েছে রাজ্যকে। মদের প্রভাব যদি কারও উপর সবচেয়ে বেশি পড়ে, তাহলে মাতৃশক্তির উপরে।"
শুভেন্দু বলেন, "রাত্রিকালীন মহিলাদের কাজের কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। নার্স, আশাকর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি, শিক্ষক, মহিলা কনস্টেবল থেকে মহিলা পুলিশের কাজ তো দিতে পারবেন না। রাতে বারের কাজের জন্য ডেকে নিয়ে যাবে।" এদিন হলদিয়ার সভা থেকে ফের মমতার নেতৃত্বাধীন সরকারকে তোষণের রাজনীতি ও মুসলিম লীগ ২-এর সরকার বলে কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। বলেন, "আমার বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছে। ভয় করি না মেদিনীপুরের ছেলে।"
অযোধ্যার রামমন্দিরের উদ্বোধনের দিন পার্কসার্কাসে মমতা মিছিল করেন কেন, সেই প্রশ্নও তোলেন শুভেন্দু। তাঁর আরও বক্তব্য, "অযোধ্যায় ৩ কোটি হিন্দু গেছিল পশ্চিমবঙ্গ থেকে। ৬৬ কোটি হিন্দু মহাকুম্ভে স্নান করেছেন, আর আপনি মৃত্যুকুম্ভ বলেছেন?" মহাকুম্ভের কুম্ভস্থানে হিন্দুস্তান এক হয়েছে, আর তাই হিন্দু বিরোধী তৃণমূল ভয় পেয়েছে বলে খোঁচা শুভেন্দুর।
হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে বার্তা শুভেন্দুর। বঙ্গ বিজেপির মুখেও 'এক রেহঙ্গে তো সেফ রেহঙ্গে' স্লোগান শোনা গেল এদিন। শুভেন্দু বলেন, "হিন্দু যদিও বাঁচতে চাও। বিভেদ ভুলে এক হও। ১৯৫১ তে শুমারিতে ৮৫ শতাংশ হিন্দু, আর এখন ৬৭ শতাংশ, থাকবেন তো? বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা ৭ শতাংশ। ৫ অগাস্টের পর ৬০০ মন্দির ভেঙেছে। হিন্দু বাড়ির মেয়েদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে হিন্দুদের মুছে দিতে চায় রাজাকারের নাতিরা। ছাব্বিশে তৃণমূল আবার রিগিং করে, মুসলিমদের এক করে, যদি জিততে পারে তাহলে পশ্চিমবঙ্গের অবস্থাও একই হবে।"
বিরোধী দলনেতা আরও বলেন, "দুর্গাপুজোয় ফালাকাটায় মণ্ডপে ঢুকে বলছে, মাইক বাজবে না। বাদ্যযন্ত্র বন্ধ থাকবে। বলছে আমাদের এলাকা। বাংলাদেশ নয়, আমাদের রাজ্যের ফালাকাটা। গার্ডেনরিচে বলছে পুজো করা যাবে না, বুকে দাঁড়িয়ে আরতি করেছি। ধর্মরক্ষার লড়াই, আমাদের জিততে হবে। আমরা কেন পারব না। উত্তরপ্রদেশ পারে, অসম পারে, ওড়িশা পারে।"
শুভেন্দু আরও বলেন, "রোহিঙ্গাদের চুলের মুঠি ধরো, কাঁটাতারের ওপাড়ে ধরে ফেলো। সীমান্তে কাঁটাতার দিতে দেয়নি মমতা। বিজেপি এলে ১ মাসের মধ্যে জমি দিয়ে বেড়া দিয়ে দেখাবে। হিমন্ত বিশ্বশর্মার দেখানো পথে চলবে। হলদিয়াকে শুকিয়ে দিয়েছে। ঔরঙ্গজেবের চামড়া, তুলে দেব আমরা। রামনবমীতে ডিজে বন্ধ, ২ হাজারের বেশি লোক নয়, সব ক্ষেত্রে হবে তো? আমরাও দেখব। যোগেশচন্দ্রে তৃণমূলের সাবির আলি বলেছিল সরস্বতী পুজো হবে না, ছাত্রী আদালতে গিয়ে আদায় করে নিয়েছে, পুজো হয়েছে।"
প্রসঙ্গত, রাজ্যজুড়ে সনাতনীদের ওপর আক্রমণের অভিযোগে রবিবার এই মিছিলের ডাক দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার তমলুকে একই ইস্যুতে মিছিল করেছিলেন বিরোধী দলনেতা। পুলিশ হলদিয়ায় মিছিলের অনুমতি দিচ্ছে না, এই অভিযোগ তুলে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় বিজেপি। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ ক্ষুদিরাম স্কোয়ার থেকে নিউ মার্কেট পর্যন্ত পদযাত্রার অনুমতি দেন। সেইমতো পদযাত্রার শেষ করে ছোট সভাও।












Click it and Unblock the Notifications