ডব্লুবিসিএস পরীক্ষাতে ঘুঘুর বাসা, রাষ্ট্রপতি ও রাজ্যপালের হস্তক্ষেপ চায় সিপিএম
কলকাতা, ১৮ জানুয়ারি: টেট পরীক্ষায় আগেই অভিযোগ উঠেছিল। এ বার কুলীন ডব্লুবিসিএস পরীক্ষাতেও দুর্নীতির অভিযোগ উঠল। ইন্টারভিউয়ের আগেই প্রার্থীদের নামধাম, রাজনীতিক পরিচয় ইত্যাদি জেনে নিচ্ছেন পাবলিক সার্ভিস কমিশনের দুই সদস্য। তার ভিত্তিতে চাকরি দেওয়া হচ্ছে। এই মর্মে আঙুল তুলেছেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা তথা সিপিএম বিধায়ক সূর্যকান্ত মিশ্র।
সূর্যকান্ত মিশ্রকে উদ্ধৃত করে 'গণশক্তি' পত্রিকা তাদের একটি প্রতিবেদনে দাবি করেছে, পাবলিক সার্ভিস কমিশনে দুর্নীতি বাসা বেঁধেছে। ডব্লুবিসিএস পরীক্ষার ইন্টারভিউ বা পার্সোনালিটি টেস্ট হওয়ার আগে তাতে ডাক পাওয়া প্রার্থীদের একটি তালিকা তৈরি করেন দেবপ্রিয় মল্লিক ও দীপঙ্কর দাশগুপ্ত। প্রথমজন হলেন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের দাদা। দ্বিতীয়জন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী। এঁরা ইন্টারভিউতে ডাক পাওয়া প্রার্থীদের নাম, রাজনীতিক মতাদর্শ ইত্যাদি জেনে নিচ্ছেন 'সোর্স' মারফত। সূর্যবাবুর দাবি, মেধা নয়, ডব্লুবিসিএস পরীক্ষায় পাশ করার ক্ষেত্রে এখন বড় হয়ে উঠেছে দলীয় আনুগত্য। তৃণমূল কংগ্রেসের অনুগত হলে তবেই চাকরি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।

সূর্যবাবুর আরও দাবি, এ নিয়ে নির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ তাঁর কাছে রয়েছে। আগে থেকে পরিচয় জেনে গেলে অন্যান্য লেনদেনও হতে পারে। এমন দুর্নীতি অন্য রাজ্য বা ইউপিএসসি-তে কখনও হয় না। অথচ এ রাজ্যে হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। প্রসঙ্গত, বিষয়টি শুধু সংবাদমাধ্যমকে বলাই নয়, রাজভবনে গিয়ে গতকাল রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠীকে নালিশ জানিয়ে এসেছেন তিনি। অনুরোধ করেছেন, অবিলম্বে যেন এ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করা হয় এবং অভিযুক্ত দুই সদস্যকে অপসারণ করা হয়। পাশাপাশি, রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়কেও তিনি লিখিতভাবে অভিযোগ জানিয়েছেন।
ডব্লুবিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতরে আমলা নিয়োগ করা হয়। যদি দলীয় আনুগত্য সেই নিয়োগের একমাত্র ভিত্তি হয়, তা হলে ভবিষ্যতে রাজ্য প্রশাসন পঙ্গু হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা সূর্যবাবুর।












Click it and Unblock the Notifications