Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

আপাতত বন্ধ পুলিশি তদন্ত, ইডির বিরুদ্ধে করা এফআইআরেও স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের

আইপ্যাক দফতরে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর তল্লাশি ঘিরে রাজ্য সরকার বনাম কেন্দ্রীয় সংস্থার আইনি সংঘাত সুপ্রিম কোর্টে গড়িয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানিতে উভয় পক্ষের সওয়াল শুনে শীর্ষ আদালত এদিন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেছে এবং ইডির বিরুদ্ধে রাজ্য পুলিশের দায়ের করা এফআইআরের উপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করেছে। পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত পুলিশি তদন্তের উপরও স্থগিতাদেশ বজায় থাকবে।

কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডি এদিন সুপ্রিম কোর্টে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উপস্থাপন করেছে। ইডির সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, তল্লাশি অভিযান চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশ বাহিনী নিয়ে সেখানে প্রবেশ করেন এবং তথ্যপ্রমাণ সরিয়ে ফেলেন। ইডি এটিকে "চুরির সমতুল্য" বলে উল্লেখ করেছে। হাজার হাজার কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতির আন্তঃরাজ্য মামলার তদন্তে পিএমএলএ আইন মেনেই এই অভিযান পরিচালনা করছিল ইডি।

কেন্দ্রীয় সংস্থা আরও দাবি করেছে, পুলিশ ও রাজ্য প্রশাসন একযোগে কেন্দ্রীয় আধিকারিকদের মনোবলে আঘাত হানতে এবং আইনি তদন্তে বাধা দিতে কাজ করেছে। তাদের যুক্তি, হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ থেকেই পরিষ্কার, হাইকোর্টের ঘটনা স্বতঃস্ফূর্ত ছিল না, বরং পূর্ব-পরিকল্পিত। ইডি জোর দিয়ে বলেছে, চুরি এবং ষড়যন্ত্রের মতো গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।

অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু এই মামলাকে "ব্যতিক্রমী" হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নিজেই অভিযুক্ত। তাঁর মতে, চুরির ঘটনা ঘটেছে পুলিশ কমিশনার ও রাজ্য পুলিশের ডিজিপির উপস্থিতিতে, যা পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের জড়িত থাকার ইঙ্গিত দেয়। রাজু সওয়াল করেন, রাজ্যের পুলিশ এই ঘটনার এফআইআর নথিভুক্ত করলেও সঠিক তদন্তের সম্ভাবনা নেই। তাই নিরপেক্ষ তদন্ত অসম্ভব হওয়ায় সিবিআই তদন্তের দাবি জোরালো হয়েছে।

সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতের কাছে ইডি আধিকারিকদের রক্ষাকবচ চেয়েছেন। তিনি জানান, ইডি অফিসারদের বিরুদ্ধে একাধিক এফআইআর দায়ের করা হয়েছে, যা তাঁদের উপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য। মেহতা উল্লেখ করেন, আইন অনুযায়ী, কোনও সরকারি কর্মচারী যদি সৎ উদ্দেশ্যে নিজের দায়িত্ব পালন করেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চালানো যায় না। ইডির তল্লাশি অভিযান সম্পূর্ণ সৎ উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলেই তিনি দাবি করেন।

রাজ্য সরকার এবং রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে আইনজীবী কপিল সিব্বল ও মনু সিঙ্ঘভি ইডির অভিযানের উদ্দেশ্য নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলেন। সিব্বলের সওয়াল, "কয়লা পাচার মামলায় শেষ বয়ান নেওয়া হয়েছিল ২০২৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি। তার পর এতদিন ইডি কী করছিল? হঠাৎ করে নির্বাচনের ঠিক আগে এত তৎপরতা কেন?" ইডির এই হানা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে তাঁরা দাবি করেন।

সিব্বল আরও বলেন, আইপ্যাক দফতরে একটি রাজনৈতিক দলের বিপুল পরিমাণ সংবেদনশীল ও নির্বাচনী তথ্য থাকে। ইডি সেখানে অভিযান চালানোর সময় এটি জানত। তৃণমূল চেয়ারপার্সন হিসেবে দলের গোপনীয় রাজনৈতিক তথ্য রক্ষা করা মুখ্যমন্ত্রীর অধিকার এবং কর্তব্য। ইডি একটি রাজনৈতিক দলের অফিসের সেই অংশে কেন প্রবেশ করল, যেখানে দলের সব তথ্য সংরক্ষিত থাকে, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।

অভিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী সব ডিজিটাল ডিভাইস নিয়ে গিয়েছেন – এই অভিযোগ সিব্বল সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন। তিনি ইডির নিজের তৈরি রিপোর্ট থেকেই প্রমাণ দেখিয়ে বলেন, "দুপুর ১২টা ০৫ মিনিট পর্যন্ত কোনও কিছুই বাজেয়াপ্ত করা হয়নি।" মুখ্যমন্ত্রী শুধু একটি ল্যাপটপ এবং একটি আইফোন নিয়েছিলেন, এর বাইরে আর কিছু নেওয়া হয়নি বলেও সিব্বল জানান।

আইনজীবী মনু সিঙ্ঘভি দাবি করেন, ইডির রিপোর্টেই বলা হয়েছে তল্লাশি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল ছিল। এতে বাধা দেওয়া, চুরি বা জোর করে প্রবেশ করার অভিযোগ পরস্পরবিরোধী। তিনি আরও বলেন, কিছু "অচেনা লোক" ওই জায়গায় ঢুকেছে, এমন খবর পেয়েই ডিজিপি সেখানে গিয়েছিলেন। জেড প্লাস নিরাপত্তা প্রাপ্ত মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষেত্রে এই ধরনের তথ্য পেলে ডিজিপির যাওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়।

সিঙ্ঘভি প্রশ্ন তোলেন, ইডি তল্লাশি শুরু করেছিল ভোর ৬:৪৫ মিনিটে, অথচ ইমেল পাঠানো হয়েছিল অনেক পরে, সকাল ১১:৩০ মিনিটে। তাঁর মতে, ইডি অফিসারেরা দেরিতে নিজেদের পরিচয় দেন এবং এই দেরিতে ইমেল পাঠানোটা ছিল পরে নিজেদের বাঁচানোর চেষ্টা। সিঙ্ঘভির মতে, ইডি সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে কেবল ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতেই আসতে পারে।

বিচারপতি মিশ্রর নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ এই মামলার গুরুত্ব স্বীকার করে একাধিক গুরুতর পর্যবেক্ষণ করেছে। আদালত মনে করছে, দেশে যাতে আইনের শাসন বজায় থাকে এবং কেন্দ্র ও রাজ্যের সংস্থা স্বাধীন ভাবে নিজের কাজ করতে পারে, তার জন্য এই বিষয়টি খতিয়ে দেখা অত্যন্ত জরুরি। কোনও অপরাধী যাতে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার আড়ালে লুকিয়ে রক্ষা না পান, সেটিও দেখা দরকার বলে শীর্ষ আদালত মত প্রকাশ করেছে।

বিচারপতি মিশ্র মন্তব্য করেন, "পিএমএলএ আইনের ৬৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী যদি ইডির আধিকারিকেরা অনুমোদনপত্র নিয়ে তল্লাশি চালিয়ে থাকেন, তা হলে ধরে নেওয়া যায় যে, তাঁরা সৎ উদ্দেশ্যে কাজ করছিলেন।"

উভয় পক্ষের সওয়াল এবং পর্যবেক্ষণের পর সুপ্রিমকোর্ট ইডির বিরুদ্ধে রাজ্য পুলিশের দায়ের করা এফআইআরের উপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করেছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত এই পুলিশি তদন্তের উপরেও স্থগিতাদেশ বজায় থাকবে।

দুই বিচারপতির বেঞ্চ মামলার সব পক্ষকে নোটিস জারি করেছে এবং দু'সপ্তাহের মধ্যে আদালতে হলফনামা জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি, সুপ্রিম কোর্ট ওই ঘটনার সংশ্লিষ্ট এলাকার সব সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণ করার নির্দেশ দেয়, যা ভবিষ্যতের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য করা হয়েছে।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+