জিতেন্দ্র তিওয়ারির গ্রেফতার নিয়ে সর্বোচ্চ আদালতে ধাক্কা! সরকারের হলফনামা তলব করল সুপ্রিম কোর্ট
কম্বলকাণ্ডে আসানসোল আদালত জিতেন্দ্র তিওয়ারিকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয় রবিবার। কিন্তু রাত গড়িয়ে সকাল হতেই একেবারের অন্য চিত্র। সুপ্রিম কোর্ট তাঁর গ্রেফতারিতে স্থগিতাদেশ দিয়েছে। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের হলফনামা তলব করা হয়েছে এই ঘটনায়। স্পষ্টতই কম্বল কাণ্ডে সর্বোচ্চ আদালতে ধাক্কা খেল রাজ্য সরকার আর স্বস্তি পেলেন বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তিওয়ারি।

মামলার শুনানির আগেই গ্রেফতার
জিতেন্দ্র তিওয়ারি সুপ্রিম কোর্টে আগেই আগাম .জামিনের আবেদন করেছিলেন। তবে শনিবার তাঁকে উত্তর প্রদেশের নয়ডা থেকে গ্রেফতার পর রবিবার ভোরে বিমানে কলকাতা হয়ে নিয়ে যাওয়া হয় আসানসোলে। আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের গোয়েন্দা বিভাগ এবং আসানসোল উত্তর থাকা যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে। সোমবার হওয়া শুনানিতে সর্বোচ্চ আদালত তাঁর গ্রেফতারির ওপরে স্থগিতাদেশ দিয়েছে। এর অর্থ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের পুলিশ জিতেন্দ্র তিওয়ারিকে আর হেফাজতে রাখতে পারবে না।

২ বিচারপতির বেঞ্চে শুনানি
সোমবার সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জেকে মাহেশ্বরীর ডিভিশন বেঞ্চে জিতেন্দ্র তিওয়ারির আবেদনের শুনানি হয়। এদিন সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া নির্দেশে বলা হয়েছে, আগামী দুসপ্তাহের জন্য জিতেন্দ্র তিওয়ারির গ্রেফতারির ওপরে অন্তবর্তী স্থগিতাদেশ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও অপর এক কাউন্সিলর গৌরব গুপ্তের গ্রেফতারির ওপরেও স্থগিতাদেশ দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। এই সময়ের পরে পরবর্তী শুনানি করা হবে। আদালতরে তরফে বলা হয়েছে, ওই দিন মামলার সব পক্ষকে হলফনামা জমা দিতে হবে। জিতেন্দ্র তিওয়ারির আইনজীবী সর্বোচ্চ আদালতে অভিযোগ করেছেন, তাঁর মক্কেলকে পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ অপহপণ করেছে। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য সরকারের হলফনামা তলব করেছে।

হাইকোর্টে আবেদন খারিজের পরে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন
হাইকোর্ট থেকে রক্ষাকবচ পাওয়ার পরেও গত ১০ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা জিতেন্দ্র পত্নী চৈতালি তিওয়ারির বিরুদ্ধে পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেন। এরপরেই জিতেন্দ্র তিওয়ারি এবং চৈতালি তিওয়ারি হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করে। সেই আবেদন খারিজ করে দেন বিচারপতি দেবাংশু বসাকের বেঞ্চ। এরপর জিতেন্দ্র তিওয়ারি সুপ্রিম কোর্টে একই আবেদন করেন। তবে সোমবার সেই শুনানির আগে শনিবার তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

কী ছিল আসানসোল কম্বল কাণ্ড
২০২২-এর ১৪ ডিসেম্বর আসানসোলে কম্বল বিতরণের এক অনুষ্ঠানে পদপিষ্ট হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়। অনুষ্ঠান শুরুর সময় হাজির ছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ছাড়াও, স্থানীয় কাউন্সিলর চৈতালি তিওয়ার এবং জিতেন্দ্র তিওয়ারি। তবে তাঁরা সেই জায়গা ছাড়তেই হুডোগুড়ি পড়ে যায়। সেই সময় পদপিষ্ট হন বেশ কয়েকজন। এক মৃতের পরিবারের সদস্য। এব্যাপারে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়েরের পাশাপাশি আদালতেও মামলা করেন।












Click it and Unblock the Notifications