শুভেন্দু অধিকারীর স্বস্তি সুপ্রিমকোর্টে! হাইকোর্টের 'রক্ষাকবচ' বহাল রেখে মমতার সরকারের আবেদন খারিজ
আবারও সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) রায়ে স্বস্তিতে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা নন্দীগ্রামের (nandigram) বিজেপি (bjp) বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এদিন সর্বোচ্চ আদালতের তরফে হাইকোর্টের (High Court) র
আবারও সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) রায়ে স্বস্তিতে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এদিন সর্বোচ্চ আদালতের তরফে বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় এবং বিচারপতি এএস বোপান্না হাইকোর্টের (High Court) রায়কে বহাল রেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) সরকারের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। এর ফলে গত ১৩ ডিসেম্বরের অন্তবর্তী রায়ই বহাল রাখা হল সুপ্রিম কোর্টের তরফে।

হাইকোর্টর রক্ষাকবচ ছিল
রাজ্য পুলিশের তরফে গত সেপ্টেম্বরে দেহরক্ষী শুভব্রত চক্রবর্তী মৃত্যু মামলায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে হাজিরা দেত বলা হয়েছিল ভবানীভবনে। সেই সময় নন্দীগ্রামের বিধায়ক রাজনৈতিক ব্যস্ততা দেখিয়ে অনুপস্থিত ছিলেন। নিজের অবস্থান জানিয়ে তিনি সিআইডিকে মেলও করেছিলেন। সেই সময়েই হাইকোর্টেও মামলা চলছিল। হাইকোর্টের তরফে জানানো হয়েছিল, শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারির মতো কোনও কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে না রাজ্য পুলিশ। এছাড়াও হাইকোর্টের তরফে জানানো হয়েছিল, শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে চলা মামলাগুলিতে গ্রেফতারির মতো সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আদালতকে আগে জানাতে হবে। হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চের রায়ের পরে ডিভিশন বেঞ্চে যায় রাজ্য সরকার। ডিভিশন বেঞ্চের রায়ও শুভেন্দু অধিকারীর পক্ষে যায়।

সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য সরকার
শুভেন্দু অধিকারীকে দেওয়া হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের রক্ষা কবচ নিয়ে মোটেই স্বস্তিতে ছিল না রাজ্য সরকার। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। রাজ্য সরকারের আবেদনকে গুরুত্বই না দিয়েই মামলা ফের হাইকোর্টেই ফেরত পাঠানো হয়। এব্যাপারে শেষ সিদ্ধান্ত হাইকোর্টই নিতে পারবে বলেও নির্দেশে জানিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট।

শুভেন্দু অধিকারীকে সুপ্রিম কোর্টে স্বস্তি দিয়েছিল ১৩ ডিসেম্বরেই
রাজ্য সরকারে আবেদন প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট ১৩ জানুয়ারি জানিয়েছিল, হাইকোর্টের রায়ের ওপরে তারা আপাতত কোনও হস্তক্ষেপ করবে না। চূড়ান্ত শুনানির দিন ধার্য হয়েছিল ৩ জানুয়ারি। এরপর এদিন শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য সরকার তথা রাজ্য পুলিশের আবেদনই খারিজ করে গিয়েছে। যার জেরে ১৩ ডিসেম্বরের দেওয়া রায়ই বহাল থাকছে। অর্থাৎ কোনও মামলায় শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে আগে আদালতকে জানাতে হবে। সর্বোচ্চ আদালতের এই রায়ের ফলে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ফের একবার স্বস্তি পেলেন।

শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে ৫ মামলা
শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে ৫ টি বড় মামলা চালাচ্ছে রাজ্য সরকার। এর মধ্যে অন্যতম হল দেহরক্ষীর অস্বাভাবিক মৃত্যু মামলা। বিরোধী দলনেতার আইনজীবী হাইকোর্টের কাছে আবেদন জানিয়ে বলেছিলেন, তাঁকে যেন দেহরক্ষীর মৃত্যু মামলা, নন্দীগ্রামে মিছিল এবং তমলুকের এসপিকে হুমকির মামলা-সহ ৫ টি মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়, কিংবা সেগুলি সিবিআই-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়। আদালতে বিরোধী দলনেতার যুক্তি ছিল সব মামলাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। হাইকোর্টের তরফে তিন মামলায় স্থগিতাদেশ দেওয়া হলেও, দুটি মামলা চলবে বলে জানানো হয়। সেই সময় বিচারপতি রাজশেখর মান্থা নির্দেশ দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারীকে কোনও মামলায় গ্রেফতার করা যাবে না। এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে গেলে বিচারপতি সুব্রত তালুকদার এবং বিচারপতি কেসাং ভূটিয়ার ডিভিশন বেঞ্চও সেই রায়কেই বহাল রাখে। এরপর রাজ্য সরকার যায় সুপ্রিম কোর্টে। সেখানে রাজ্য সরকারের আবেদনই খারিজ করে দেওয়া হল।
এইসব মামলায় পুলিশ কোনও কড়া পদক্ষেপ করতে পারবে না বলেও জানানো হয়। প্রথমে সিঙ্গল বেঞ্চ এই আদেশ দেওয়ার পরে বিচারপতি সুব্রত তালুকদার এবং বিচারপতি কেসাং জোমা ভুটিয়ার ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করে রাজ্য সরকার। কিন্তু সেখানেই আগের রায়ই বহাল রাখা হয়।












Click it and Unblock the Notifications