রাজ্যে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে এগিয়েছিলেন, এবার বঙ্গ সভাপতির দৌড়েও এগিয়ে তিনিই
নভেম্বরেই দিলীপ ঘোষের মেয়াদ শেষ হচ্ছে রাজ্য সভাপতি হিসেবে৷ কে দিলীপের উত্তরসূরী? এটাই এখন বঙ্গ-রাজনীতিতে লাখটাকার প্রশ্ন৷ নাম ঘুরছে অনেকেগুলোই৷ কিন্তু ইতিহাস বলছে পরীক্ষাতে 'কমন প্রশ্ন' রাখে না বিজেপি৷ শেষমেশ এমন একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয় যিনি হয়ত দৌড়েই ছিলেন না! বা হয়ত তিনিই ছিলেন দৌড়ে সবার আগে, কিন্তু সবার অলক্ষ্যে! বঙ্গ-বিজেপির সভাপতির দৌড়ে কালো ঘোঁড়াটি কে এই আলোচনায় যাওয়ার দেখে নেওয়া যাক কারা রেশে দৌড়চ্ছেন!

অনির্বাণ গাঙ্গুলি!
ডঃ অনির্বাণ গাঙ্গুলি, বিজেপি ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ইদানিংয়ে এই দুটি জিনিস যতবার পাশাপাশি এসেছে বিস্ফোরণই ঘটেছে। ব্যতিক্রম ডঃ অনির্বাণ গাঙ্গুলি। বঙ্গে বিজেপি সমর্থকদের যে মাঝে মাঝে বাম ব্রিগেড থেকে বলা হয়, ' যাদবপুরে চান্স পেয়ে দেখা' তার জবাবও বোধহয় অনির্বাণ-ই৷ ডঃ গাঙ্গুলি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী৷ মার্জিত ব্যবহার, যুক্তি দিয়ে নিজের বক্তব্যকে প্রতিষ্ঠা করা এবং মিডিয়া থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখা। লম্বা রেশের ঘোড়া হওয়ার সমস্ত গুণই ডঃ গাঙ্গুলির মধ্যে রয়েছে৷ পাশাপাশি অমিত শা, বিএল সন্তোষ কিংবা জেপি নাড্ডার বিশ্বস্ত লোক ডঃ অনির্বাণ। এই অনির্বাণবাবুও রয়েছেন বিজেপির সভাপতির দৌড়ে৷ কিন্তু সঙ্গে সমস্যা হল, কেন্দ্রের একাধিক বৌদ্ধিক দায়িত্বে রয়েছেন ডঃ গাঙ্গু্লি৷ আজ শ্রীনগর তো কাল কর্ণাটক দৌড়ে বেড়ান তিনি৷ বঙ্গে শেষ বিধানসভা নির্বাচনে ইস্তেহার তৈরির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের অনেকটা অংশ ছিল অনির্বাণের কাঁধে৷ এইরকম একজন মানুষকে এখুনি বিজেপির রাজ্য সভাপতি করবে কিনা সে নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে অনেকেরই!

দেবশ্রী চৌধুরী!
প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরীকে নিয়েও ভালোই জল্পনা রয়েছে রাজনৈতিক মহলে৷ সংঘ ঘনিষ্ট পুরনো বিজেপিদের একজন দেবশ্রীকে রাজ্য বিজেপির সেনাপতির দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে অনেকেই দাবি করেছেন। সবদিক বিচার করলে দেবশ্রী চৌধুরী যে দৌড়ে থাকছেন সে কথা বলায় যায়। কিন্তু, প্রশ্নটা হল শেষ কয়েকবছর দিল্লির রাজনীতির সঙ্গে যতটা সম্পৃক্ত হয়েছেন দেবশ্রী চৌধুরী ততটাই দূরে সরেছেন রাজ্য থেকে! অন্যদিকে দলে এখন যে আদি-মধ্য-নব্য বিজেপি দ্বন্দ চলছে তার মধ্যে দেবশ্রী চৌধুরীকে দাঁড় করাতে বিজেপি আদৌও চাইবে কিনা সে নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরী!
শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরী, নির্ভয়া দিদি, রাজনৈতিক পরিচিতির বাইরেও বঙ্গে নিজস্ব একটা জনসমর্থন ও প্রভাব রয়েছে শ্রীরূপার। দলে কারও সঙ্গেই সেভাবে খারাপ সম্পর্ক নেই শ্রীরূপা দেবীর৷ পরিষ্কার ইমেজ, সাবলীল বাগ্মীতা সম্পন্ন শ্রীরূপা রাজ্যে মমতার বিরোধী মুখ হিসেবে অনেকেরই পছন্দ। কিন্তু এখানেও প্রশ্ন থেকে যায় শ্রীরূপাও নব্য বিজেপিই। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও নব্য বিজেপি৷ দলের দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদে আদি বিজেপির কেউ থাকবে না! এতটা উদার বোধহয় বিজেপি নয়!

সুকান্ত মজুমদার!
২০২১ এ বিজেপি যদি ক্ষমতায় আসত তাহলে মুখ্যমন্ত্রী কে হতেন? দিলীপ ঘোষ অবশ্যই দৌড়ে ছিলেন কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী পদে সবচেয়ে এগিয়েছিলেন বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিজেপি নেতার কথায়, 'তোমরা সাংবাদিকরা অন্ধকারে একটু আলো দেখতে পেলেও তীর চালিয়েছো৷ কিন্তু আমরা বিজেপিতে একশ শতাংশ সিওর ছিলাম, আমরা (বিজেপি) ক্ষমতায় এলে সুকান্তদাই মুখ্যমন্ত্রী হতেন। রাজ্য সভাপতির ক্ষেত্রেও দিলীপদার পর উনি অটোমেটিক চয়েস৷' সুকান্ত মজুমদার যে দৌড়ে রয়েছেন এ কথা অস্বীকার করছে না কোনও মহলই৷ কারণ বিজেপি নেতার বাংলায় রাজনীতি করতে এসে বুঝেছেন এখানে সাদা ধূতি আর বড় ডিগ্রি এখনও বাজারে কাটে। বালুরঘাটের সাংসদ আদি বিজেপি, সংঘ ঘনিষ্ট, রাজ্যের সাংগঠনিক সেক্রেটারি অমিতাভ চক্রবর্তীর সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রয়েছে তাঁর এবং পাশাপাশি নামের আগেডক্টরেট শব্দটিও রয়েছে সুকান্তবাবুর৷ স্বাভাবিকভাবেই সুকান্তবাবু বিজেপির রাজ্য সভাপতি হওয়ার দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে৷ তাঁর নাম আলোচনায় রয়েছেও।

প্যাটার্ন কি ভাঙবে বিজেপি?
তবে এত কিছুর পরও সবচেয়ে আলোচনার বিষয় হল, বিজেপি তাদের সাধারণত রাজ্যসভাপতি করেনি যাঁরা আলোচনায় এবং চর্চায় থেকেছে৷ এখন দেখার দিলীপের পর সেই ধারাবাহিকতা ভাঙে কিনা!












Click it and Unblock the Notifications