তৃণমূলে যাওয়া নেতাদের বিজেপিতে ফেরার ইচ্ছাপ্রকাশ, সুকান্তের মন্তব্যে জল্পনা রাজ্য-রাজনীতিতে
তৃণমূলে যাওয়া নেতাদের বিজেপিতে ফেরার ইচ্ছাপ্রকাশ, সুকান্তের মন্তব্যে জল্পনা রাজ্য-রাজনীতিতে
একুশের বিধানসভা নির্বাচনের পর একে একে অনেক নেতাই বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে ফিরে গিয়েছেন। তাঁরা কি আবার ভোলবদলাবেন? আবার কি তাঁরা ভিড়বেন বিজেপির দিকে? বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য ফের সেই জল্পনা উসকে দিল। দুদিন আগে যা বলেছিলেন দিলীপ ঘোষ, এদিন সেই কথারই প্রতিধ্বনি শোনা গেল সুকান্ত মজুমদারের কণ্ঠে।

সুদ সমেত আরও পাঁচ-সাতটাকে নিয়ে বিজেপিতে!
দুদিন আগে দিলীপ ঘোষ বলেছিলেন, আমাদের পার্টি ছেড়ে যে কজন বিধায়ক ওইদিকে চলে গিয়েছেন, দেখবেন তাঁরা সব আসবেন। এমনকী সুদ সমেত আরও পাঁচ-সাতটাকে নিয়ে আসবেন। দেখবেন, তাঁরা বলবেন, দাদা আমাকে চেয়ারম্যান করে দিন। পাঁচ পিস নিয়ে এসেছি। কেউ বলবে, আমাকে মন্ত্রী করে দিন, সাত পিস নিয়ে এসেছি।

বিজেপিতে ফিরে আসার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন দলত্যাগীরা!
সুকান্ত এদিন যা বললেন, ঠিক একই কথাই শোনা গিয়েছিল বিজেপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষের দিকে। আর এবার বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের দাবি, তৃণমূল থেকে যাঁরা বিজেপিতে এসেছিলেন আবার বিজেপি ছেড়ে তাঁরা তৃণমূলে ফিরে গিয়েছেন। তাঁরা আবার ফিরে আসার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন। তবে আমরা সেই সমস্ত তৃণমূল নেতাদের আর নেব না। আমরা আগ্রহী কর্মীদের নিতে। তৃণমূল ছেড়ে জেলায় জেলায় অনেক কর্মীই বিজেপিতে আসছেন। তাতে বিজেপি শক্তিশালী হয়ে উঠছে।

বিজেপির দরজা চিরদিনের জন্য বন্ধ দলত্যাগীদের জন্য
সুকান্ত মজুমদার সাফ করে দিয়েছেন, যাঁরা বিজেপিতে ফিরতে চেয়ে ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন, তাঁদের কথা আর ভাবার অবকাশ নেই। তাঁদেরকে ফেরাতে আমাদের কোনও আগ্রহ নেই। আমরা আগেও বলেছি, এখনও বলছি, যাঁরা ফিরে গিয়েছেন তাঁদের জন্য বিজেপির দরজা চিরদিনের জন্য বন্ধ। আমাদের দরজা সমস্ত কর্মীদের জন্য খোলা।

তৃণমূল নেতাদের আমরা নেব না, শুধু কর্মীদের নেব
সুকান্ত মজমুদার বলেন, আমরা এমন কোনও তৃণমূল নেতা খুঁজে পাচ্ছি না যাঁরা সৎ, যাঁরা দুর্নীতিগ্রস্ত নয়। তাই আমরা ঠিক করেছি তৃণমূল নেতাদের আমরা নেব না। আমরা কর্মীদের নেব। এটাই আমাদের দলের সিদ্ধান্ত। আমরা মনে করি তৃণমূল নেতাদের সবাই চোর। চোর নেতাদের কেন নেব, নেব সৎকর্মীদের। যাঁরা আসলে দলের সম্পদ হয়।

বিজেপিতে রক্তক্ষরণ অব্যাহত, তারই মাঝে চাঞ্চল্যকর দাবি
একুশের নির্বাচনের পরে তো আর কম নেতার বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে ঘর ওয়াপসি হয়নি। বহু নেতা বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। বিধায়করা গিয়েছে, সাংসদরা গিয়েছেন, নীচুস্তরের নেতারাও গিয়েছেন। এক একজন নেতার সঙ্গে তাঁর অনুগামীরাও গিয়েছেন। বিজেপি ছেড়ে এখনও অনেকে তৃণমূলে যাচ্ছেন।

বিজেপিত্যাগী নেতাদের ফিরে আসার প্রশ্নে সুকান্ত মজুমদার
সম্প্রতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, শুধু একটা বোতাম টেপার অপেক্ষা। দরজা খুললে বিজেপি ফাঁকা হয়ে যাবে। অন্তত ২০ জন বিধায়ক যোগ দেবেন তৃণমূলে। শুভেন্দু অধিকারী বিরোধী দলনেতা তকমাও থাকবে না। আর এদিন তাঁর পাল্টা সুকান্ত মজুমদার বিজেপিত্যাগী নেতাদের ফিরে আসার তত্ত্ব সাজালেন। দুর্নীতি-প্রশ্নে কাদের দলে নেবেন, তাও জানিয়ে দিলেন তাৎপর্যপূর্ণভাবে।

দিলীপ ও সুকান্তের প্রত্যাবর্তন-ভাষ্যে তারতম্য প্রকট
তবে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে ঘরওয়াপসি নেতাদের দলে ফিরিয়ে আনা নিয়ে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ও বর্তমান রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের ভাষ্যে তারতম্যও প্রকট হল। উভয়ের অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত দলে ফেরানো ইস্যুতে। দিলীপ ঘোষ বলছেন, তৃণমূল থেকে সুদে-আসলে তাঁরা নেতাদের ফেরাবেন। আর সুকান্ত মজুমদার বলছেন, তৃণমূল নেতাদের দরজা বন্ধ, তাঁরা দলে চান তৃণমূলকর্মীদের।












Click it and Unblock the Notifications