বেশি স্বপ্ন দেখাই কি কাল হল বিজেপির! সুকান্তের তাৎপর্যপূর্ণ বার্তায় জোর জল্পনা
সুকান্তের তাৎপর্যপূর্ণ বার্তায় জোর জল্পনা
একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি বাংলায় পরিবর্তনের ডাক দিয়ে ২০০ আসনে জয়ের টার্গেট খাঁড়া করছিল। কিন্তু ২০০-তো দূর অস্ত, সাকুল্যে মিলেছিল মাত্র ৭৭টি আসন। তাও এখন কমতে কমতে নেমে ৭০-এর নীচে। সেই তৃণমূলই ২০০র-র বেশি আসন জিতে ক্ষমতা দখল করে। এই অবস্থায় বিজেপির বর্তমান রাজ্য সভাপতি দিলেন তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা।

বিজেপি ক্ষমতা সম্বন্ধে সুকান্ত মজুমদার
বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, বেশি স্বপ্ন দেখেই ধপাস করে নীচে পড়লাম আমরা। নিজের দল নিয়েই এমন মন্তব্যে জোর জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে। ২০২১-এর নির্বাচনে সর্বশক্তি প্রয়োগ করেও বিজেপি লাভ করতে পারেনি। তাঁদের হারের মুখ দেখতে হয়েছে। সুকান্ত মজুমদারের এই মন্তব্যে কি বিজেপি ক্ষমতার ব্যাপারেই ইঙ্গিত করল।

বিজেপি বেশি চেয়ে ফেলেছিল বাংলায়
সুকান্তের মন্তব্যে স্পষ্ট বিজেপি বেশি চেয়ে ফেলেছিল বাংলায়। ২০০ আসন পাওয়ার মতো ক্ষমতা নেই বিজেপির। তবু অমিত শাহ-জেপি নাড্ডারা বাংলায় ২০০ আসনের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করে ভোট-যুদ্ধে নেমেছিলেন। তার ফল হাতে নাতে পেয়েছেন তাঁরা। বিজেপি ফের একবার ব্যর্থ হয়েছে বাংলার শাসন ক্ষমতা দখল করতে।

বিজেপির শক্তি ততটা বেশি নয়!
বিজেপির এই লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে একুশে নির্বাচনের আগে তৎকালীন সর্বভারতীয় সহ সভাপতি মুকুল রায়ের সঙ্গে বঙ্গ নেতৃত্বের মনোমালিন্য হয়েছিল। মুকল রায় বলেছিলেন, বিজেপির ক্ষমতা সম্বন্ধে অনেক বাড়িয়ে বলা হচ্ছে। বেশিরভাগ বুথেই বিজেপির শক্তি ততটা বেশি নয়, যতটা হলে তৃণমূলকে হারামো সম্ভব হয়।

বিজেপির কেন এমন অবস্থা হল
তারপর মুকুল রায়কে সাইড করে একুশরে নির্বাচনে টিম সাজান অমিত শাহ। গোটা বিষয়টি নিজেই হ্যান্ডেল করেন। অর্থাৎ ব্যাটন রাখেন নিজের হাতে। কিন্তু তারপরও বিজেপি কাঙ্খিত সাফল্য লাভ করতে পারেনি। বিজেপি মুখ থুবড়ে পড়ে একুশের বিধানসভা নির্বাচনে। বিজেপির কেন এমন অবস্থা হল একুশের নির্বাচনে, তা নিয়েই এক প্রশ্নের উত্তরে সুকান্ত মজুমদার তাৎপর্যপূ্ণ মন্তব্য করেন।

বেশি স্বপ্ন দেখে ফেললে যা হয়!
সম্প্রতি মেদিনীপুরে বিজেপির সাংগঠনিক বৈঠকে সুকান্ত মজুমদার আত্মসমালোচনা করলেন। নিজের দলের সমালোচনা তরে বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলেন, আমরা বাংলায় ক্ষমতায় আসার যোগ্য হইনি। আমরা দুশোর স্বপ্ন নিয়ে এগোলাম। সরকার গড়ছি, সরকার গড়ছি এমন একটা হাইপ তুলে ফেললাম। লোককে স্বপ্ন দেখানো কথা বলে নিজেরাই সেই স্বপ্নে মুখ খুবড়ে পড়লাম। বেশি স্বপ্ন দেখে ফেললে যা হয়, সেটাই হল আমরা একেবারে উচ্চ অবস্থান থেকে ধপাস করে নীচে পড়লাম।

দলের অনৈক্যের কথা সুকান্ত-কণ্ঠে
সুকান্ত মজুমদার এদিন দলের অনৈক্যের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দল যদি কোন্দলমুক্ত না হতে পারে, তাহলে আমরা কোনওদিনই এগিয়ে যেতে পারব না। বিজেপির নেতা-কর্মীরা যদি মানসিকতার বদল না করেন পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা আসা স্বপ্নই রয়ে যাবে আমাদের। একজন টিকিট পেলেই অন্য দুজন তার পিছনে লেগে গেল, এই মানসিকতা ভালো নয়।

তৃণমূলের থেকে অনেক শেখার আছে!
বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার আরও বলেন, তৃণমূলের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। তিনি বলেন, তৃণমূলকে দেখুন, গোটা বছর ওরা নিজেদের মধ্যে মারামারি করছে। যখনই ভোট আসছে, তখনই সব চোর এক জায়গায় হয়ে যাচ্ছে। কারণ ওরা জানে ভোটটা যদি না জিততে পারি, আর তোলাটা তুলতে পারব না। আর আমরা সারা সময় ভারত মাতা কি জয় বলে একসঙ্গে থাকছি। ভোট এলেই আমরা মারমারি শুরু করে দিচ্ছি। যা ক্ষতি করছে আমাদের।

রাজ্য সভাপতিকেই যোগ্য মনে করেন না!
এদিন বিজেপির নীচুতলার নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে সুকান্ত মজুমদার বলেন, আপনারা নিজের দলের রাজ্য সভাপতিকেই যোগ্য মনে করেন না। সে আমি হই, বা দিলীপদা, কিংবা অন্য কেউ। আমাদের বুথ সভাপতিও আশা করেন রাজ্য সভাপতিকে ফোন করব। তৃণমূলের একজন ব্লক সভাপতিও ভাবেন তাঁরা মমতা বন্যোেনপাধ্যায়কে ফোন করবেন। আসলে আপনারা কেউ নিজের দলের রাজ্য সভাপতিকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমগোত্রীয় মনে করেন না। তাহলে জনগণ আর কেন মনে করবে। তিনি স্পষ্ট করে দেন, দল থেকে অনৈক্য, আস্থাহীনতা, বাস্তবকে না বোঝার মতো বিষয় সরাতে না পারলে সাফল্য ধরা দেবে না। আমাদের জয়ের স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে বাংলায়।












Click it and Unblock the Notifications