মানুষের মনের কথা শোনার ‘সাহস’ নেই মোদীর! একের পর এক প্রশ্নবাণ সুজনের

মানুষের মনের কথা শোনার ‘সাহস’ নেই মোদীর! একের পর এক প্রশ্নবাণ সুজনের

প্রধানমন্ত্রী তো মন কি বাত করছেন, কিন্তু মানুষের মন কি বাত শুনছেন কি? উনি একতরফা বলছেন কিন্তু শুনছেন কি? প্রশ্ন তুললেন সুজন চক্রবর্তী। তাঁর প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর কি সময় হয়েছে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তাঁদের কথা শোনার। মানুষ কি বলছে, তা বোঝার চেষ্টা করার আগ্রহ তাঁর নেই। মন কি বাত হল একতরফা, আমি বলব, সকলে শুনবে।

দেশের বাস্তব পরিস্থিতি বুঝছেন না প্রধানমন্ত্রী

দেশের বাস্তব পরিস্থিতি বুঝছেন না প্রধানমন্ত্রী

বাম পরিষদীয় দলনেতার চ্যালেঞ্জ, কোনও কথা তো ভালো করে লিখে বলাই যায়। কিন্তু দেশের বাস্তব পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা নেই প্রধানমন্ত্রী বা কেন্দ্রীয় সরকারের। আমাদের ভারতবর্ষ বিজ্ঞান-প্রযুক্তি সব বিষয়ে অনেকটাই এগিয়ে আছে। হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন নিয়ে কেউ বলছেন ভালো, কেউ বলছেন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বেশি, সমস্যা আছে। এছাড়া অ্যাক্টিভ ফার্মাসিউটিকল ইনগ্রেডিয়ান নিয়েও প্রচুর কাজ চলছে।

গরিব মানুষদের কথা ভাবেনি কেন্দ্রীয় সরকার

গরিব মানুষদের কথা ভাবেনি কেন্দ্রীয় সরকার

সুজন বলেন, আমরা আমাদের প্রযুক্তিগত উন্নতির কারণে অন্য দেশকে সাহায্য করছি, সবই ঠিক আছে। কিন্তু দেশের কী হচ্ছে- সেটা দেখার দায়িত্ব কিন্তু ছিল প্রধানমন্ত্রীর। কিন্তু তিনি তা পারেননি। দেশে প্ল্যানড লকডাউন নয়। কিন্তু ভাবা হল না পরিযায়ী শ্রমিক, অসংগঠিত শ্রমিক, ভিনরাজ্যে চিকিৎসা করাতে যাওয়া মানুষ, গবিব মানুষদের কথা। এসব তো দেখার দায়িত্ব ছিল প্রধানমন্ত্রীর। তাদের বিপদ থেকে রক্ষা করার কোনও ব্যবস্থা সরকারের নেই।

কোথায় টাকা, কোথায় খাবার, প্রশ্ন সুজনের

কোথায় টাকা, কোথায় খাবার, প্রশ্ন সুজনের

সুজন প্রশ্ন তোলেন, লকডাউনের সবথেকে বড় সাফল্য কী? লকডাউনের বড় সাফল্য হল মানুষ লকডাউন থাকবেন অর্থাৎ ঘরবন্দি থাকবেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় ও জরুরি পরিষেবার জিনিস তাঁদের হাতে পৌঁছে দিতে হবে। কিন্তু সেসব কোথায়। না প্রধানমন্ত্রী সেসব কথা তাঁর একতরফা বক্তৃতায় বলছেন না। সুজন বলেন, ৬৫ ভাগ শ্রমিকের কাছে কোনও সরকারি বন্দোবস্ত পৌঁছয়নি।

খাদ্যের অভাব নয়, বণ্টনের অভাব

খাদ্যের অভাব নয়, বণ্টনের অভাব

তাঁর কথায়, মানুষের হাতে টাকা নেই। সংগ্রহে খাবার নেই। মানুষ খেতে পাচ্ছেন না। অথচ গোডাউনে খাবার পচছে। তাঁদের টাকা দেওয়ার বন্দোবস্ত হয়নি, খাদ্যও পৌঁছে দেওয়া হয়নি। অমর্ত্য সেন এই পরিস্থিতিতেও জানিয়েছেন, খাদ্যের অভাব নয়, বণ্টনের অভাবে খাদ্য পৌঁছচ্ছে না মানুষের হাতে। এই সমগ্র অবস্থা নিয়েও কোনও কথা নেই।

পাশে দাঁড়ানোর মনোভাব নেই নরেন্দ্র মোদীর

পাশে দাঁড়ানোর মনোভাব নেই নরেন্দ্র মোদীর

সুজন আরও এক মোক্ষম প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন মোদী সরকারের উদ্দেশ্যে। তিনি বলেন, মানুষ যে কষ্ট করবে, তাঁদের কষ্টের মধ্যে ফেলার পর তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর মনোভাব এই সরকারের মধ্যে আছে কি? তিনি বলেন, আমাদের রাজ্যের বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে। এই রাজ্যেই সবথেকে কম টেস্ট হয়েছে, সবথেকে বেশি মৃত্যুহার। কিন্তু পাশাপাশি এ প্রশ্নও তো উঠবে, কেন কিট পাঠাতে পারেনি কেন্দ্র। যদিওবা পাঠানো কেন ডিফেক্ট কিট পাঠানো হল?

বাংলারও স্পেশাল প্যাকেজ দরকার

বাংলারও স্পেশাল প্যাকেজ দরকার

সুজন বলেন, রাজ্যকে কোনও সাহায্য করা হয়নি। বাংলার স্পেশাল প্যাকেজ দরকার। কিন্তু কেন্দ্র তা দেয়নি। শুধু একটা টিম পাঠিয়ে দিয়েছেন। টিম পাঠিয়েছেন- পাঠাক, কিন্তু তাঁদের কাছে গোপন করার কিছু নেই। গোপন করা অনুচিত হচ্চে রাজ্যের। কিন্তু শুধু কি টিম পাঠালেই হল। তাঁদের কাছে অ্যাডিশনাল সাপোর্টটা নেই। আমরা তাই প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছি।

তিন দাবি বাম-কংগ্রেসের, চিঠি মোদীকে

তিন দাবি বাম-কংগ্রেসের, চিঠি মোদীকে

বিধানসভার বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেসের আবদুল মান্নান ও বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তীর তরফে একটি চিঠি প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া হয়েছে। সেই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে- ১) মানুষের হাতে সাড়ে সাত হাজার টাকা করে দিতে হবে। গরিব মানুষকে তা দিতে হবে অন্তত ছ-মাসের জন্য। ২) প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী খাদ্য পৌঁছতে হবে। ৩) পরিযায়ী শ্রমিক, পেসেন্ট পার্টি ও আটক ছাত্রছাত্রীদের পাশে দাঁড়াতে হবে চটজলদি। গরিব মানুষগুলোর কথা একবার মনে করিয়ে দিলাম আমরা। তা না হলে মন কি বাত হবে কিন্তু মানুষের পাশে দাঁড়ানো হবে না।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+