কোন তিন শর্তে জামিন পেলেন তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়?
সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জামিন মঞ্জুর করা হয় ২৫ লক্ষ টাকার বন্ডে। পাসপোর্ট ব্যবহার করতে পারবেন না। রোজভ্যালিকাণ্ডে তদন্তে কোনওভাবেই প্রভাব খাটানো যাবে না।
এর আগে বারবার প্রভাবশালী তত্ত্বে আটকে দেওয়া হয়েছিল রোজভ্যালিকাণ্ডে ধৃত তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জামিন। সাতদিন আগেই সুদীপের অসুস্থতা যে ভুয়ো সেই প্রমাণ দাখিল করে জামিন রুখে দিয়েছিলেন সিবিআইয়ের আইনজীবীরা। অসুস্থতার নামে সুদীপ যে হাসপাতালে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছে সেই তত্ত্বও তুলে ধরে সওয়াল করেছিলেন সিবিআই। আটকে গিয়েছিল জামিন।
সাতদিনের মধ্যেই সিবিআইয়ের প্রভাবশালী তত্ত্ব খারিজ করে দিল ওড়িশা হাইকোর্ট। বিচারপতি তাঁর অসুস্থতাকে মান্যতা দিয়ে জামিন মঞ্জুর করে দিলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এজন্য অবশ্য তিনটি শর্ত আরোপ করে ওড়িশা হাইকোর্ট। প্রথমত সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জামিন মঞ্জুর করা হয় ২৫ লক্ষ টাকার বন্ডে। দ্বিতীয়ত, তিনি পাসপোর্ট ব্যবহার করতে পারবেন না। তাঁর পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে আদালতে। তৃতীয়ত, রোজভ্যালিকাণ্ডে তদন্তে কোনওভাবেই প্রভাব খাটানো যাবে না। সমস্ত রকম সহযোগিতা করতে হবে তদন্তকারীদের।

এই তিন শর্তেই তাঁর জামিন মঞ্জুর করা হয়। পাশাপাশি বিচার্য হয়ে ওঠে তাঁর অসুস্থতা। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে যে সমস্ত মেডিকেল রিপোর্ট হাইকোর্টে জমা দেওয়া হয়, তা বিচার করে বিচারপতি মানবিকতাকেই সর্বাগ্রে গুরুত্ব দেন। তাঁর স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পুরনো সমস্যাগুলিও খতিয়ে দেখা হয়। সেইসঙ্গে সিবিআইয়ের আর্জিও খতিয়ে দেখে বিচারপতি জামিনের পক্ষেই রায় দেন।
এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা হয়, সাড়ে চার মাস অর্থাৎ ১৩৫ দিনেরও বেশি সময় তাঁকে আটকে রাখা হয়েছে। এরপরে তাঁকে জেল হেফাজতে রাখার কোনও কারণ থাকতে পারে না। শুধু প্রভাব খাটাতে পারেন এই গ্রাউন্ডে তাঁর জামিন এর আর্জি খারিজ করা যায় না। তাই জামিন মঞ্জুর করে দেন বিচারপতি। ঠিক কোন কোন শর্তে গুরুত্ব আরোপ করে এই জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে তা খতিয়ে দেখেই সিবিআই পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে চলেছে।
{promotion-urls}












Click it and Unblock the Notifications