শুভেন্দুর সঙ্গে কারা ছাড়তে পারেন তৃণমূল! জেলা সফর শুধু কি সেই ‘জল’ মাপতেই
শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে তৃণমূল ঘোর অস্বস্তিতে পড়েছে। শুভেন্দু এবার নিজের জেলা ছাড়িয়ে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় জেলায় জনসংযোগে বেরিয়ে পড়েছেন।
শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ঘোর অস্বস্তিতে পড়েছে। শুভেন্দু এবার নিজের জেলা ছাড়িয়ে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় জেলায় জনসংযোগে বেরিয়ে পড়েছেন। কেন হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত নিলেন শুভেন্দু অধিকারী, তা নিয়ে চর্চা চলছে সর্বত্রই। তবে কি শুভেন্দু দল ছাড়ার উদ্দেশ্যে জল মাপতে শুরু করেছেন। তিনি দল ছাড়লে কারা তাঁর সঙ্গে আসতে পারেন, তা বুঝে নিতে চাইছেন শুভেন্দু!

প্রশ্ন করা হয়েছিল শুভেন্দুর বিজেপি যোগ নিয়ে
সম্প্রতি শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে তৃণমূলে তুমুল জল্পনা চলছে, তারই মধ্যে বাংলা থেকে ঘুরে গেলেন বিজেপির প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর কাছে প্রশ্ন করা হয়েছিল শুভেন্দুর বিজেপি যোগ নিয়ে। তা এড়িয়ে শাহ বলে গিয়েছেন, দু-একটা নামেই সীমাবন্ধ থাকছেন কেন, এই তালিকা অনেক দীর্ঘ।

তৃণমূলকেও নড়িয়ে দিয়েছে শুভেন্দুর এই পদক্ষেপ
তাতেই জল্পনার পারদ আরও চড়েছে। অমিত শাহ দিল্লি ফিরে যাবার পরই শুরু হয়েছে শুভেন্দুর জেলা সফর। এই জেলা সফরে শুভেন্দু প্রথমে বেছে নিয়েছেন মুর্শিদাবাদকে। মুর্শিদাবাদে শুভেন্দুর সভায় মালদহ থেকেও অনেকে যোগ দেওয়ার কথা। মুর্শিদাবাদ তৃণমূলকেও নড়িয়ে দিয়েছে শুভেন্দুর এই পদক্ষেপ। রাজ্য নেতৃত্বও উদ্বিগ্ন।

শুভেন্দু শক্তি দেখাতে চাইছেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে
তাহলে কি শুভেন্দু সমান্তরাল দল চালানোর চেষ্টা করছেন তৃণমূলের অন্দরেই! কারা তাঁর শক্তি, তাঁর ডাকে কতজন আসেন, তা নিজে দেখে নিতে চাইছেন, দেখাতে চাইছেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে। তিনি বোঝাতে চাইছেন, রাজ্যজুড়েই তাঁর একটা বেস রয়েছে, ফলে তাঁকে হেয় করা উচিত হবে না তৃণমূলের, তা বোঝানোও একটা উদ্দেশ্য হতে পারে।

রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা উসকে জেলা সফর
মাস খানেক ধরে রাজ্য রাজনীতিতে এখন সমস্ত ফোকাস টেনে নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা উসকে দিয়ে অমিত শাহের সফরের পরই জেলা সফরে বেরিয়ে পড়েছেন। মুর্শিদাবাদ দিয়ে শুরু যাবেন বাঁকুড়াতেও। এখন দেখার জেলা সফরে গিয়ে শুভেন্দু কী বিবৃতি দেন, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

শুভেন্দুর সফরে অভিষেক-প্রশান্তর ভূমিকা
শুভেন্দুর এই সফরের সঙ্গে তৃণমূলের কোনও যোগসূত্র নেই। জননেতা শুভেন্দু অধিকারী ‘দাদার অনুগামী'র ব্যানারে এই সভা সমাবেশ করছেন। শুভেন্দুর ডাকে মানুষের হাজিরা এবং তৃণমূল নেতানেত্রীদের উৎসাহ দেখে দলের শীর্ষনেতৃত্বও অস্বস্তিতে পড়েছে। তার প্রমাণ মিলেছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রশান্ত কিশোরের ভূমিকায়।

পাছে শুভেন্দুর ডাকে মুর্শিদাবাদের সমাবেশে যোগ দেন
অভিষেক ও পিকে মালদহের জেলা পরিষদ সভাধিপতির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তৃণমূলের অনেক জেলা পরিষদ সদস্য ও পঞ্চায়েত সমিতি সদস্যরা শুভেন্দুর ডাকে সাড়া দিয়ে মুর্শিদাবাদের সমাবেশে যোগ দিতে পারেন। তাই তাঁদের রাজনৈতিক অবস্থান জানতেই জেলা পরিষদ সভাধিপতিকে তলব করা হয় বলে জানা গিয়েছে।

শুভেন্দুর জেলা সফর শুরুতে ধন্দে তৃণমূল নেতৃত্ব
দলের সঙ্গে একটু মন কষাকষি চলছে শুভেন্দুর। প্রশান্ত কিশোর ভোট কৌশলীর দায়িত্বে আসার পর শুভেন্দুর গুরুত্ব ঈষৎ কমতেই তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব রাখা শুরু করেছিলেন তিনি। এখন শুভেন্দুর কিছু তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্যকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতির পারদ উথাল-পাথাল করতে শুরু করেছে। তবে শুভেন্দু আবার সরকারি অনুষ্ঠানে যাওয়াও শুরু করেছেন। তারপর ফের তাঁর জেলা সফর শুরুতে ধন্দে তৃণমূল নেতৃত্বও।

শুভেন্দুর কর্মসূচি ভাবাচ্ছে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বকে
শুভেন্দু ৭ নভেম্বর থেকে বিভিন্ন জেলায় জনসংযোগে যেতে শুরু করেছেন। তিনি ৭ নভেম্বর মুর্শিদাবাদে সভা করছেন। বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরুলিয়া যাবেন ৮ নভেম্বর, ১০ নভেম্বর নিজের জেলায় নন্দীগ্রামে এবং ১৩ নভেম্বর বাঁকুড়া যাবেন শুভেন্দু। তাঁর এই কর্মসূচি ভাবাচ্ছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।












Click it and Unblock the Notifications