মমতাকে ‘নেত্রী’ বললেন শুভেন্দু অধিকারী, বহুদিন পর পরিচিত শব্দবন্ধেই দিলেন বিশেষ বার্তা
মমতাকে ‘নেত্রী’ বললেন শুভেন্দু, বহুদিন পর পরিচিত শব্দব্রন্ধেই দিলেন বিশেষ বার্তা
শুভেন্দু অধিকারী সম্প্রতি বার্তা দিয়েছেন তিনি তৃণমূল কংগ্রেসেই আছেন। এই পরপ্রেক্ষিতে তাঁর আরও বার্তা- কোনওদিন নেত্রী বা দলের বিরুদ্ধে কিছু বলিনি। যা হচ্ছে সবই মিডিয়ার রটনা। এরপর মঙ্গলবার পটাশপুরে পঞ্চায়েতের এক অনুষ্ঠানেও তিনি উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের সামনে ফের এরবার 'নেত্রী' শব্দটি উচ্চারণ করলেন।

শুভেন্দুর মুখে দীর্ঘদিন পর শোনা গেল ওই ‘নেত্রী’ শব্দটি
এখন প্রশ্ন, শুভেন্দুর মুখে দীর্ঘদিন পর শোনা গেল ওই ‘নেত্রী' শব্দটি। তাহলে কি সত্যি সত্যিই আশঙ্কার কালো মেঘ সরতে চলেছে তৃণমূলের উপর থেকে। তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। পরপর দুদিন শুভেন্দুর নরম মনোভাবে তৃণমূলে স্বস্তির বাতাবরণ তৈরি হয়েছে। তবে জল্পনার শেষ এখনও হয়নি। এখনও দাদার অনুগামীরা পোস্টার দিয়েই চলেছেন জেলায় জেলায়।

মমতার নাম বা তৃণমূল কংগ্রেসের কথা উল্লেখ করেননি শুভেন্দু
পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরে পঞ্চায়েতের এক অনুষ্ঠানে শুভেন্দু নন্দীগ্রাম আন্দোলনের কথা প্রসঙ্গে বলেন, আমাকে বললেন নেত্রী, আমি লড়াই করলাম। তাঁর মুখে এই নেত্রী শব্দ শুনেই আবার তৃণমূল বুক বাঁধতে শুরু করেছেন। তবে প্রকাশ্য বক্তব্যে তিনি একবারও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম বা তৃণমূল কংগ্রেসের কথা উল্লেখ করেননি।

সুদক্ষ রাজনীতিকের মতো বাণ ছাড়ছেন শুভেন্দু অধিকারী
শুভেন্দু অধিকারী এভাবেই ধন্দ রেখে চলেছেন। ফলে জল্পনাও বাড়ছে। প্রতিদিন নিত্যনতুন মন্তব্যে তিনি ঘাম ছুটিয়ে দিচ্ছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। তিনি সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েও সুদক্ষ রাজনীতিকের মতো বাণ ছাড়ছেন, যার ব্যাখ্যা করে শুভেন্দুর গতিবিধি নিরূপণ করা দুঃসাধ্য হয়ে যাচ্ছে রাজনৈতিক মহলের।

নন্দীগ্রাম আন্দোলন প্রসঙ্গে বুদ্ধদেব সরকারকে একহাত শুভেন্দুর
মঙ্গলবার পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরের আড়গোয়ালে পঞ্চায়েতের প্রশাসনিক ভবনের উদ্বোধন করেন তিনি। সেখানে গিয়ে বামফ্রন্ট সরকার তথা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সরকারকে একহাত নেন শুভেন্দু। সেইসঙ্গে তাঁদের তৃণমূল সরকারকেও কিছু বার্তা দিতে চাইলেন শুভেন্দু। তাঁর সেই বক্তব্য নিয়ে চর্চা তুঙ্গে উঠেছে।

‘আমরা-ওরা’র রাজনীতি স্মরণ করিয়ে রাজনীতির পাঠ
শুভেন্দু বলেন, ক্ষমতার দম্ভ দেখালে ২৩৫ যেমন উঠে গিয়েছে, তেমনই পঞ্চায়েতের ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদেরও মানুষ সরিয়ে দেবে। মানুষই সব। মানুষ যতদিন রাখবেন রাজনৈতিক নেতারা ততদিনই। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ‘আমরা-ওরা' রাজনীতি স্মরণ করিয়ে তিনি এদিন রাজনীতির পাঠ দেন।

মানুষের জন্য কাজ করতে হবে, ক্ষমতার দম্ভ দেখালেই বিপদ
শুভেন্দু বলেন, পার্টি দেখে কাজ করলে কেউ বেশিদিন থাকতে পারবেন না। মানুষকে নিয়ে কাজ করলে বেশিদিন থাকতে পারবেন। পার্টিকে মানুষের জন্য কাজ করতে হবে, নেতাকে কাজ করতে হবে মানুষকে নিয়ে। দিনের শেষ যতই ক্ষমতার দম্ভ দেখান না কেন, শেষ কথা বলবে মানুষ।

মাত্র দেড় বছরের লড়াইয়ে সব ভেঙে তছনছ হয়ে গেল!
শুভেন্দু বলেন, আমি নন্দীগ্রামের লড়াই লড়েছি। নেত্রী আমায় লড়তে বললেন, আমি লড়াই করেছি। তখনকার সরকার বলেছিল আমরা ২৩৫। কেন ৩০ জনের কথা শুনব। কিন্তু এত পুলিশ, এত অর্থ, এত ক্ষমতা, এত বৈভব, এক সংখ্যা, এত অহংকার কোথায় গেল। মাত্র দেড় বছরের লড়াইয়ে সব ভেঙে তছনছ হয়ে গেল। মানুষ সব তছনছ করে দিয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications