স্বাস্থ্য পরিকাঠামো নিয়ে ১০ দফা নির্দেশিকা জারি রাজ্যের, উঠবে কি আন্দোলনরত চিকিৎসকদের কর্মবিরতি?
State Government Directives: আরজি কর কাণ্ডে আন্দোলনের আবহে স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে ঢেলে সাজাতে ১০ দফা নির্দেশিকা জারি রাজ্য সরকারের। গতকাল নবান্নের বৈঠকের পর যা যথেষ্টই তাৎপর্যপূর্ণ।
আন্দোলনরত জুনিয়র চিকিৎসকদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে গতকাল নবান্নে মুখ্য সচিব মনোজ পন্থের নেতৃত্বে টাস্ক ফোর্সের বৈঠক হয়। যদিও বৈঠকের লিপিবদ্ধ কার্যবিবরণীতে সব লেখা ছিল না। ফলে হতাশা ব্যক্ত করেন আন্দোলনকারীরা।

আন্দোলনরত চিকিৎসকদের দাবি ছিল, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে হওয়া বৈঠকের মতোই এই বৈঠকের মিনিটসেও দুই পক্ষের স্বাক্ষর থাকুক। কিন্তু অভিযোগ, বৈঠকে অনেক বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলেও সেই কথাগুলি মিনিটসে লেখেনি রাজ্য সরকার। তবে শেষ অবধি আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, আজ নির্দেশিকা জারি করা হবে।
মুখ্য সচিব মনোজ পন্থ রাজ্যের স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগমের কাছে ১০ দফা নির্দেশিকা পাঠিয়েছেন। কপি পাঠানো হয়েছে স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের সচিব, রাজ্যের ডিজি ও কলকাতার নগরপালের কাছেও। মূলত নিরাপত্তার নানা বিষয়ের বন্দোবস্তের কথাই বলা হয়েছে ১০ দফা নির্দেশিকায়।
স্বাস্থ্যক্ষেত্রে সুরক্ষা, নিরাপত্তা ও মসৃণভাবে কাজের পরিবেশ সুনিশ্চিত করতেই এই নির্দেশিকা। ডিউটি রুম, ওয়াশরুম, সিসিটিভি, পানীয় জলের পর্যাপ্ত বন্দোবস্ত করতে হবে সব হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। দ্রুত এই বন্দোবস্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সমস্ত মেডিক্যাল কলেজ, হাসপাতাল ও অন্যান্য স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে আলোচনা করে নির্দেশিকা মানতে বলা হয়েছে।
রাজ্যের প্রাক্তন ডিজি সুরজিৎ কর পুরকায়স্থকে সমস্ত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সিকিউরিটি অডিট দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁকে এ ব্যাপারে সহযোগিতা করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ জমা করার অভ্যন্তরীণ কমিটি-সহ স্বাস্থ্য দফতরের সব কমিটিকে সক্রিয় ও কার্যকরী করতে বলা হয়েছে।
স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলিতে পর্যাপ্ত সংখ্যায় পুরুষ ও মহিলা পুলিশকর্মী ও নিরাপত্তারক্ষী রাখতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে বলা হয়েছে। রাতের দিকে মোবাইল টিম রাখতে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্ট থানাগুলিকে।
স্বাস্থ্যককর্মীদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সেন্ট্রালাইজড হেল্পলাইন নম্বর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানেই তা রাখতে হবে। সেই সঙ্গে রাখতে হবে অ্যাকসেস-কন্ট্রোল-সহ প্যানিক কল বাটন অ্যালার্ম সিস্টেম।
কতগুলি বেড ভর্তি বা খালি রয়েছে তার সেন্ট্রালি মনিটরড রিয়াল টাইম বেড অ্যাভেলিবিলিটি ইনফরমেশন সিস্টেম কার্যকর করতে বলা হয়েছে সব সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে। জনগণ যাতে জানতে পারেন সেজন্য সুনির্দিষ্ট জায়গায় ডিসপ্লে বোর্ডেও বেড সংক্রান্ত তথ্য জানাতে হবে।
সেন্ট্রালাইজড রেফারাল সিস্টেম যত দ্রুত সম্ভব চালু করতে বলা হয়েছে। চিকিৎসক, নার্স, জিডিএ, টেকনিশিয়ানের শূন্যপদ দ্রুত ভরাট করতে ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোগী বা রোগীর পরিজনরা যাতে অভিযোগ জানাতে পারেন সেজন্য গ্রিভান্স রিড্রেসাল সিস্টেম রাখারও নির্দেশ দিয়েছে। এই নির্দেশিকা মেনে ব্যবস্থা নেওয়ার বিস্তারিত তথ্য স্টেট লেভেল টাস্ক ফোর্সকে জানাতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, সল্টলেকে জুনিয়র চিকিৎসকদের জিবি মিটিং চলছে। সূত্রের খবর, কাল স্বাস্থ্য ভবনের সামনে থেকে অবস্থান প্রত্যাহার করা হবে। দ্রুত ন্যায়বিচারের দাবিতে সিজিও কমপ্লেক্স অবধি মিছিল হবে। শনিবার থেকে জরুরি বিভাগে যোগ দিতে পারেন চিকিৎসকরা। ভবিষ্যতের আন্দোলনের রূপরেখা চূড়ান্ত হবে এদিনের বৈঠকে।












Click it and Unblock the Notifications