‘দক্ষ সংগঠক মুকুল’, মমতাকে একহাত নিয়ে ‘চাণক্য’কে কী বার্তা দিতে চাইলেন অধীর
তৃণমূলকে একহাত নিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি মুকুল রায়ের পাশে দাঁড়ালেন অধীর চৌধুরী। মুকুলের বহিষ্কার নিয়ে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করতেও ছাড়লেন না।
তৃণমূলের বহিষ্কৃত মুকুল রায়কে পেতে বিজেপি ইতিমধ্যেই আসরে নেমে পড়েছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ থেকে 'ভাগ মুকুল ভাগ'-এর স্লোগান খ্যাত সিদ্ধার্থনাথ সিং- সবাই তাকিয়ে রয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দিকে। এরই মধ্যে মুকুলের জন্য দরজা খোলা রাখার বার্তা দিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীও।

বিধানসভার বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান মুকুল-প্রশ্নে বিরূপ মন্তব্য প্রকাশ করলেও প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীরের ছুঁৎমার্গ নেই তৃণমূলের প্রাক্তনী 'চাণক্য'কে নিয়ে। তৃণমূলকে একহাত নিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি মুকুল রায়ের পাশেই দাঁড়িয়েছেন তিনি। এমনকী মুকুল রায়ের বহিষ্কার নিয়ে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি অধীর।
এর আগেও মুকুলকের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। সোমবার মহাপঞ্চমীর দিনে মুকুলের দলত্যাগ ও বহিষ্কার প্রসঙ্গে অধীর চৌধুরী বলেন, তৃণমূলে খারাপ দিনের শুরু হয়েছে। এখন মুকুল রায়ের মতো নেতাও তৃণমূলে থাকতে পারছেন না। এতেই বোঝা যায় দলটার কী অবস্থা! দলটার সাংগঠনিক বিষয়টা তো একা হাতে সামলাতেন মুকুল রায়ই। মমতাও চোখ বুজে ভরসা করতেন। এমন একজন নেতার পদত্যাগে প্রভাব পড়বেই দলে।

সোমবার বিধানসভার বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান বুঝিয়ে দিয়েছিলেন মুকুল রায়কে দলে নিলে কংগ্রেস লাভবান হবে না। কারণ মুকুল রায়ের গা থেকে এখনও চিটফাণ্ড-নারদ কেলেঙ্কারির কলঙ্ক মুছে যায়নি। তার উপর কংগ্রেসকে ভাঙিয়ে অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে জেলা পরিষদ, পঞ্চায়েত, পুরসভা দখল করতে তৃণমূলে স্বৈরতন্ত্র কায়েম করার হোতা ছিলেন তিনিই।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী কিন্তু মুকুলের এই ভূমিকা নিয়ে বিরূপ মন্তব্যে রাজি নন। তিনি মনে করেন, ওটা ছিল দলের স্ট্র্যাটেজি, একা মুকুলের নয়। বরং তিনি আলোকপাত করতে চান মুকুলের সাংগঠনিক ক্ষমতা নিয়ে। একা হাতে তৃণমূলের সংগঠন সামলেছেন। ভোট ম্যানেজার হিসেবে তাঁর জুড়িমেলা ভার। এগুলো অবশ্যই তাঁর গুণের মধ্যেই পড়ে। তিনি আড়ালে থেকে দলের শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে গিয়েছেন।

এমন দক্ষ সংগঠক দলে এলে লাভ হবে কংগ্রেসেরই, এ ব্যাপারে কোনও দ্বিমত থাকতে পারে না। তবে তিনি এ প্রসঙ্গে বলেছেন, এটা তাঁর একদমই ব্যক্তিগত মত। কেননা কংগ্রেস সর্বভারতীয় দল। সেই দলে যে কেউই আসুন না কেন, বা আসতে চান না কেন, হাইকম্যান্ড তথা দিল্লির অনুমোদন লাগে। তাই মুকুলবাবু যদি আসতে চান সেই সিদ্ধান্ত নেবে কংগ্রেস হাইকম্যান্ডই।
এর আগে মুকুলের সংসদীয় সমস্ত পদ কেড়ে নেওয়ার সময়ও আগ বাড়িয়ে মুকুল রায়ের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন অধীর চৌধুরী। মুকুলের প্রসঙ্গ টেনে মমতাকে আক্রমণ করেছিলেন তিনি। সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের সখ্যতা বেড়ে চলায় রাজনৈতিক মহলে অন্য সমীকরণের ইঙ্গিত দিয়েছিল অধীর চৌধুরীর মুকুলের পাশে দাঁড়ানোর এই বার্তা। সেইসঙ্গে রাজ্য রাজনীতিতে মুকুল রায় ও অধীর চৌধুরী এক হওয়ার আভাসও মিলেছিল। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, মুকুল-অধীর এক দলে হতে পারেন কংগ্রেসে বা বিজেপিতে, হতে পারেন মুকুলের নতুন দলেও!












Click it and Unblock the Notifications