SSC Scam Exclusive: এসএসসি-র তালিকার 'অযোগ্য'রা স্কুলে শিক্ষকতা করছেন! বাঁচার চেষ্টায় লাভ নেই, মত আইনজীবীদের
SSC Scam Exclusive: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের প্রেক্ষিতে ৯০৭ জন সহ শিক্ষক, যাঁদের ওএমআর শিটে জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের নামের তালিকা ও রোল নম্বর প্রকাশ করেছে স্কুল সার্ভিস কমিশন। গত মাসে, ২৬ জুলাই।
এই তালিকায় সিংহভাগই তৃণমূল নেতাদের ধরে অর্থ বা অন্য কোনও হিসেব-নিকেশের বিনিময়ে চাকরি পেয়েছেন বলে অভিযোগ। এমন লজ্জাজনক ঘটনার পরেও তাঁরা বহাল তবিয়তেই চাকরি করে যাচ্ছেন। যা অনৈতিক, বলছেন আইনজীবীরাও।

তালিকায় নাম থাকা কেউ এবারও পঞ্চায়েত নির্বাচনে জেলা পরিষদ আসনে জয়ী হয়েছেন। কারও স্বামী দাপুটে তৃণমূল নেতা। পূর্ব বর্ধমান জেলার নিউজ ১৮-র সাংবাদিক শরদিন্দু ঘোষের স্ত্রী সংগীতার নামও তালিকায় রয়েছে।
এই ৯০৭ জনের বিকৃত উত্তরপত্র উদ্ধার করেছিল সিবিআই। সংবাদমাধ্যমে এমন কয়েকজন অযোগ্য শিক্ষকের কথা তুলে ধরা হয়।
উল্লেখ্য, ববিতা সরকারের করা মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় নির্দেশ দেন, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে কর্মরত যে শিক্ষক-শিক্ষিকার উত্তরপত্রে কারচুপির অভিযোগ উঠেছে তাঁদের নাম, বাবার নাম, ঠিকানা, স্কুলের নাম এবং ওএমআর শিট প্রকাশ করতে। এরপর সুপ্রিম কোর্ট ওএমআর শিট প্রকাশে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিলেও নামের তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দেয়।

তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, জেলায় জেলায় তৃণমূলের নেতারাই উপরওয়ালাদের ধরে এইসব চাকরির বন্দোবস্ত করেছেন। হয়েছে বিপুল আর্থিক লেনদেন। এই চক্রের সঙ্গে যুক্তদের অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। কেউ রয়েছেন তদন্তের আওতায়। উল্লেখ্য, গতকাল মুর্শিদাবাদের চার অযোগ্য শিক্ষক আদালত থেকে গ্রেফতার হয়েছেন। নিয়োগ দুর্নীতিতে তলব করা হয়েছে বাঁকুড়ার ৭ শিক্ষককে।
দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যম হিসেবে ওয়ানইন্ডিয়া বাংলা খোঁজ নিতে থাকে কমিশনের তরফে তালিকা প্রকাশের পর 'অযোগ্য' শিক্ষক-শিক্ষিকারা কী করছেন? এটাও ঠিক, এই তালিকাকে চ্যালেঞ্জ করে 'অযোগ্য' তকমা পাওয়া শিক্ষক-শিক্ষিকারা আইনের দ্বারস্থ হতে পারেন।

ওয়ানইন্ডিয়া বাংলার প্রতিনিধিরা পৌঁছে গিয়েছিলেন কয়েকটি স্কুলে। যেমন এসএসসি প্রকাশিত তালিকায় ৮৮৫ নম্বরে নাম রয়েছে ত্রিগুণারঞ্জন বারিকের। যিনি পূর্ব মেদিনীপুরের হাঁসচড়া এমডি হাই স্কুলের বায়োলজি শিক্ষক। ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত পঞ্চায়েত সমিতির বিদ্যুৎ কর্মাধ্যক্ষ ছিলেন। প্রভাব খাটিয়েই চাকরি পেয়েছিলেন।

তালিকা প্রকাশের পরও তৃণমূলের এই নেতা এখনও বহাল তবিয়তেই স্কুলে যাচ্ছেন। স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুপ্রকাশ গিরি আজ জানিয়েছেন, ওই শিক্ষক ২০১৮ সালে স্কুলে যোগ দেন এসসসি ও ডিআইয়ের অনুমতিপত্র নিয়েই। আমি যোগ দিই ২০২১ সালে। তবে এখনও তিনি স্কুলে দায়িত্ব নিয়েই পড়াচ্ছেন। বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন। তালিকার বিষয়টি ডিআই বা এসসসি-র ব্যাপার।
শুধু পূর্ব মেদিনীপুর নয়, পূর্ব বর্ধমানের গলসি সারদা বিদ্যাপীঠের ইতিহাসের শিক্ষিকা সংগীতা হাজরার নাম রয়েছে তালিকার ৬৩৩ নম্বরে। তিনি নিউজ ১৮ বাংলার পূর্ব বর্ধমান জেলার সাংবাদিক তথা বর্ধমান জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি শরদিন্দু ঘোষের স্ত্রী। সংগীতার বিষয়টি সামনে আসার পর বর্ধমানের সাংবাদিকদের একাংশ প্রেস ক্লাবের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে সরব হন।

শরদিন্দু মানহানির মামলা করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন জনৈক সাংবাদিককে। আবার কাউকে দিয়ে ম্যানেজ করানোর চেষ্টা হয় এটা বলে যে, চাকরি তো যায়নি। এটা শরদিন্দুর ব্যক্তিগত ব্যাপার। বিষয়টি নিয়ে আর না এগোতে। আবার পার্থ-ঘনিষ্ঠ যে প্রভাবশালী নেতাকে ধরে এই চাকরি বলে অভিযোগ, তিনি সম্প্রতি প্রেস ক্লাবের সিটি অফিস উদ্বোধনও করেছেন।
গলসির ওই স্কুলেও গিয়েছিলেন ওয়ানইন্ডিয়া বাংলার প্রতিনিধিরা। জানা গিয়েছে, নিয়মিতই স্কুলে যাচ্ছেন সংগীতা। ওই স্কুলের তরফে মুখে কুলুপ এঁটে রাখা হয়েছে। এখানেও হয়তো বিষয়টি ঠেলে দেওয়া হবে ডিআই বা স্কুল সার্ভিস কমিশনের দিকেই। যদিও পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা। তাঁদের অনেকের বক্তব্য, শিক্ষক-শিক্ষিকারা অবৈধভাবে চাকরি পেয়েছেন বলে শুনছি। তাঁরা কী শেখাবেন?
আইনজীবী ফিরদৌস শামিম বলেছেন, ওএমআর শিটের সঙ্গে স্কুল সার্ভিস কমিশনের সার্ভারে থাকা নম্বরের বিপুল গরমিল ধরা পড়েছে। ওএমআর শিট নষ্টের আগে তা স্ক্যান করে রাখা হয়েছিল। সেটি উদ্ধার করেছে সিবিআই। তাতেই গরমিলের প্রমাণ মিলেছে। ৩-কে ৩৩, ৪৩ বা ৫৩ করে মেরিট লিস্ট বা ওয়েটিং লিস্টে রাখা হয়েছিল। এভাবে এই ব্যক্তিরা দিনের পর দিন চাকরি করবেন, এটা হতে পারে না।

এই শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অযোগ্য বলায় কোনও ভুল নেই বলে দাবি ফিরদৌসের। তিনি বলেন, নবম-দশমের মতো একাদশ-দ্বাদশ, গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি-তে এমনভাবে নম্বর বাড়িয়ে চাকরি পাওয়া অনেকেই রয়েছেন। কারচুপি করে এঁরা চাকরি পেয়েছেন। বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশে একাধিক মামলায় সিবিআই তদন্ত হয়েছে। সেই তদন্তেই গরমিল ধরা পড়েছে।
আইনজীবী সুদীপ্ত দাশগুপ্তও বলেন, আমাদের দাবি তালিকা প্রকাশের সঙ্গে অযোগ্যদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করার। সুপ্রিম কোর্ট ওএমআর শিট প্রকাশ করতে না বললেও তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দেওয়ায় এসসসি ৯০৭ জনের তালিকা প্রকাশ করেছে। সকলেরই ওএমআর শিটে কারচুপি করা হয়েছে, নম্বর বাড়িয়ে দেখিয়ে অবৈধভাবে চাকরি দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের উপর এঁদের চাকরি যাওয়ার বিষয় নির্ভর করছে।
সুপ্রিম কোর্টে মুখবন্ধ খামে জমা পড়েছে ওএমআর শিট। ন্যায়বিচারের আশা করছেন মামলাকারীরা। আইনজীবী মহল আশাবাদী, অযোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকারা বাঁচতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। মহামান্য শীর্ষ আদালতে শুক্রবার মামলাটি উঠতে পারে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা ওএমআর শিট দেখলে অযোগ্যরা রেহাই পাবেন না।
বিরোধীদের প্রশ্ন, যোগ্য চাকরিপ্রার্থীরা রাস্তায় আন্দোলন করছেন। আর নানাভাবে আইনের দীর্ঘসূত্রিতাকে কাজে লাগিয়ে অযোগ্যরা চাকরি করে যাচ্ছেন! সরকার কেন পদক্ষেপ করছে না? কাদের আড়ালের চেষ্টা? অনৈতিক কাজকর্মে যুক্ত সকলেরই শাস্তির দাবি করছেন শুভবুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তিরা।












Click it and Unblock the Notifications