SSC verdict: আর আসবেন না স্যার-ম্যাডাম, এসএসসি রায়ে আতান্তরে পড়ুয়ারা! স্কুলে স্কুলে অনিশ্চয়তা

SSC Case verdict: এক নির্দেশে রাতারাতি চাকরিহারা। অযোগ্যদের সঙ্গে মিলে চাকরি গেল যোগ্য প্রার্থীদেরও। SSC মামলার ২০১৬ সালের গোটা প্যানেলই বাতিলের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের। আর তাতেই সিঁদুরে মেঘ রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলিতে। এমনিতেই ধুঁকতে থাকা অবস্থা। তার উপর শিক্ষকরা স্কুল ছাড়তে থাকায় ক্লাসে পড়ানো, পরীক্ষায় গার্ড দেওয়া ও উচ্চমাধ্যমিকের খাতা দেখা, সবেতেই অনিশ্চয়তা।

২০১৬ সালে পরীক্ষা দিয়েছিলেন। ২০১৮সালে চাকরি পেয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে মালদহ শহরের বাল্য গার্লস উচ্চ বিদ্যালয়ে চারজন শিক্ষিকা ও এক গ্রুপ ডি কর্মীর চাকরি গেল। দক্ষিণ দিনাজপুরের বাসিন্দা ভেরোনিকা টুডু। অঙ্গনওয়াড়ির চাকরি করতেন। ১৫ বছর ধরে চাকরি করেছেন। কিন্তু ভালো রোজগারের আশায় গ্রুপ ডি পদে চাকরির জন্য পরীক্ষা দিয়েছিলেন। সফল হয়ে মালদহ বার্লো বালিকা বিদ্যালয়ে চাকরি পান তিনি।

school

ভেরোনিকার স্বামী বেসরকারি স্কুলে পড়ান। ২০১৬ সালের প্যানেল বাতিলে গ্রুপ ডি পদে চাকরি গিয়েছে ভেরোনিকার। খবর পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। দুই ছেলে মেয়ে রয়েছে তাঁর। মাথায় ব্যাঙ্ক লোন রয়েছে তাঁর। এখন কি করবেন, বুঝতে পারছেন না তারা। মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার মতো অবস্থা তাদের। রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ হওয়ার কথা ভাবছেন ভেরোনিকা টুডু।

পশ্চিম বর্ধমান জেলার বহু শিক্ষক শিক্ষিকাও রয়েছেন চাকরিহারাদের তালিকায়। আসানসোল চেলিডাঙা হাইস্কুলের দুইজন শিক্ষক শিক্ষিকা এবং গ্রুপ ডি কর্মীর চাকরি বাতিল হয়েছে। স্কুল সূত্রে খবর, আসানসোল চেলিডাঙা হাইস্কুলের বাংলা বিভাগের শিক্ষক, কেমিস্ট্রি বিভাগের শিক্ষিকা এবং একজন গ্রুপ ডি বিভাগের কর্মীর চাকরি চলে গিয়েছে। চাকরি বাতিলে ভারাক্রান্ত স্কুলের সহ-শিক্ষকরাও।

বিপদ পড়েছে দুর্গাপুরের নেপালি পাড়া হিন্দি হাইস্কুলের ৮ জন শিক্ষকও। এদের মধ্যে সাত জন শিক্ষিকা ও এক জন শিক্ষকের চাকরি বাতিল হয়েছে। স্কুলে ৩৩ জন শিক্ষক শিক্ষিকা রয়েছেন। এর মধ্যে আট জনের ওপর কোপ পড়লে স্কুল কীভাবে চলবে, তা নিয়ে চিন্তায় স্কুলের প্রধান শিক্ষক ডক্টর কলিমুল হক। নেপালি পাড়া হিন্দি হাইস্কুলে মোট চার হাজার দুশো জন ছাত্র ছাত্রী রয়েছে।

বালুরঘাট হাই স্কুলের চারজন শিক্ষক এবং দুইজন অশিক্ষক কর্মী (ক্লারিক্যাল) এই মামলার রায়ে চাকরি খোয়াতে চলেছেন। এর ফলে অসুবিধার সম্মুখীন হতে হবে স্কুলগুলিকে। বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের অভাবের পাশাপাশি, উচ্চ মাধ্যমিক ও একাদশের খাতা দেখা নিয়ে সমস্যা দেখা দেবে। বালুরঘাট হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক সৃজিত সাহা জানান, এমনিতেই স্কুলগুলিতে শিক্ষকের অপ্রতুলতা রয়েছে। সেখানে চারজন শিক্ষক চলে গেলে বিষয় ভিত্তিক পড়ানোর ক্ষেত্রে অসুবিধা হবে।

তিনি আরও বলেন, দুইজন ক্লারিক্যাল স্টাফ চাকরি চলে যাওয়ায়, স্কুলের ক্লারিক্যাল কাজে প্রচণ্ড সমস্যা হবে। পাশাপাশি, ওইসব শিক্ষকরা উচ্চ মাধ্যমিক এবং একাদশ শ্রেণির খাতা দেখছেন। সেক্ষেত্রেও অসুবিধার সৃষ্টি হতে পারে।

এদিকে প্রিয় স্যার ম্যাডামরা চলে যাওয়ায় আতান্তরে পড়ুয়ারা। কীভাবে হবে পড়াশোনা? চিন্তায় তারা। গৃহশিক্ষকও নেই। কাজেই পড়াশোনা কীভাবে চালিয়ে নিয়ে যাবে, সেনিয়ে টেনশনে পড়ুয়ারা। শিক্ষকরা চলে যাওয়ায় উচ্চমাধ্যমিকের খাতা দেখা নিয়েও সমস্যা। সূত্রের খবর, এনিয়ে বিভিন্ন জেলা থেকে রিপোর্ট চেয়েছে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ।

জানা গিয়েছে, উচ্চমাধ্যমিকের খাতা দেখা নিয়ে ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাবে সংসদ। ২০১৬ সালের আগে নিয়োজিত শিক্ষক শিক্ষিকাদের বাড়তি খাতা দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তবে যে খাতাগুলি ইতিমধ্যেই দেখা হয়ে গিয়েছে, তা নিয়েও সমস্যা দেখা দিতে পারে। তা নিয়েও সিদ্ধান্ত জানাতে পারে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+