শ্রীনু হত্যাকাণ্ডের রিমোট কন্ট্রোল ছিল তাঁরই পুরনো সহযোগী শঙ্কর ওঁরাওয়ের হাতে
রেলশহর খড়গপুরের ‘বেতাজ বাদশা’ শ্রীনু নাইডু হত্যাকাণ্ডে সাত জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল ও ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুর থেকে সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়।
পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৩ জানুয়ারি : শ্রীনু হত্যাকাণ্ডের রিমোট কন্ট্রোল ছিল তাঁরই এক পুরনো সহযোগীর হাতে। ঘটনাস্থলে না থেকেও শ্রীনুর পুরনো সহযোগী শঙ্কর ওঁরাও-এর পরিচালনায় চলল অপারেশন। ১১ জনের দুষ্কৃতী দল মাত্র ১০ মিনিটের অপারেশনে খড়গপুরে শ্রীনু-রাজের অবসান ঘটাল। পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি চালিয়ে হত্যা করল তাঁকে।
এই খুনের ব্লপ্রিন্ট তৈরি হয়েছিল খড়গপুরেই। গত ৮ জানুয়ারি খড়গপুরে জন ফ্রান্সিস নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে বসেই পরিকল্পনা করা হয় শ্রীনু হত্যার। পরিকল্পনা মতো একটি পুরনো গাড়ি কেনা হয় মাত্র ৯৬ হজার টাকা। ৯৬ হাজার টাকার ওই টাটা সুমো আর একটি বাইক নিয়ে ১১ জন হামলা চালায় খড়গপুর পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল পার্টি অফিসে।

ওই পার্টি অফিসে মাত্র একটি গেট ছিল, কখন শ্রীন সেখানে আসবে, কোথায় সে বসে, সব কিছুই ছিল দুষ্কৃতীদের নখদর্পণে। সেইমতো বোমাবাজি করে গোটা এলাকা ফাঁকা করে দেয় দুষ্কৃতীরা। তারপর বোমার ধোঁয়ার মধ্যেই পার্টি অফিসে ঢুকে শ্রীনুকে গুলি করা হয়। তার সঙ্গে ধস্তাধস্তিও হয়েছিল বলে জানিয়েছে শ্রীনুর শাগরেদরা। এরপর শ্রীনু পড়ে গেলে, তাকে গুলি করা হয়।
পুলিশ সুপার ভারতী ঘোষ জানান, এই হত্যাকাণ্ডে সাতজনকে গ্রেফতার ও এক জনকে আটক করা হয়েছে। এই ঘটনার পিছনে মাফিয়া চক্রের হাত রয়েছে। তার উপর রয়েছে বড় মাথাও। সেই মাথা এখনও অধরা। তবে এই হত্যাকাণ্ডে রাজনৈতিক প্রতিহিংসাও রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
পুলিশ সুপার বলেন. শ্রীনু একটা সময় এই এলাকায় দোর্দণ্ডপ্রতাপ মাফিয়া ছিল ঠিকই, কিন্তু গত দেড় বছর ধরে তিনি কোনও মাফিয়া চক্রের সঙ্গে ছিলেন না। বরং তিনি জোর দিয়েছিলেন ব্যবসায়। সেইসঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্বও বাড়ছিল। তাই শ্রীনুর এই উত্তরণ আটকাতে পরিকল্পনা করেই তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হল।
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ সুপার ভারতী ঘোষ বলেন, খড়গপুরকে অশান্ত করতে এই খুনের ঘটনা। এর পিছনে রয়েছে অনেক বড় মাথা। মোট ১১ জন দুষ্কৃতী পরিকল্পিতভাবে সেদিন হামলা চালিয়েছিল পার্টি অফিসে ঢুকে। আটজন এসেছিল টাটাসুমোতে। আর ৩ জন ছিল বাইকে। পুরো ঘটনা দূর থেকে পরিচালনা করেছে শঙ্কর। ইতিমধ্যে মূল অভিযুক্ত শঙ্কর-সহ সাতজনকে গ্রেফতারের পাশাপাশি টাটা সুমোটি আটক করা হয়েছে। বাকি চার জনের খোঁজে তল্লাশি চলছে। এক জনকে আটক করা হয়েছে।
একটা সময় রামবাবুকে সরিয়ে খড়গপুরে রাজত্ব কায়েম করেছিলেন শ্রীনু। উত্থান-পর্বে তিনি ছিলেন বিজেপির ছত্রছায়ায়। গত পুরভোটেও তিনি বিজেপি-র হয়েই ভোটযুদ্ধে লড়েছিলেন। তাঁর স্ত্রী পূজা নাইডু ১৮ নম্বর ওয়ার্ড থেকে বিজেপি-র টিকিটে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।
অবশ্য বিধানসভা ভোটের আগেই পদ্ম ছেড়ে দলবদলে ঘাসফুল শিবিরে চলে আসেন শ্রীনু। দলবদল করে পূজাও তৃণমূলে আসেন। ফলে গুরুত্ব বাড়তে থাকে শ্রীনুর। শ্রীনু তাই মাফিয়া চক্র ছেড়ে দিয়ে ব্যবসায় মন দিয়েছিলেন। পসার জমানোর চেষ্টা করছিলেন রাজনীতির জমিতে।
আগে একাধিক অপরাধমূলক কাজকর্মের সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন শ্রীনু। সেই কারণে তাঁর একাধিকবার জেল হয়েছে। ছাঁট লোহার ব্যবসা দিয়ে শুরু, তা থেকেই তিনি রামবাবুকে সরিয়ে বনে গেলেন এলাকার ডন। হয়ে উঠলেন খড়গপুরের ত্রাস। তাই সর্বদাই
তাঁক প্রাণ হাতে নিয়ে চলতে হত। আগেও বেশ কয়েকবার তাঁর উপর হামলা চলে। এবার হামলা থেকে আর নিজেকে রক্ষা করতে পারলেন না, একদা রেল মাফিয়ার ডন শেষ হয়ে গেলেন পুরনো 'বন্ধু'দের হাতেই।












Click it and Unblock the Notifications