সিপিএম কি তিলক কেটে বৈষ্ণব হয়ে গেছে! সেই ‘কালো দিনে’র কথা মনে করালেন শোভনদেব
বিজেপিকে ছেড়ে ফের বামেদের টার্গেট করলেন রাজ্যের পরিষদীয়মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তিনি বামেদের পুরনো কুকীর্তির কথা তুলে ধরে কালো দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দিলেন। কংগ্রেস করার জন্য সিপিএম কতটা নৃশংস ও অমানবিক হয়ে উঠেছিল, তার নিদর্শন তিনি জানালেন তাঁর বক্তব্যে।

সবাই তিলক কেটে বৈষ্ণব হয়ে গেছে!
শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, বামনেতা সুজন চক্রবর্তী এক সময় ছাত্র পরিষদ করার জন্য কতটা নৃশংস হয়েছিলেন। এছ ছাত্র পরিষদ সদস্যকে বন্দে মাতরম বলার জন্য সারা গায়ে সিগারেটের ছ্যাঁকা লাগিয়ে দিয়েছিলেন। আর এদের এখনকার লাফানো দেখে মনে হয়, সবাই তিলক কেটে বৈষ্ণব হয়ে গেছে।

মানুষ কি সেসব ভুলে যাবেন!
বামেদের আমলেই কি না ঘটেছিল। সাঁইবাড়ি-কাণ্ড কি মানুষ ভুলে গিয়েছে? ছেলের রক্তমাখা ভাত মাকে খাইয়েছিল, কংগ্রেসকে ভোট দিয়েছিল বলে কান্দুয়ায় হাতের কব্জি থেকে কেটে নেওয়া হয়েছিল, গাছে বেঁধে মুখের ভিতর কইমাছ ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল। মানুষ কি সেসব ভুলে যাবেন!

কালো দিনগুলো ভুলে যাবেন না!
শোভনদেব তাই সাবধান করে বলেন, "বামেদের অমানবিকতা এবং সেই সাময়ের কালো দিনগুলো ভুলে যাবেন না। সামনে আবার একটা পঞ্চায়েত নির্বাচন আসছে। যাকে খুশি আপনারা ভোট দিয়ে জেতান। কিন্তু ভোটটা দিয়ে বাড়ি ঢুকে যাবেন না। খেয়াল রাখবেন জীবনের মান পাল্টে গেল কি না, চলাফেরা পাল্টে গেল কি না?

এইটুকু স্যক্রিফাইস করলে মানুষ ভালবাসবে
তিনি বলেন, পঞ্চায়েতের মেম্বার হওয়ার ক'দিন পরই বাড়ির চেহারা পাল্টাচ্ছে কি না, বাড়িতে নতুন গাড়ি ঢুকল কি না, এগুলো দয়া করে দেখবেন। আমি ২৪ বছর পার্টির প্রেসিডেন্ট হয়েও স্কুটার চালিয়েছি। আর আজকাল দেখি একটা পাড়ার প্রেসিডেন্ট সেও একটা গাড়ি করে ঘুরছে। কোথা থেকে আসে, কে দেয় এই টাকা। এইটুকু স্যক্রিফাইস করলে তবেই না মানুষ ভালবাসবে।

ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে চরিত্র নষ্ট করবেন না
পঞ্চায়েতের আগে কর্মিসভায় শোভনদেব বলেন, আমি চাইব আমার সহকর্মী বন্ধুরা যারা দীর্ঘ সংযমের মধ্য দিয়ে উঠে এসেছেন, কিন্তু ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে সেই চরিত্র নষ্ট করবেন না। আর সাধারণ মানুষের উদ্দেশে, আপনারা যাদের ভোট দিচ্ছেন তারা আপনার থেকে ক্ষমতা নিয়ে কী কী করছে, তার খেয়াল রাখতে হবে।

আপনারা আপনাদের কবর নিজেই খুঁড়বেন
শোভনদেব বলেন, আপনারা আমাকে জিতিয়েছেন, খেয়াল রাখুন আমি তোলাবাজি করছি কি না, আমি দুর্নীতি করছি কি না। তেমনই যাদের জেতাচ্ছেন তারা কী করছেন, সেদিকে নজর না দিলে আপনারা আপনাদের কবর নিজেই খুঁড়বেন। এভাবেই সাবধান করে দেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।

আমি ডিএ বিরোধী নই, কিন্তু...
তিনি ডিএ নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি পরিষ্কার করে বলেন, আমি ডিএ বিরোধী নই। কিন্তু ডিএ দিলে শুধু সরকারি কর্মীরা সেটা ভোগ করবেন, আর সরকারি প্রকল্পের সুবিধা সবাই পাবেন। সবাই এক সাথে আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন। তাই রাজ্য ডিএ নিয়ে যা সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটা আমি সমর্থন করি।












Click it and Unblock the Notifications