তৃণমূলে তাঁর অপরিহার্যতা ব্যাখ্যা শোভনের! পুরভোটের মুখে রাজ্য-রাজনীতি অন্য খাতে
তৃণমূলে তাঁর অপরিহার্যতা ব্যাখ্যা শোভনের! পুরভোটের মুখে রাজ্য-রাজনীতি অন্য খাতে
পুরভোটের মুখে রাজ্য রাজনীতিকে অন্য খাতে বইয়ে দিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। দীর্ঘ ১৮ মাস পরে মুখ খুলে কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র ব্যাখ্যা দিলেন, তিনি কতটা যোগ্য ছিলেন। মহাসাইক্লোন আম্ফানের তাণ্ডবের পর পুরসভার ব্যর্থতা তুলে ধরে একই সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপিকে দিলেন মোক্ষম বার্তা।

ঘুরিয়ে ফিরহাদকেই একহাত নিলেন শোভন
কলকাতা পুরসভায় শোভন চট্টোপাধ্যায় তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা দিয়ে এক মাইলস্টোন তৈরি করেছিলেন। সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের পর শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সক্রিয়তা অনস্বীকার্য ভালো ছিল কলকাতায় পুরসভার উন্নয়নে। শোভনের তৃণমূল থেকে অপসারণের পর সেই পদে বসেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। ঘুরিয়ে ফিরহাদকেই একহাত নেন শোভন।

কলকাতা পুরবোর্ডকে দায়ী করলেন শোভন
১৮ মাস পর মুখ খুলে শোভন বলেন, তিনি থাকলে এতটা খারাপ হত না কলকাতার পরিস্থিতি। আম্ফানের তাণ্ডবের পর চারদিন কেটে গেলেও কলকাতা স্বাভাবিক হল না, এজন্য পুরসভার ব্যর্থতাই দায়ী। নাম না করেই পুরমন্ত্রী তথা বর্তমান প্রশাসক ফিরহাদ হাকিমের দিকে তির ছুড়ে দেন তিনি। বলেন, এই পরিস্থিতিতে দায় এড়াতে পারেন না মেয়র বা প্রশাসক-কেউই।

মৌনতা ভেঙে শোভন দিলেন মোক্ষম জবাব
ন-মাস আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু তারপর থেকেই তিনি নীরব। তাঁর দ্বিতীয় অজ্ঞাতবাস শুরু হয়েছে বিজেপিতে যোগদানের পর। প্রথম দফায় তৃণমূল ছাড়ার আগে তিনি অজ্ঞাতবাসে ছিলেন ন-মাস, তারপর দ্বিতীয় অজ্ঞাতবাসও হয়ে গেল ন-মাস। কিন্তু শোভন মৌনতা অবলম্বন করেই কাটিয়ে দিলেন। এতদিনে তিনি তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরব হলেন।

সবথেকে যোগ্য কে, কড়া ‘বার্তা’য় বোঝালেন শোভন
শোভনবাবু তাঁর এই মন্তব্যে বুঝিয়ে দেন, তিনি কলকাতা পুরসভার মেয়র পদে অনেক যোগ্য। তাঁর অপসারণের পর পুরসভার মেয়র হয়েছেন ফিরহাদ হাকিম। তিনি তাঁর মতো চৌখসভাবে পুরসভা পরিচালনা করতে পারেননি বলে ব্যর্থতা তুলে ধরে বুঝিয়ে দেন। এরপর তিনি বিজেপির সুরে সুর মিলিয়ে বলেন আগে থেকেই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল রাজ্য তথা পুর প্রশাসনের।

ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের মোকাবিলায় ডাহা ফেল পুরসভা
শোভন বলেন, আম্ফানে কলকাতা পুরসভার ভূমিকা রোগী ভেন্টিলেশনে চলে যাওয়ার পর চিকিৎসা শুরু হওয়ার মতোই। পুরসভা আগে এতটা গুরুত্ব দিয়ে ভাবেনি ঘূর্ণিঝড় আম্ফানকে। আম্ফান তাণ্ডব চালিয়ে যাওয়ার পর পুরসভা কাজ শুরু করেছে। ততক্ষণে রোগী ভেন্টিলেশনে চলে গিয়েছে। পুরসভা এর গুরুত্বই বুঝতে পারেনি। তাই আমপানের মোকাবিলায় যা করণীয় ছিল, তা করতে পারেনি পুরসভা। কাজে ঘাটতি রয়ে গিয়েছে, যার ফল ভুগতে হচ্ছে কলকাতাবাসীকে।












Click it and Unblock the Notifications