তৃণমূলে ফিরতে মমতাকে শুধু বার্তা নয় শর্তও! শোভন তাল বুঝে ছাড়লেন মোক্ষম বাণ
তৃণমূলে ফিরতে মমতাকে শুধু বার্তা নয় শর্তও! শোভন তাল বুঝে ছাড়লেন মোক্ষম বাণ
শোভন চট্টোপাধ্যায় ন-মাস আগে বিজেপিতে গিয়েছেন। কিন্তু এখনও কোনও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পাননি তিনি। বিজেপিতে সক্রিয়ও হননি এই ন-মাসে। মাঝে তাঁর তৃণমূলে ফেরা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা বলে মনে হলেও, রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অন্ধকারেই রয়ে গিয়েছে শোভনের। এতদিন পর কি তিনি তৃণমূলের গুরুত্ব পাওয়ারই প্রয়াস শুরু করলেন?

মমতার প্রিয়পাত্র শোভনের লক্ষ্য
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বরাবর প্রিয়পাত্র শোভন। শোভন তাঁর কাছে কানন। কানন তো মুখ্যমন্ত্রীর ছায়াসঙ্গী হিসেবেই ছিলেন। কিন্তু সব ওলটপালট করে দিল শোভনের পারিবারিক কিসসা এবং ব্যক্তিগত সম্পর্ক। এতদিন পর সেসব ভুলে শোভন নিজেই ময়দানে নেমেছেন। তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে পোক্ত করাই এখন লক্ষ্য।

মমতাকে স্পষ্ট বার্তা, যোগত্যাই হোক মাপকাঠি
রাজনৈতিক মহল মনে করছে, শোভনের এই প্রয়াস মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলে ফেরার লক্ষ্যে। তবে তিনি চাইছেন তাঁর যোগ্যতা তুলে ধরে তৃণমূলে একটা পাকাপোক্ত জায়গা করে নিতে। কেননা আজকের কলকাতা দেখে তাঁর মন কাঁদছে। মমতাকে তাই তিনি বার্তা দিয়েছেন, সমালোচনা মানে কিন্তু শত্রুতা নয়।

শোভনের ভাষ্য রয়েছে ‘সন্ধি’র প্রস্তাবও
অর্থাৎ তিনি সন্ধির প্রস্তাব দিয়ে রেখেই তৃণমূলে তাঁর উত্তরসূরির দুর্বলতা তুলে ধরেছেন। রাজনৈতিক মহলের মত, বিজেপিতে সক্রিয় হতে তাঁর এসব করার কোনও দরকার নেই। কেননা বিজেপি মুখিয়ে আছে, তাঁকে জায়গা করে দিতে। কলকাতা পুরসভায় কোনও মুখ নেই বিজেপির। শোভন সক্রিয় হলে তিনিই হবেন মুখ, তিনিই হবেন বিজেপির মেয়র পদপ্রার্থী।

ফেরা হোক সম্মানের সঙ্গে এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে
সে বিচারে শোভনের যাবতীয় পদক্ষেপ তৃণমূলের ফেরার জন্য। এবং সে ফেরা হবে সম্মানের সঙ্গে এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে। সেই পথই পরিষ্কার করতে নেমেছেন তিনি। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তিনি তাঁর বার্তা দিয়েছেন। বার্তা দিয়েছেন ফের তৃণমূলে সক্রিয় হওয়ার। সেজন্যই বৈশাখীকে দিয়ে নয়, নিজেই তিনি ময়দানে নেমেছেন।

তৃণমূলের পুরবোর্ডকে ১৮ মাস পর বার্তা শোভনের
তবে ১৮ মাস পর তিনি প্রকাশ্যেই বলে দিলেন, তিনি থাকলে এতটা খারাপ হত না কলকাতার পরিস্থিতি। আম্ফানের তাণ্ডবের পর চারদিন কেটে গেলেও কলকাতা স্বাভাবিক হল না, এজন্য পুরসভার ব্যর্থতাই দায়ী। নাম না করেই পুরমন্ত্রী তথা বর্তমান প্রশাসক ফিরহাদ হাকিমের দিকে তির ছুড়ে দেন তিনি। বলেন, এই পরিস্থিতিতে দায় এড়াতে পারেন না মেয়র বা প্রশাসক-কেউই।

তৃণমূলের কলকাতা পুরসভাকে শোভনের কটাক্ষ
শোভন বলেন, রোগী ভেন্টিলেশনে চলে যাওয়ার পর চিকিৎসা শুরু হচ্ছে। পুরসভা আগে এতটা গুরুত্ব দিয়ে ভাবেনি ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের ভয়ঙ্করতাকে। আম্ফান তাণ্ডব চালিয়ে যাওয়ার পর পুরসভা কাজ শুরু করেছে। ততক্ষণে রোগী ভেন্টিলেশনে চলে গিয়েছেন। পুরসভা এর গুরুত্বই বুঝতে পারেনি। তাই আমপানের মোকাবিলায় যা করণীয় ছিল, তা করেনি পুরসভা। কাজে ঘাটতি রয়ে গিয়েছে, যার ফল ভুগতে হচ্ছে কলকাতাবাসীকে।

তৃণমূলের কাছে গুরুত্ব বাড়াতে উদ্যোগী শোভন
তিনি একইসঙ্গে বুঝিয়ে দেন, তৃণমূল যদি তাঁকে ফিরিয়ে নেন, তবে অনেক ভালোভাবে পুরসভা পরিচালনা করতে পারবেন। তিনি গুরুত্ব পেলে তবেই ফি্রবেন, এমন বার্তাও ছিল তাঁর অভিযোগে। আর বিজেপি যদি তাঁকে গুরুত্ব দেয়, তবে আসন্ন পুরসভা ভোটে তিনি তুরুপের তাস হয়ে উঠতে পারেন। সে পথ খোলাই রয়েছে। এখন তৃণমূলই যে তার কাছে পাখির চোখ, তা স্পষ্ট হচ্ছে তাঁর ‘আবেদনে'।












Click it and Unblock the Notifications