প্রশান্ত কিশোরের আপত্তিতে ফের হোঁচট খেলেন শোভন! তৃণমূলে ‘ঘরওয়াপসি’তে বাধা
প্রশান্ত কিশোরই কলকাঠি নাড়লেন! শোভন ফের হোঁচট খেলেন তৃণমূলে ‘ঘরওয়াপসি’তে
বিজেপিতে একবছর অজ্ঞাতবাস কাটিয়ে তৃণমূলে ফিরতে পারেন শোভন। দিনভর শোভন চট্টোপাধ্যায়ের তৃণমূলে প্রত্যাবর্তনের জল্পনার পর বিজেপি তৎপর হয়ে শোভনের সঙ্গে বৈঠক করেছে। তারপরই ছবিটা বদলে গেল নিমেষে। এখন প্রশ্ন, বিজেপির হঠাৎ তৎপরতা নাকি অন্য কোনও কারণেই তৃণমূলে ফেরার পথে ফের হোঁচট খেলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়!

শোভনের তৃণমূলে ফেরার সম্ভাবনা হোঁচট খেল
রাজনৈতিক মহলের একটা বড় অংশের ধারণা, শোভন চট্টোপাধ্যায়ের তৃণমূলে ফেরার সম্ভাবনা আরও একবার হোঁচট খেল টিম প্রশান্ত কিশোরের আপত্তিতে। প্রশান্ত কিশোর চাইছেন না, শোভন চট্টোপাধ্যায় তৃণমূলে ফিরুন। ফলে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের তৃণমূলে ফেরা নিয়ে যে জল্পনা শুরু হয়েছিল, তা অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যায়।

শোভনের তৃণমূলে ফেরা নিয়ে জল্পনা শুরু হতেই
সোমবার সকাল থেকেই শোভনের তৃণমূলে ফেরা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। রত্না চট্টোপাধ্যায়কে ১৩১ নম্বর ওয়ার্ডের সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পর থেকেই শোভনকে জল্পনার পারদ চড়ে। রাজনৈতির মহলের ধারণা ছিল, শোভনকে ফেরাতেই তৃণমূলের হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত।

রত্নার অব্যাহতি নিয়ে ধন্দের মাঝেই জল্পনা
শোভনকে নিয়ে জল্পনার মধ্যেই কিন্তু ধন্দ তৈরি হয়। প্রথমত দলের তরফে কোনও বিবৃতি দিয়ে রত্নাকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানানো হয়নি। তারপর রত্না চট্টোপাধ্যায়ও জানান, দলের তরফে কোনও বার্তা তাঁর কাছে আসেনি। সাধারণত তৃণমূল কংগ্রেস কাউকে দায়িত্ব থেকে সরালে দলের তরফ থেকে বিবৃতি দেওয়া হয়।

রত্নার দায়িত্বে অব্যাহতি, দাবি গুজবের
সংবাদমাধ্যমে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই জল্পনার পারদ চড়ে। এমনকী রত্না চট্টোপাধ্যায়ও সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর দলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে দল তাঁকে কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এটা দলের একাংশের তরফে গুজব ছড়ানো হয়েছিল বলে অভিযোগ তাঁর।

ওয়ার্ডে ফের কাজ শুরু রত্নার, জল্পনায় ইতি
দলের নির্দেশ পাওয়ার পর মঙ্গলবার ফের সক্রিয় রত্না। তিনি প্রতিদিনকার মতো এলাকায় নেমে কাজ করছেন, জনসংযোগ করেছেন। রত্না বলেন, দল আমাকে যা নির্দেশ দিয়েছে, তা করে যাব। শোভনবাবু বিজেপিতে যাওয়ার পর থেকেই এই ওয়ার্ডে আমি কাউন্সিলরের মতো কাজ করে যাচ্ছি। দলের নির্দেশ মেনে সংগঠন বাড়ানোর কাজ করছি।

শোভনের বাড়িতে মেনন, দাঁড়ি ঘরওয়াপসিতে
উল্লেখ্য, শোভনের তৃণমূলে ফেরার জল্পনার মধ্যেই সোমবার রাতে তাঁর বাড়িতে যান বিজেপির পর্যবেক্ষক অরবিন্দ মেনন। তিনি আড়াই ঘণ্টা বৈঠক করেন শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে। তাঁকে সক্রিয় হওয়ার বার্তা দেন। অরবিন্দ মেননের এই শোভনের বাড়িতে যাওয়া ভালো চোখে নেয়নি তৃণমূল নেতৃত্ব। তাই আবারও দাঁড়ি পড়ে যায় শোভনের ঘরওয়াপসির সম্ভাবনায়।

দু-নৌকায় পা দিয়ে চলা তৃণমূল ভালো চোখে দেখছে না
রাজনৈতিক মহল মনে করছে, শোভনের এই দু-নৌকায় পা দিয়ে চলা তৃণমূল ভালো চোখে দেখছে না। তাই মেনন তাঁর বাড়িতে যেতেই তৃণমূল দরজা বন্ধ করে দিল ফের। শোভনকে দলের একটা শ্রেণি ফিরে পেতে চাইলেও একটা শ্রেণির ঘোর আপত্তি রয়েছে। প্রশান্ত কিশোরও তাঁকে চাইছেন না বলেই ধারণা একাংশের।

শোভনের শর্তে ঘোর আপত্তি তৃণমূলের একাংশের
আসলে তৃণমূলের অন্য একটা অংশ শোভনকে চাইছে না। তার কারণ, শোভনকে তাঁরা কোনও শর্তসাপেক্ষে ফেরানো হোক চায় না। বিনা শর্তে শোভন যদি ফেরেন তো তাঁদের কোনও আপত্তি নেই। উল্লেখ্য, শোভনের অন্যতম শর্ত ছিল রত্নার সঙ্গে তিনি একমঞ্চে বসবেন না। তাই রত্নাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিলেই তিনি তৃণমূলে ভিড়বেন।

রত্নাকে মেনেই তৃণমূলে ফিরতে হবে শোভনকে
সেই কারণেই বিজেপিতে যোগ দেওয়ার দু-মাসের মধ্যে কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে ভাইফোঁটা নিয়ে এসেও শোভনের তৃণমূলে ফেরা হয়নি। বাধ সেধেছিল রত্না। রত্না কিছুদিন আগেও গর্বের সঙ্গে বলেছিলেন, তাঁকে মেনেই তৃণমূলে ফিরতে হবে শোভনকে। ঘরে ফিরলেই তিনি ফের প্রাসঙ্গিকতা ফিরে পাবেন রাজ্য রাজনীতিতে।

শোভনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অন্ধকারেই!
রত্না মনে করেন, শোভনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে গিয়েছে ঘর ছেড়ে। এই ঘর তাঁর জন্য যে স্বার্থত্যাগ করেছে, তা আর কেউ করবে না। তিনি এখন এত কনফিউজড যে, কোনও সিদ্ধান্তই নিতে পারছেন না। কোন ফুলকে বেছে নেবেন রাজনীতিতে গুরুত্ব ফিরে পেতে, সেটাই ভেবে পাচ্ছেন না শোভন!












Click it and Unblock the Notifications