শোভনের রাজনৈতিক উত্থান আপাতত সংশয়েই! রত্নার ‘শর্তে’র পর তাৎপর্যপূর্ণ ইঙ্গিতে জল্পনা
শোভন চট্টোপাধ্যায় ফের জল্পনা বাড়ালেন। ৪৮ ঘণ্টা আগে বিজেপির ডাক পেয়ে তিনি ২০ মাসের অজ্ঞাতবাস কাটাবেন বলে মনে হয়েছিল রাজনৈতিক মহলের।
শোভন চট্টোপাধ্যায় ফের জল্পনা বাড়ালেন। ৪৮ ঘণ্টা আগে বিজেপির ডাক পেয়ে তিনি ২০ মাসের অজ্ঞাতবাস কাটাবেন বলে মনে হয়েছিল রাজনৈতিক মহলের। তিনি শেষমেশ বিজেপিতে সক্রিয় হতে চলেছেন বলে খবর রটে গিয়েছিল। কিন্তু ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের পরিকল্পনা বৈঠকে তাঁর যোগদান নিয়ে সংশয রয়েই গেল।

শোভনের ইতিবাচক সাড়া বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ
২৭ জুলাই পর্যন্ত বৈঠকে শোভন যাবেন কি না পরের কথা, তবে রত্নার শর্তে যে শোভন রাজি হবেন না তার একটা আভাস তিনি দিয়ে দিলেন। তৃণমূলে যোগ দিতে তাঁর বাধা যে রত্নাই সেটা আবারও বুঝিয়ে দিলেন তিনি। কয়েকদিন আগে একটা সাক্ষাৎকারে রত্না জানিয়েছিলেন শোভনের তৃণমূলে ফেরার শর্ত। তারপর শোভনের বিজেপির বৈঠক নিয়ে ইতিবাচক সাড়া বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

শোভনের রাজনৈতিক উত্তরণ প্রসঙ্গে রত্না
রত্না শর্ত দিয়েছিলেন তৃণমূলে ফিরতে গেলে তাঁকে আগে ঘরে ফিরতে হবে। তবেই তাঁর দুয়ার খুলবে। কেননা তাঁর জন্য স্বার্থত্যাগ করেছে বলেই শোভনের রাজনৈতিক উত্তরণ। এখন তিনি রাজনৈতিকভাবে শেষ হয়ে গিয়েছেন। তাঁর কোনও ভবিষ্যতই দেখছি না। এখনও তিনি যদি বাড়ি ফেরেন তবে শেষরক্ষা হতে পারে। কেননা শোভন এক ভুলেই শেষ হতে বসেছে। বাড়ি ছাড়াই তাঁর সবথেকে বড় ভুল।

রাজনীতির থেকেও শোভনের গুরুত্বে
শোভনের উল্লেখ্য, তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে গিয়েও তিনি ফিরে পাননি গুরুত্ব। দিদির হাত স্নেহের কাননের মাথার উপর থেকে সরতেই তিনি যে অজ্ঞাতবাসে গিয়েছিলেন, পদ্ম-ছোঁয়াতেও তাঁর মুক্তি মেলেনি। এই অবস্থায় ফের শোভনকে একটা সুযোগ দিতে চাইলেন স্ত্রী রত্না। কিন্তু শোভন এখনও তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের থেকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তাঁর মিত্র-ধর্মকে।

বিজেপিতে এসেও শোভন সক্রিয় নন
তাই তিনি বান্ধবী বৈশাখী অপমানিত হন এমন কোনও জায়গায় যেতে চান না। বিজেপিতে গিয়ে তিনি যখনই দেখেছেন তাঁকে নিয়ে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করা হচ্ছে, তিনি সরে এসেছেন। ফের অজ্ঞাতবাসে ঢুকে গিয়েছেন। এক বছর হতে চলল বিজেপিতে এসেও তিনি সক্রিয় হননি।

ইঙ্গিতের পরও লক্ষণ ইতিবাচক নয়
এরই মধ্যে শোভন চট্টোপাধ্যায়কে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে চিঠি পাঠানো হয়। তাঁকে দলের বৈঠকে যোগদানের আর্জিও জানানো হয়। সেই চিঠি পেয়ে শোভন বৈঠকে যোগদানের আগ্রাহ প্রকাশ করেন বলে খবরে প্রকাশ। বৈশাখীও সক্রিয় হবেন বলে জানা যায়। কিন্তু পরবর্তী দুদিন কেটে গেলেও তার লক্ষণ এখনও অধরা।

কোন পথ বেছে নেবেন শোভন
শোভনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন বৈশাখীর উপরই নির্ভর করে আছে। বর্তমানে দু-জনেই বিজেপিতে সক্রিয় নন। বিজেপি চাইছে শোভনকে, কিন্তু বৈশাখীতে সে অর্থে নয়। বিজেপির এই বৈশাখীকে ব্রাত্য করে রাখাই শোভনের পথে বাধার প্রাচীর হয়ে দেখা দিয়েছে। ফলে শোভনের কাছে ফের সেই দুটি পথ তৈরি হয়ে গিয়েছে। এক পথে আছে বিজেপি, অন্য পথে বৈশাখী। এখন দেখার কোন পথ বেছে নেন শোভন।












Click it and Unblock the Notifications