মমতার সঙ্গে বৈঠকের পরেই সরকারি পদে শোভন, হলেন এনকেডিএর চেয়ারম্যান
প্রথমে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং গত বুধবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক। মমতার সঙ্গে সাক্ষাতের ৪৮ ঘণ্টা পরেই সরকারি পদে বসানো হলো শোভন চট্টোপাধ্যায়।
কলকাতার মেয়র ও রাজ্যের মন্ত্রীর পদে ইস্তফা দিয়ে যিনি ২০১৯ সালে বিজেপিতে গিয়েছিলেন। মমতার বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করেন। পরে বিজেপিতে মোহভঙ্গ হয়। অবশেষে ফের তৃণমূল কংগ্রেসের হয়েই সক্রিয় রাজনীতিতে নামার বড় ইঙ্গিত শোভনের সরকারি পদে বসা।

শোভন চট্টোপাধ্যায়কে নিউ টাউন কলকাতা ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (NKDA) চেয়ারপার্সন নিযুক্ত করা হয়েছে। আজ এই ঘোষণা হলো। যা সাত বছর পর তৃণমূলে ফেরার ইঙ্গিত বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন এই পদে প্রাক্তন মুখ্য সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্থলাভিষিক্ত হলেন।
NKDA কলকাতার পার্শ্ববর্তী নিউ টাউনে নাগরিক পরিষেবা প্রদান করে থাকে। মমতার সঙ্গে বুধবার বৈঠক হয়েছিল শোভনের। গত মাসে শোভন দেখা করেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচনে শোভন প্রার্থীও হতে পারেন বলে তৃণমূলে চর্চা শুরু হয়েছে।
তৃণমূলের শুরুর দিনগুলিতে মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন শোভন। বিজেপির প্রতি মোহভঙ্গ হওয়ার পর অনেকবারই শোভনের তৃণমূলে ফেরা নিয়ে জল্পনা চলেছে। শোভন মমতার কাছে ভাইফোঁটাও নিতে গিয়েছেন। এনকেডিএ-র শীর্ষপদে শোভনকে বসানো তৃণমূলে তাঁর আনুষ্ঠানিক পুনর্বহালের আগে একটি 'সফট লঞ্চ' হিসেবে দেখা হচ্ছে।
একজন সিনিয়র তৃণমূল নেতা বলেছেন, "এটি শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ইঙ্গিত যে, শোভন চট্টোপাধ্যায়কে মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। শাসন এবং নগর ব্যবস্থাপনায় তাঁর অভিজ্ঞতা অত্যন্ত মূল্যবান হবে।" ২০১০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত কলকাতার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করা শোভন চট্টোপাধ্যায় এক সময় তৃণমূলের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা ছিলেন এবং মুখ্যমন্ত্রীর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য লেফটেন্যান্ট হিসেবে বিবেচিত হতেন। তাঁর ইস্তফার পর, ফিরহাদ হাকিমকে তাঁর অধিকাংশ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে, শোভনের সঙ্গে বৈশাখীও তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন বলে জানা গিয়েছে। শোভনের স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায় তৃণমূলের বিধায়ক। সম্প্রতি বিচ্ছেদ সংক্রান্ত মামলায় তাঁর সঙ্গে শোভনের জোর চাপানউতোর চলেছে। এই পরিস্থিতিতে রত্না কী পদক্ষেপ করেন সেটাও দেখার। বিজেপি নেতা সজল ঘোষ ফেসবুকে কটাক্ষ ছুড়ে লিখেছেন, শোভন এলো ঘরে, দেখি রত্নাদি কী করে, দিদি কারোর না।












Click it and Unblock the Notifications