বিজেপির প্রার্থী হবেন শোভন! বড় পদ প্রাপ্তি ছাড়াও এবার নয়া জল্পনা একুশের লক্ষ্যে
বিজেপির প্রার্থী হচ্ছেন শোভন! বড় পদ প্রাপ্তির সঙ্গে আরও এক জল্পনা একুশের আগে
শোভন চট্টোপাধ্যায়ের তৃণমূলে ফেরার আশা একেবারেই ক্ষীণ হয়েছে। এবার তিনি বিজেপিতেই সক্রিয় হবেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। শোভনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে এই জল্পনার মাঝেই আরও এক সম্ভাবনার ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। তিনি এবার বিজেপিতে বড় পদ পেতে পারেন বলে জল্পনা শুরু হয়েছে। আবার শোভন হতে পারেন বেহালা পূর্বের বিজেপি প্রার্থীও।

মেননের সাক্ষাতের পর শোভন
শোভন চট্টোপাধ্যায়েরই নির্বাচনী ক্ষেত্র ওই বেহালা পূর্ব। তিনি এখনও খাতায়-কলমে বেহালা পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক। কিন্তু তিনি বিজেপিতে নাম লিখিয়েছেন, যদিও এক বছর পদ্মশিবিরে থাকলেও তিনি সক্রিয় হননি দলের কোনও কর্মসূচিতে। সম্প্রতি বিজেপির সহ পর্যবেক্ষক অরবিন্দ মেননের সাক্ষাতের পর শোভন বিজেপিতে সক্রিয় হওয়ার বার্তা দিয়েছেন।

বিজেপির টিকিট কোন কেন্দ্রে
তারপর থেকেই রাজ্য রাজ্যনীতেতে জল্পনা তৈরি হয়েছে, শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বিজেপিতে বড় কোনও পদ দেওয়া হতে পারে। কিংবা বড় কোনও পোস্টের জন্যও ভাবা হচ্ছে তাঁর নাম। সেইসঙ্গে জল্পনার বাতাবরণ তৈরি হয়েছে বেহালা পূর্ব কেন্দ্র থেকে তিনি বিজেপির টিকিট পেতে পারেন। যে এলাকায় তিনি প্রথম দিন থেকে রাজনীতি করে চলেছেন, সেই ক্ষেত্রেই তিনি নতুন জার্সিতে ময়দানে নামতে পারেন।

প্রাথমিক কথাবার্তায় সদর্থক
রাজনৈতিক মহলের একাংশ জানিয়েছে, বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর প্রাথমিক কথাবার্তা হয়েছে। অরবিন্দ মেনন সেদিন রাতচের বৈঠকে শোভনের সঙ্গে ফোনে কথা বলিয়ে দিয়েছিলেন বঙ্গ বিজেপির পর্যবেক্ষক কৈলাশ বিজয়বর্গীয়র। তখনই তাঁদের মধ্যে এ ব্যাপারে প্রাথমিক কথাবার্তা হয়। শোভনও এরপর সংবাদমাধ্যমে বিজেপিতে সক্রিয় হও.য়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

ভোট অঙ্কে বার্তা শোভনের
শোভন বলেছেন, সম্প্রতি বাংলায় বিজেপির ভোট বেড়েছে। বিজেপি বাংলায় প্রায় ৪০ শতাংশের সমর্থন পেয়েছে। মানুষ সব কিছুই দেখছে। সব দেখেই তাঁরা সিদ্ধান্ত নেবেন। পরিবর্তন না প্রত্যাবর্তন- এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সময়ই সব উত্তর দেবে। এত তাড়াতাড়ি কেন। করোনা কাটলেই তিনি কী করবেন, তা স্পষ্ট করে দেবেন।

সব মুখোশ খুলে দেব!
আর তিনি যে তৃণমূলের প্রতি বৈরাগ্যভাজন হয়েছেন, তার প্রমাণও মিলেছে তাঁর কথায়। তিনি বলেন, করোনা কাটতে দিন। আমি সব মুখোশ খুলে দেব। অর্থাৎ তাঁর কথায় হুঁশিয়ারিও ধরা পড়েছে। তিনি তৃণমূলের একাংশের প্রতি ক্ষুব্ধ। সময়ই বলবে তিনি কার মুখোশ খুলে দেন আর রাজ্য রাজনীতিতে তিনি কীভাবে, কোন দলে সক্রিয় হয়ে ওঠেন।

বৈশাখীর সঙ্গে দুর্ব্যবহারই দায়ী
শোভন চট্টোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে টানাপোড়েন চলছে দীর্ঘ এক বছর ধরে। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরও পেন্ডুলামের মতো ঘুরপাক খেয়েছে তাঁর গতিবিধি। কখনও তিনি তৃণমূলে, কখনও অন্তরালে। বিজেপিতে গিয়েও তিনি বিজেপিতে সক্রিয় হননি। এতদিন পর তিনি স্পষ্ট করেছেন বৈশাখীর সঙ্গে দুর্ব্যবহারই তাঁকে সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে।

মেননের সঙ্গে কথাবার্তা সদর্থক
বিজেপি সবসময় তাঁকে সক্রিয় করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু শোভন ধরা দেননি। তিনি বরং ঝুঁকেছিলেন তৃণমূলের দিকে। তবে সম্প্রতি বৈশাখীর সঙ্গে তৃণমূলের মিটমাট না হওয়া, তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর বিরক্ত ছিলেন শোভন। তাই পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে তিনি কথা বলতে চাননি। তারপর মেননের সঙ্গে সম্প্রতি তাঁর কথাবার্তা সদর্থক হয়েছে বলেই শোভন এখন ঝুঁকেছেন বিজেপির দিকে, মনে করছে রাজনৈতিক মহল।












Click it and Unblock the Notifications