বিজেপির জোট শরিক এখন সিবিআই-ইডি, রুজিরা কাণ্ডে শাসক-বিরোধী তরজা তুঙ্গে
'বিজেপির সব জোট শরিক ছেড়ে চলে যাচ্ছে। অকালি দল ছেড়ে গিয়েছে। শুধুমাত্র সিবিআই আর ইডির জোট রয়েছে। রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলকে ক্রমাগত ধমকি ও চাপে রাখার জন্য এই জোটকে কাজে লাগাচ্ছে বিজেপি। যে নোটিস জারি করা হয়েছে, তার আইনত মোকাবিলা করা হবে।' গতকাল কয়লা পাচারকাণ্ডে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রীকে সিবিআইয়ের নোটিস দেওয়ার প্রসঙ্গে এমনই মন্তব্য করলেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়।

প্রশ্ন তুলেছেন সুজন চক্রবর্তী
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে সিবিআই হানা মোটেই অস্বাভাবিক নয়, বলছেন এ রাজ্যে বিরোধীরা। রবিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হরিশ মুখার্জি রোডের বাড়িতে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা নোটিশ দিয়ে আসে তাঁর স্ত্রীর নামে। কয়লা পাচারে বেআইনি টাকার হদিশ জানতে চায় সিবিআই। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে সেইসময় নিরাপত্তারক্ষীরা ছিলেন। সমগ্র ঘটনায় মোটেই আশ্চর্য নয় বলে দাবি করেছেন এ রাজ্যের বিরোধী দলের নেতারা। এমন ঘটনা যে কেন আগে ঘটেনি সেই প্রশ্ন করেছেন বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী।

'অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে সিবিআই হানা নতুন কিছু নয়'
নির্বাচন দোরগোড়ায়, এই সময় সিবিআই থানার পেছনে উদ্দেশ্য রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীরা। সুজন চক্রবর্তী বলেছেন, 'অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে সিবিআই হানা নতুন কিছু নয়। সকলেই জানেন গরু, বালি, কয়লা, সোনা, পাচারের এত টাকা কোথায় যাচ্ছে। বেআইনি সম্পদ জমছে কোথায়?'

পুলিশ মন্ত্রীর উচিত ছিল তদন্ত করানো
তিনি আরও বললেন, 'মাঝরাতে আসানসোলের দিক থেকে আসা কালো কাচে ঘেরা গাড়ি কালীঘাটের কোন ঠিকানায় যায়, কী নিয়ে যায়, রাজ্য পুলিশ সব জানত। পুলিশ মন্ত্রীর উচিত ছিল তদন্ত করানো। তদন্ত করেননি পুলিশ মন্ত্রী। পুলিশ মন্ত্রীর অপদার্থতার জন্য সিবিআই সুযোগ পেল। রাজ্য পুলিশ তদন্ত করে ধামা চাপা দিয়েছে। গত কয়েক বছরে যে তদন্ত হতে পারত তা না হওয়ার জন্যই সিবিআই এ বার তদন্ত করছে। কিন্তু সিবিআই তদন্ত এত পরে কেন? ভোটের মুখে মনে পড়ে গেল? ভোটের সময়। এতদিন সিবিআই কোথায় ছিল ? অপরাধীদের সনাক্ত করতে হবে। কার অ্যাকাউন্টে টাকা যাচ্ছে জানতে হবে।'

কালীঘাটে ৩৫টা বাড়ি কোন টাকায় কেনা হয়েছে?
এদিন তিনি আরও অভিযোগ করেন, 'কালীঘাটে ৩৫টা বাড়ি কোন টাকায় কেনা হয়েছে তাও জানতে হবে। কোনও রাজনৈতিক মনোভাবের সঙ্গে তদন্ত না-করে সঠিক তদন্ত হোক। সিবিআই যেন কোনও সুযোগ না-নেয়। অপরাধী ধরা পড়ুক। রাজনীতি নিয়ে ব্যবসা যাঁরা করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।'

'গট আপ গেম'
রাজ্যের বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন, 'সমগ্র বিষয় গট আপ গেম। তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে বিরোধিতা মিছিমিছি দেখানোর জন্য সিবিআইয়ের এই খেলা। বামফ্রন্ট-কংগ্রেস আইএসএফ জোটকে ভয় পেয়েছে বিজেপি। তাই এমন লোক দেখানো তদন্ত করছে। সবটাই গড়াপেটা।'












Click it and Unblock the Notifications