সংসদে ধনখড়কে অপসারণের সৌগতের দাবিকে ওড়ালেন মোদী! কোথায় কী বলতে হয় জানেন না, কটাক্ষ বিজেপির
সংসদে ধনখড়কে অপসারণের অভিযোগ জানালেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়
রাজ্যপাল জাগদীপ ধনখড়কে টুইটারে ব্লক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাত বলা যায় এখন চরম পরিস্থিতিতে। রাষ্ট্রপতি থেকে প্রধানমন্ত্রী সবার কাছে তৃণমূল কংগ্রেস গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালকে অপসারণ করার কথা সোজাসুজি বলছে। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এই কথা জানিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতিকে। বর্ষীয়ান তৃণমূল সাংসদ এই কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। কিন্তু নরেন্দ্র মোদীকে তা প্রায় হালকা চালে উড়িয়ে দিয়েছেন।

সৌগত রায় জানিয়েছেন, 'বাজেট অধিবেশনের পর আমরা সাক্ষাৎ করেছিলাম। প্রধানমন্ত্রী তখন সকলের সঙ্গে ঘুরে ঘুরে কথা বলছিলেন। সেইসময়ে আমি দেখা করে বলি, আমরা এই রাজ্যপালকে চাই না। তাঁকে অপসারণ করা হোক।' তৃণমূল সাংসদের এই নালিশের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আগে আপনি অবসর নিন, তারপর দেখব।'রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট রাজ্যপাল ধনখড়কে সরানোর কোনও মনোভাবই নেই কেন্দ্রের। একপ্রকার বর্ষীয়ান নেতাকে এক্ষেত্রে তাচ্ছিল্যই করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
সংসদ ভবনে ২০২২-২৩ অর্থবর্ষের প্রস্তাবিত বাজেট পেশের পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা হয়েছিল তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়ের। প্রথমে পরস্পর সৌজন্য বিনিময় হয়। তারপরই প্রধানমন্ত্রীর কাছে রাজ্যপালের নামে নালিশ জানান সৌগত। তিনি বলেন, 'এই রাজ্যপালকে সরানোর ব্যবস্থা করুন। তা না হলে ওনার কার্যকলাপে রাজ্য চালানো মুশকিল হয়ে যাচ্ছে।'
তবে কী তাঁকেই রাজ্যপাল করার ইঙ্গিত দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী? সৌগতবাবু বলেন, 'সেটা তো বলা সম্ভব নয়।' এই প্রসঙ্গে সৌগতবাবু আরও বলেন, 'তবে ওনার কথার ভাবটা এমন যে আমি অবসর নিলে হয়ত আমাকে ওই পদে বসানোর কথা ভাববেন।' রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা এই বিষয়টা সম্পূর্ণ ভাবেই বাংলার কথাকে উড়িয়ে দেওয়ার চোখেই দেখছেন।
এর আগে গত সোমবার বাজেট অধিবেশনের শুরুতে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের কাছে রাজ্যপালকে নিয়ে নালিশ জানিয়েছিলেন লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর প্রস্তাবিত বাজেট পেশের দিনও এই একই অভিযোগ জানানো হল তৃণমূলের তরফে। জানা যাচ্ছে, রাজ্যপালকে সরানোর তৃণমূলের ওই প্রস্তাবে সমর্থন করতে পারে কংগ্রেস, এনসিপি সহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলি।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়কে টুইটারে ব্লক করার পর বিধায়ক মদন মিত্র, সাংসদ ডেরেক ও' ব্রায়েনও টুইটারে রাজ্যপালকে ব্লক করে দেন। এরপর রাজ্যপাল টুইট করে লেখেন, 'রাজ্যের বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয়ে রাজ্যপালকে জানানো মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। কেন রাজ্য সরকার দু' বছর ধরে কোনও তথ্য রাজ্যপালকে জানাচ্ছে না, তাও টুইটারে জানতে চান রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। পরে আরও বলেন, 'সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে আলোচনা এবং সম্প্রীতিই গণতন্ত্রকে তুলে ধরে এবং সেই সঙ্গে সংবিধানের গুরুত্বকেও তুলে ধরে। এটি পারস্পরিক সম্মান এবং শ্রদ্ধার মাধ্যমে হবে'।












Click it and Unblock the Notifications