খুনের পর শাড়ি বদলে পরিজনদের সঙ্গে কান্না জুড়েছিল ‘খুনি’ও! পুলিশি জেরায় পর্দা ফাঁস
শ্বশুরবাড়ি থেকে প্রায় ঘর জমাই থাকতে বলত। কিন্তু রাজি হননি বীরভূমের আদরি গ্রামের হান্নান। কিন্তু তার জন্য এমন খেসারত দিতে হবে- সেও কি ভেবেছিল।
শ্বশুরবাড়ি থেকে প্রায় ঘর জমাই থাকতে বলত। কিন্তু রাজি হননি বীরভূমের আদরি গ্রামের হান্নান। কিন্তু তার জন্য এমন খেসারত দিতে হবে- সেও কি ভেবেছিল। শ্বশুর বাড়িতে উঠে যেতে রাজি না হওয়ায় কি না খুন হতে হল মাকে। কেউই বুঝতে পারেনি, কেন এই রক্তারক্তি-কাণ্ড ঘটে গেল, সবাই ভেবেছিল ডাকাত পড়েছে। কিন্তু পুলিশ জেরা শুরু করতেই সব সত্যি সামনে এসে গেল এবার।

হান্নান পেশায় ফল বিক্রেতা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় যখন সে ফল বিক্রি করছিল বাজারে, তখনই খবর যায় তাঁর মা খুন হয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে ছুটে আসেন। ঘরে তো শুধু স্ত্রী ও মা। স্ত্রীর কাছেই শোনেন বাড়িতে ডাকাত পড়ার গল্প। স্বভাবতই ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। শুরু হয় জেরা।
জেরা শুরু হতেই একে একে সব ঘটনা সামনে চলে এল। জানা যায়, সন্ধ্যায় যখন নামাজ পড়ছিলেন হান্নানের মা কেরিমা বিবি। তখনই শাবল দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করেন পুত্রবধূ নাসিরা। কেরিমা বিবি অজ্ঞান হয়ে লুটিয়ে পড়তেই ফাঁকা ঘরে অপারেশন চালায় সে। হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে খুন করে শাশুড়িকে।
অভিযোগ, রক্তমাখা শাড়ি ছেড়ে পরিজনদের সঙ্গে কান্না জুড়ে দেন তিনি। এবং গল্প সাজান বাড়িতে ডাকাত পড়ার। দুষ্কৃতীরা তার শাশুড়িকে খুন করেছে বলে জানায় নাসিরা। পুলিশি জেরায় নাসিরা জানায়, ঘর জামাই থাকতে রাজি হয়নি তার স্বামী, সেই রাগেই সে খুন করেছে শাশুড়িকে। হান্নান বলেন, আমার শ্বশুর-শাশুড়ি আমাকে তাপ দিত ঘরজামাই থাকার জন্য। নাসিরাও সব সম্পত্তি বেচে ঘরজমাই থাকতে বলেছিল।
হান্নান আরও বলেন, আমি রাজি হইনি। আমার মাও রাজি ছিল না। তার জন্য এত বড় ঘটনা ঘটে যাবে ভাবতে পারিনি। প্রতিবেশীরা জানান, নিত্যদিন হান্নান ও নাসিরার অশান্তি লেগে থাকত। ২০১৪ সালে তাদের বিয়ে হয়েছিল। তখন থেকেই ঘরজামাই থাকা নিয়ে দুই পরিবারের দ্বন্দ্ব ছিল।












Click it and Unblock the Notifications