সাংসদ পদে ইস্তফা সোমেনের, মমতার শাসনকে তুলনা করলেন নাৎসি জার্মানির সঙ্গে

তিনি যে তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়ছেন, তা অনেক আগে বলেছিলেন সোমেন মিত্র। এদিন লোকসভার স্পিকার মীরা কুমারের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন। পরে সাংবাদিকদের বলেন, "সিপিএম এ রাজ্যে দলতন্ত্র কায়েম করেছিল। মানুষ তাই পরিবর্তন চেয়েছিলেন। পরিবর্তনের পর দেখা গেল, দলতন্ত্রের বদলে কায়েম হয়েছে ব্যক্তিতন্ত্র। একজনের কথা সব কিছু হচ্ছে। কোনও গণতন্ত্র নেই।" ইঙ্গিতে পরিষ্কার, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধেছেন সোমেনবাবু। তাঁকে 'স্বৈরাচারী' বলে খোঁচা দিয়েছেন।
সোমেনবাবু আরও বলেছেন, "তৃণমূল কংগ্রেস এখন এমন একটা দল হয়ে উঠেছে, যেখানে কেউ বিরোধীদের বলছেন, চামড়া গুটিয়ে দেব। কেউ বলছেন হাত কেটে দেব, পা কেটে দেব। কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। নাৎসি জার্মানিতে এ সব চলত। বাংলাতে তেমনটাই চলছে। এই পরিস্থিতিতে আমার পক্ষে দলে থাকা সম্ভব নয়।"
সোমেনবাবুর মন্তব্যে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা তথা শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, "এতদিন পর তাঁর মনে হল যে, তৃণমূল কংগ্রেসে গণতন্ত্র নেই! আগে এটা বোঝেননি কেন? আসলে পাঁচ বছর ধরে সাংসদ থেকে সব সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন, এখন সুযোগ বুঝে সরে পড়ছেন। উনি দলের ভালো সময়ে এসেছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দয়ায় সাংসদ হয়েছিলেন। নিজের যোগ্যতায় ওঁর সাংসদ হওয়ার ক্ষমতা নেই। যদি এত বড় নেতা হবেন, তা হলে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে জিতে দেখান!"
এদিকে, ২১ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসে যোগ দেবেন সোমেন মিত্র। এ ব্যাপারে কংগ্রেস সাংসদ অধীররঞ্জন চৌধুরীর প্রতিক্রিয়া, "কংগ্রেসের বাঘ ঘরে ফিরছেন। এর ফলে দল চাঙ্গা হবে। ওঁকে পেলে কর্মীদের মনোবল বাড়বে।"












Click it and Unblock the Notifications