একুশের মঞ্চে বিজেপি থেকে তৃণমূলে ফিরবেন একাধিক বড় নেতা
একুশের মঞ্চে বিজেপি থেকে তৃণমূলে ফিরবেন একাধিক বড় নেতা
সামনেই একুশে জুলাই। তৃতীয়বারের জন্য বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর শহিদ দিবস পালন করতে চলেছে তৃণমূল। এবছর করোনার জেরে ধর্মতলায় বিরাট সভার আয়োজন না থাকলেও চমকের অভাব থাকছে না। সূত্রের খবর, একুশে জুলাইয়ের মঞ্চেই থাকতে পারেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, সব্যসাচী দত্ত এবং অঞ্জনা বসুর মতো বিজেপির একধিক মুখ৷

একুশে জুলাই মমতার সর্বভারতীয় পরিচিতি তৈরির প্রচেষ্টা
এমনিতেই এবছর একুশে জুলাই নিয়ে একাধিক পরিকল্পনা করেছে রাজ্যের শাসকদল। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, একুশের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর দেশে মোদী বিরোধী প্রধান মুখ মমতাই। সেই দলনেত্রীকে জাতীয় স্তরের একজন নেত্রী হিসেবে তুলে ধরতে কোমর বেঁধে নেমেছে ঘাসফুল শিবির। উত্তরপ্রদেশে দলীয় কার্যালয় খুলেছে তারা। জানা গিয়েছে, দিল্লি, পাঞ্জাব, গুজরাটেও এবার ছড়িয়ে পড়বে 'দিদি'র বার্তা। একুশে জুলাই মমতার ভাষণের সম্প্রচার হবে মোদীর গড় গুজরাটে।

বড় চমক বাংলাতেও!
তবে সবচেয়ে বড় চমক হয়ত থাকবে বাংলার মাটিতেই। একুশের নির্বাচনের আগে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যাওয়া দুই হেভিওয়েট নেতাদের দেখতে পাওয়া যাবে শাসকদলের মঞ্চে। সূত্রে খবর, রাজ্যের প্রাক্তন বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিধাননগরের দাপুটে নেতা সব্যসাচী দত্ত দু'জনেই উপস্থিত থাকবেন একুশের মঞ্চে। তবে, শুধু রাজীব-সব্যসাচী নন। জল্পনা, সোনারপুরের বিজেপি প্রার্থী তথা অভিনেত্রী অঞ্জনা বসুও ওইদিনই যোগ দেবেন তৃণমূলে।

সব্যসাচী-রাজীবের মুকুল ঘনিষ্ঠতা!
বিজেপির হাঁড়ির খবর যাঁরা রাখেন, তাঁরা সকলেই জানেন যে, রাজীব-সব্যসাচী এঁরা মুকুল রায় ঘনিষ্ঠ৷ প্রত্যেককেই বিধানসভা নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছিল দল। কিন্তু গেরুয়া শিবিরের আশাপূরণে ডাহা ফেল প্রত্যেকেই। ভোটের ফলপ্রকাশের পর কাউকেই পাওয়া যায়নি প্রকাশ্যে। সব্যসাচী-অঞ্জনা দু'জনেই মুখে কুলুপ এঁটে বসে থেকেছেন৷ রাজীব আবার সরাসরি বিরোধিতাই করেছেন দলের৷ শুভেন্দু অধিকারী সহ রাজ্য বিজেপির একাধিক পদক্ষেপ নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন তিনি। বিরোধিতা করেছেন শুভেন্দুর মমতাকে আক্রমণের বিষয়টি নিয়েও৷

কী বার্তা দিতে চাইছে তৃণমূল
একুশের আগে কৈলাশ বিজয়বর্গী-মুকুল রায় জুটি তৃণমূলে ভাঙন ধরিয়েছিল। ব্লক থেকে রাজ্য স্তরের এমনকি দ্বিতীয় মমতা সরকারের মন্ত্রীরাও তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে পা রেখেছিলেন৷ একুশের ভোটের মুখে এভাবেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছিলেন মোদী-শা জুটি। বিজেপির আশা ছিল এদের দিয়েই সরকার গড়া যাবে৷ কিন্তু এতে উল্টো ফল হয়েছে। আরও বড় সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় ফিরেছে তৃণমূল। এবং তারপর থেকে বঙ্গ-বিজেপিতে ভাঙন ধরিয়ে এবার মোদী-শাহের চ্যালেঞ্জের জবাব দিচ্ছেন মমতা৷

কী বলছে বিজেপি?
যতই রাজীব-সব্যসাচীদের তৃণমূলে ফেরার জল্পনা জোরদার হচ্ছে বঙ্গ-বিজেপিও যেন ততটাই সাবধানী হয়ে উঠছে৷ বঙ্গ-বিজেপির একধিক নেতার বক্তব্য এসব আসলে জল্পনায়। রাজীব সব্যসাচীরা দলেই থাকছেন। এখন দেখার এটাই জল্পনা সত্যি হয় নাকি বঙ্গ-বিজেপির আত্মবিশ্বাস!












Click it and Unblock the Notifications