এসি গাড়ি ছাড়ুন, রোদে ঘুরুন, সিপিএম অফিসে পোস্টার বিক্ষুব্ধ পার্টিকর্মীদের

লোকসভা ভোটে একদা বামদুর্গ পশ্চিমবঙ্গে শোচনীয় ফল হয়েছে সিপিএমের। দু'টি আসন নিয়ে তাদের সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। ২০০৯ সালের লোকসভা ভোটেও যেখানে বর্ধমান-দুর্গাপুর, বর্ধমান পূর্ব, আসানসোল, বাঁকুড়া, আরামবাগ ইত্যাদি আসনে ভালো ব্যবধানে জিতেছিল সিপিএম, সেখানে এ বার এই আসনগুলি খুইয়েছে তারা। আর এ জন্য বিভিন্ন কারণের পাশাপাশি নেতাদের একাংশের বৈভবপূর্ণ জীবনযাত্রাই দায়ী বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ মুখে সর্বহারা খেটে খাওয়ার মানুষের কথা বললেও বড় বড় নেতারা বিলাসব্যসনে ডুবে, এখনও!
বাঁকুড়া জেলা পার্টি অফিসে যে পোস্টার পড়েছে, সেখানে বলা হয়েছে বামপন্থী আদর্শ মেনে জীবনধারণ করতে হবে। এসি গাড়ি ছেড়ে বাসে যাতায়াত করতে হবে। "এসি গাড়ি ছাড়ুন, রোদে ঘুরুন", পরিষ্কারভাবে পোস্টারে লিখে দেওয়া হয়েছে। আরও বলা হয়েছে, সিপিএমের বড় বড় নেতারা আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে নিরাপদ আশ্রয়ে বসে দলকে সংগঠিত করার কথা বলেন। অথচ যেখানে শাসক দলের গুন্ডাদের হামলায় পার্টিকর্মীরা ঘরছাড়া, তাঁদের মাঝে একবারও যান না। হুমকি দিয়ে পোস্টারে বলা হয়েছে, "কমিউনিস্ট পার্টিতে থাকতে হলে কমিউনিস্ট-সুলভ আচরণ করতে হবে।"
পোস্টারের বিষয়টি নজরে আসতেই সেইগুলি তড়িঘড়ি সরিয়ে দেওয়া হয়। বাঁকুড়া জেলার সাধারণ সিপিএম কর্মীরা বলছেন, নেতাদের ঘোরাঘুরির জন্য আটটি এসি গাড়ি ভাড়ায় খাটে। এ জন্য ফি মাসে গড়ে আড়াই লক্ষ টাকা খরচ হয়। পার্টির সদস্যদের দেওয়া লেভি থেকে এই টাকা আসে। অথচ শাসক দলের সন্ত্রাসের জেরে যে গরিব পার্টিকর্মীরা ঘরছাড়া, তাঁদের ভরণপোষণে টাকা ব্যয় করা করা হয় না। এর যৌক্তিকতা কী, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পার্টিকর্মীরা। পোস্টারে প্রকাশ কারাত, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এবং বিমান বসুর পদত্যাগের দাবি জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, এঁরা জনবিচ্ছিন্ন। রাস্তায় নেমে আন্দোলন করার চেয়ে ঠান্ডা ঘরে বসে থাকতেই পছন্দ করেন।
বাঁকুড়া জেলা সিপিএমের সম্পাদক অমিয় পাত্র তাঁর কার্যালয়ে যে ঘরে বসেন, সেইটি বাতানুকূল। এ নিয়েও কানাঘুষো শুরু হয়েছে বিস্তর। অবশ্য অমিয়বাবুর মন্তব্য, "আমার কাছে অনেক মানুষ আসেন। তাঁদের সুবিধার কথা ভেবে এসি লাগানো হয়েছে। আমি যখন একা থাকি, তখন এসি চালাই না।" পোস্টারের বিষয়ে তিনি বলেন, "ক্ষোভ থাকলে কর্মীরা আমাকে সরাসরি বলতে পারতেন। এভাবে প্রকাশ্যে বলাটা আমাদের দলের নিয়মবিরুদ্ধ।" এই বিক্ষুব্ধ পার্টিকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা অবশ্য অমিয়বাবু জানাননি।
সিপিএমের এমন ছন্নছাড়া দশা দেখে বিঁধতে ছাড়েনি বিরোধীরা। বাঁকুড়া আসনে যিনি বিজেপি টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, সেই সুভাষ সরকার বলেছেন, "আগে সিপিএম মানুষের স্বার্থে আন্দোলন করত, এটা ঠিক। কিন্তু সে সব এখন ইতিহাস। তাই ওদের ওপর আর আস্থা নেই সাধারণ মানুষের। দিনে দিনে বিজেপি-ই তাই বিকল্প শক্তি হয়ে উঠছে।" বাঁকুড়া জেলার তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অরূপ চক্রবর্তী বলেন, "মানুষ ওদের পাশ থেকে সরে গিয়েছে। এখন সাচ্চা কর্মীরাও সরে যাচ্ছে। এর পর শুধু ফাঁকা পার্টি অফিসটাই পড়ে থাকবে।"












Click it and Unblock the Notifications