আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য: কমিশনের রিপোর্টে ‘কুখ্যাত দুষ্কৃতী’র তালিকায় তৃণমূলের একাধিক মন্ত্রী-বিধায়ক!
ভোট পরবর্তী হিংসা মামলাতে ইতিমধ্যে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দিয়েছে মানবাধিকার কমিশনের তৈরি কমিটি। পঞ্চাশ পাতার একটি রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে। আর সেই রিপোর্ট ঘিরে এই মুহূর্তে তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতি। ইতিমধ্যে এই রিপোর্টকে কার্যত
ভোট পরবর্তী হিংসা মামলাতে ইতিমধ্যে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দিয়েছে মানবাধিকার কমিশনের তৈরি কমিটি। পঞ্চাশ পাতার একটি রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে। আর সেই রিপোর্ট ঘিরে এই মুহূর্তে তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতি। ইতিমধ্যে এই রিপোর্টকে কার্যত পক্ষপাতদূষ্ট বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, এই রিপোর্ট সম্পূর্ণ ভাবে অতিরঞ্জিত বলেও দাবি করা হয়েছে তৃণমূলের তরফে। সৌগত রায় জানিয়েছেন, হেরে যাওয়ার কারণে পক্ষপাতদুষ্ট হয়েই এই রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে।

একাধিক নেতার নাম!
৫০ পাতার এই রিপোর্ট জুড়ে একের পর এক অভিযোগ তোলা হয়েছে। রাজ্যে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তবে চাঞ্চল্যকর হল এই যে, রিপোর্ট কমিশনের তরফে একাধিক তৃণমূল নেতা-বিধায়ককে কুখ্যাত দুষ্কৃতিদের তালিকাতে ফেলা হয়েছে। সেই তালিকাতে রয়েছে রাজ্যের একাধিক মন্ত্রীর নামও। জানা গিয়েছে, 'কুখ্যাত দুষ্কৃতী'র সেই তালিকায় রয়েছে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, উদয়ন গুহ, শেখ সুফিয়ান থেকে পার্থ ভৌমিক, শওকত মোল্লা, জীবন সাহা, খোকন দাস মতো রাজ্যের একাধিক বিধায়ক, নেতার নাম। রিপোর্টে একেবারে নির্দিষ্ট করে বলা হয়েছে কোন এলাকার জন্য কোন নেতা দায়ী। যেমন নন্দীগ্রামে অশান্তির জন্যে দায়ী করা হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী এজেন্ট শেখ সুফিয়ানকে। পাশাপাশি বারাসত অঞ্চলে অশান্তির জন্য দায়ী করা হয়েছে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, পার্থ ভৌমিকদের।

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেপ্রোঅদিত
রিপোর্টে একাধিক তৃণমূল নেতার নাম। যা নিয়ে চরম অস্বস্তিতে শাসক শিবির। যদিও এই বিষয়টিকে তেমন ভাবে গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল নেতৃত্ব। তবে এই প্রসঙ্গে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেছেন, এই রিপোর্ট খুবই দুঃখজনক, লজ্জাজনক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি আরও বলেছেন, এটি সম্পূর্ণ সাজানো রিপোর্ট। দল এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। কার্যত এক মত রিপোর্টে নাম থাকা তৃণমূল বিধায়ক, নেতাদের।

ক্ষুব্ধ মমতা
কলকাতা হাইকোর্টে জমা দেওয়া রিপোর্ট সামনে আসার পরেই কার্যত ব্যাপক ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁর দাবি, আদালতের বিচার্য বিষয় নিয়ে কিছু বলব না। তবে উত্তরপ্রদেশের হিংসার ঘটনা ওদের চোখে আসেনা। সেই সময় সেখানে কোনও মানবাধিকার কমিশনকে পাঠানো হয় না। বাংলার মানুষকে অপমান করতেই মিথ্যা অভিযোগ সাজানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁর। আজ বৃহস্পতিবার একাধিক বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, যে সমস্ত ঘটনা ঘটেছে রাজ্যে সেগুলি সবটাই ভোটের সময়। সেই সময় রাজ্যের কোনও ক্ষমতা ছিল না। আর ভোটের আগে সমস্ত ঘটনাকে সামনে নিয়ে এসে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে। তবে কারা এই রিপোর্ট তৈরি করেছে সবটাই আমি জানি! তাঁদের নামও আমি জানি! কিন্তু কিছু বলব না। সাংবাদিক বৈঠকে চাঞ্চল্যকর দাবি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

তুলে ধরে রাজ্যকে আক্রমণ করা হয়েছে ওই রিপোর্টে
কবি গুরুর কবিতার লাইন তুলে ধরে রাজ্যকে আক্রমণ করা হয়েছে ওই রিপোর্টে। শুধু তাই নয়, অবিলম্বে ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে সিবিআই তদন্তের প্রয়োজন বলে মনে করা হয়েছে ওই রিপোর্টে। শুধু তাই নয়, এই রাজ্যে বাইরে শুনানির প্রয়োজন বলেও মানবাধিকার কমিশনের তরফে জমা দেওয়া রিপোর্টে বলা হয়েছে। শুধু তাই নয়, এই মানবাধিকার কমিশনের তরফে দেওয়া নিয়ে রিপোর্ট নিয়ে ক্ষুব্ধ খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তাঁর সাফ জবাব, পক্ষপাতমূলক রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে। কারা এই রিপোর্ট পেশ করেছে তাঁদের পরিচয় আমি জানি। কিন্তু বলব না। তবে আদালতকে আমি সম্মান করি। অন্যদিকে বৃহত্তর বেঞ্চে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চূড়ান্ত রিপোর্টে আরও বিস্তারিত বেশ কিছু অভিযোগ তোলা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications