SIR-এ এবার শুনানি প্রক্রিয়া শুরু! কারা ডাক পাবেন? কোন কোন নথি লাগবে? না গেলে কোন বিপদে পড়বেন? জানুন
SIR-এর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর এবার শুরু হচ্ছে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শুনানি প্রক্রিয়া। আজ থেকেই রাজ্যজুড়ে শুরু হল এই শুনানি প্রক্রিয়া। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর যে, প্রাথমিক ভাবে এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ৩২ লক্ষ ভোটারকে ডাকা হচ্ছে। মূলত যাঁদের নাম নিয়ে প্রাথমিক যাচাইয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তাঁদের কেই প্রথম পর্যায়ে হাজিরা দিতে হবে।

সূত্রের খবর অনুসারে, যেসব ভোটারের নাম 'নো ম্যাপিং' তালিকায় রয়েছে, তাঁদেরই আগে ডাকা হবে। বিশেষ করে ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে যাঁদের কোনও স্পষ্ট যোগসূত্র পাওয়া যায়নি, তাঁদের ক্ষেত্রেই আগে শুনানি নেওয়া হবে। উদ্দেশ্য একটাই, ভোটার তালিকাকে সম্পূর্ণ নির্ভুল এবং স্বচ্ছ করা।
এই পুরো প্রক্রিয়াটা সামলানোর জন্য প্রশাসনের তরফ থেকে বড় প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। রাজ্যজুড়ে মোট ৪ হাজার ৬০০ জন মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ করা হয়েছে। শুনানির দায়িত্বে সংশ্লিষ্ট এলাকার ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO) এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসাররা (AERO) থাকবেন। প্রত্যেকটি ধাপ যাতে নিয়ম মেনে এবং স্বচ্ছ ভাবে সম্পূর্ণ হয়, সে দিকেই বিশেষ নজর রাখা হবে।
রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে প্রত্যেকটিতে গড়ে ১১টি করে টেবিলে এই শুনানি প্রক্রিয়া হবে। অর্থাৎ, গোটা রাজ্যে মোট ৩ হাজার ২৩৪টি টেবিলে একসাথে এই শুনানি প্রক্রিয়া চলবে। কলকাতার ক্ষেত্রে আবার আলাদা করে এই ব্যবস্থা করা হয়েছে। কলকাতায় মোট ১২১টি টেবিলে শুনানি নেওয়া হবে।
শুনানিতে ভোটারদের প্রয়োজনীয় নথি দেখিয়ে নিজেদের পরিচয় এবং যোগ্যতা প্রমাণ করার সুযোগ দেওয়া হবে। প্রথমে সব পক্ষের বক্তব্য শোনা হবে আর তারপরই যাচাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি নেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে যে, এই শুনানি শেষ হয়ে যাওয়ার পর সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।
সব মিলিয়ে, প্রশাসনিক কর্তারা মনে করছেন যে, আসন্ন নির্বাচনের আগেই ভোটার তালিকা ঝালিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। যার লক্ষ্য একটাই, যোগ্য কোনও ভোটার যেন বাদ না পড়েন। আবার অযোগ্য কোনও ভোটারের নাম যেন তালিকায় না থাকে।
কী কী নথি লাগবে?
SIR-প্রক্রিয়ার শুরুতেই কমিশন যে ১৩টি নথির কথা বলেছিল, সেই নথি গুলির মধ্যে থেকে আধার কার্ড বাদ দিয়ে যে কোনও একটি নথি দেখাতে হবে। আবার কমিশন যদি চায় তাহলে একাধিক নথিও দেখতে হতে পারে। নথিগুলি হল, ১৯৮৭ সালের আগের ব্যাঙ্ক, সরকারি চাকরির কোনও আইডি কার্ড, পোস্ট অফিস বা LIC-এর নথি, বার্থ সার্টিফিকেট, পাসপোর্ট, মাধ্যমিক অথবা তার বেশি শিক্ষাগত যোগ্যতার যেকোনও সার্টিফিকেট, ফরেস্ট রাইট সার্টিফিকেট, জাতিগত শংসাপত্র, স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া বাসস্থানের সার্টিফিকেট, NRC-এর সার্টিফিকেট, পারিবারিক রেজিস্টার, জমি অথবা বাড়ির দলিল, আধার কার্ড।












Click it and Unblock the Notifications