কেন তৃণমূলের সভায় গরহাজির মুকুল-পুত্র, কী সাফাই দিল শুভ্রাংশু শিবির
মুকুল রায়ের বিজেপিতে আত্মপ্রকাশের সমাবেশের তিনদিন পরেই ধর্মতলায় সভার আয়োজন করেছিল যুব তৃণমূল কংগ্রেস। সেই বক্তার তালিকায় নাম থাকা মুকুল-পুত্র গরহাজির।
ধর্মতলার সভায় হাজির থাকার দলীয় নির্দেশ অমান্য করায় এই মুহূর্তে জোর জল্পনা শুভ্রাংশু রায়কে ঘিরে। তবে কি বাবার পথ ধরে শুভ্রাংশুও বিজেপিতে পা বাড়াতে চলেছেন। কেন তিনি এলেন না ধর্মতলায় তৃণমূলের সভায়। শুভ্রাংশুর ফোন সুইচড অফ পেলেও, তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানানো হল তাঁর অনুপস্থিতির কারণ। সেই কারণ দর্শানোয় জল্পনা বাড়ল বই কমল না আদৌ।

মুকুল রায়ের বিজেপিতে আত্মপ্রকাশের সমাবেশের তিনদিন পরেই ধর্মতলায় সভার আয়োজন করেছিল যুব তৃণমূল কংগ্রেস। সেই সমাবেশ থেকে মুকুল রায়ের আনা অভিযোগের জবাব দেওয়া হবে- এটাই ভেবেছিলেন তৃণমূল কর্মীরা। কিন্তু মুকুলের নিশানায় যিনি ছিলেন সেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অনুপস্থিত ছিলেন যুব-র সভায়। উল্লেখযোগ্যভাবে গরহাজির ছিলেন মুকুল-পুত্র শুভ্রাংশু রায়ও।
মুকুল রায়ের বিজেপিতে যোগদানের পর মুকুল-পুত্র শুভ্রাংশু-র গুরুত্ব বাড়িয়ে ধর্মতলার সভায় উপস্থিত থাকার কথা বলেছিল নেতৃত্ব। কিন্তু শুভ্রাংশু গরহাজির ছিলেন এদিন। তাতেই জল্পনার পারদ চড়তে থাকে। চিরায়ত সেই প্রশ্নটাই ফের উঠে পড়ে। তবে কি তৃণমূল ছেড়ে বাবার মতো বিজেপিতে নাম লেখাতে চলেছেন শুভ্রাংশু। তাই নেতৃত্বের নির্দেশ অমান্য করে সভায় গরহাজির থাকলেন!
এদিন শুভ্রাংশু প্রকাশ্যে না এলেও, তাঁর হয়ে মুখ খুললেন শুভ্রাংশু ঘনিষ্ঠরাই। তাঁরা সাফাই দিলেন, শুভ্রাংশু তৃণমূল রয়েছেন। তৃণমূলেই থাকবেন। অসুস্থতার কারণে তিনি যেতে পারেননি ধর্মতলার সভায়। শুভ্রাংশু গুরুতর অসুস্থ। সেই কারণে তাঁর হায়দরাবাদ যাওয়ার কথা থাকলেও, তিনি যেতে পারছেন না, তিনি যাত্রা বাতিল করেছেন এদিন।
শুভ্রাংশু শিবিরের দাবি, মুকুল রায় বিজেপিতে যোগদানের পর শুভ্রাংশু যে অবস্থান নিয়েছিলেন, সেই অবস্থানেই বদ্ধপরিকর রয়েছেন। তিনি নিজেকে তৃণমূলের অনুগত সৈনিক বলে দাবি করেছিলেন। তিনি যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদর্শেই চলতে চান, তাঁর নেতৃত্বেই কাজ করতে চান, তাও জানিয়ে দিয়েছিলেন শুভ্রাংশু। এদিন তাঁর অনুগামীরা শুভ্রাংশু-র সেই কথারই প্রতিধ্বনি করলেন।
রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, অসুস্থতা বাহানা মাত্র। বাবার বিরুদ্ধে সরাসরি মুখ খুলতে চান না বলেই তিনি নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। বিজেপির বিরুদ্ধে তিনি আন্দোলন চালাতে প্রস্তুত। কিন্তু বাবার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সব ছেলেই কুণ্ঠিত বোধ করে। শুভ্রাংশুর ক্ষেত্রেও তা হয়েছে। বাবার অপমান সামনে থেকে দেখতে চাননি। একটা মহল মনে করছে, দলীয় নেতৃত্বের অবজ্ঞা তাঁর বিজেপিতে পা বাড়ানোর প্রথম ধাপ।












Click it and Unblock the Notifications