তৃণমূল কি একা হয়ে যাচ্ছে জাতীয় রাজনীতিতে! কংগ্রেসের হাত ছাড়লে বুমেরাংয়ের আশঙ্কা

তৃণমূল কি একা হয়ে যাচ্ছে জাতীয় রাজনীতিতে! কংগ্রেসের হাত ছাড়লে বুমেরাংয়ের আশঙ্কা

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০২১-এ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বিরুদ্ধে প্রভূত সাফল্যের খোঁজ পাওয়ার পর কংগ্রেসকে ছেড়ে একা চলার পরিকল্পনা করেছে রাজ্য রাজনীতিতে। সেইমতোই তিনি কংগ্রেসকে ভাঙছেন আবার ইউপিএ-কেও ভাঙতে সচেষ্ট হয়েছেন। কিন্তু এই বিকল্প পথের সন্ধানে নেমে মমতাকে বারবার হোঁটচ খেতে হচ্ছে। তাঁর বন্ধু-দলগুলিই সরে যেতে শুরু করেছে পাশ থেকে।

মূল্যহীন জোট, কংগ্রেস ছাড়া বিজেপিকে হারানো অকল্পনীয়

মূল্যহীন জোট, কংগ্রেস ছাড়া বিজেপিকে হারানো অকল্পনীয়

সম্প্রতি অনেক আশা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গিয়েছিলেন মহারাষ্ট্রে। সেখানে তিনি এনসিপি প্রধান শারদ পাওয়ার এবং শিবসেনা মুখপাত্র সঞ্জয় রাউত ও আদিত্য ঠাকরের সঙ্গে কথা বলেন। সেখানে তিনি কংগ্রেসকে ছাড়া শক্তিশালী বিরোধী বিকল্প জোটের কথা উত্থাপন করলেও উল্টোদিক থেকে তেমন সাড়া পাননি। পরে শিবসেনা বা এনসিপির তরফে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়, কংগ্রেস ছাড়া বিজেপিকে হারানো অকল্পনীয়, কংগ্রেস-ভিন্ন বিরোধী জোটও মূল্যহীন।

রাহুল-প্রিয়াঙ্কা সকাসে শিবসেনার সঞ্জয় রাউত, তাৎপর্যপূর্ণ

রাহুল-প্রিয়াঙ্কা সকাসে শিবসেনার সঞ্জয় রাউত, তাৎপর্যপূর্ণ

কংগ্রেসকে ছাড়া তৃণমূল জাতীয় রাজনীতিতে এগোতে চাইছে। এই লক্ষ্যে ময়দানে নামার পরই ইউপিএর মিত্রশক্তির কাছে হোঁচট খেয়েছেন মমতা। শুধু শিবসেনা তাদের মুখপত্র 'সামনা'য় মমতার সমালোচনা করেনি, শিবসেনার মুখপাত্র সঞ্জয় রাউত মঙ্গলবার ও বুধবার কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সঙ্গে দেখা করতে চলেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মহারাষ্ট্র সফরের পর শিবসেনার এই পদক্ষেপ জাতীয় রাজনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

বিরোধী ফ্রন্টে কংগ্রেসের গুরুত্ব অপরিসীম, বলছে শিবসেনা

বিরোধী ফ্রন্টে কংগ্রেসের গুরুত্ব অপরিসীম, বলছে শিবসেনা

সম্প্রতি তৃণমূল ও গ্র্যান্ড ওল্ড পার্টি কংগ্রেসের মধ্যে ব্যবধান বেড়েই চলেছে। এই অবস্থায় বিজেপির বিরুদ্ধে যে কোনও বিরোধী ফ্রন্টে কংগ্রেসের গুরুত্ব অপরিসীম বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে শিবসেনা। তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিষন্ধির ঘোর সমালোচনা করতেও ছাড়েননি। আর সেই আঙ্গিকে এই বৈঠকটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে।

মমতা সংশয় প্রকাশ করেছিলেন ইউপিএ-র অস্তিত্ব নিয়ে

মমতা সংশয় প্রকাশ করেছিলেন ইউপিএ-র অস্তিত্ব নিয়ে

বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত সপ্তাহে মুম্বইয়ে শিবসেনা মুখপাত্র সঞ্জয় রাউত ও রাজ্যের মন্ত্রী আদিত্য ঠাকরে এবং এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। শারদ পাওয়ারের সাথে সাক্ষাতের পর মমতা সংশয় প্রকাশ করেছিলেন ইউনাইটেড প্রোগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স বা ইউপিএ-র অস্তিত্ব নিয়ে। তিনি যে আর ইউপিএ-তে নেই, তা স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন তাঁর বিবৃতিতেই।

ইউপিএ-কে নিয়েই পরিকল্পনা করতে হবে মমতাকে

ইউপিএ-কে নিয়েই পরিকল্পনা করতে হবে মমতাকে

তারপরই শিবসেনা সাফ জানিয়ে দেয়, ইউপিএ-র সমান্তরাল ফ্রন্ট গঠন করা বিজেপিকে শক্তিশালী করার সমতুল্য। নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে কংগ্রেসকে উপেক্ষা করলে হবে না। শিবসেনার তরফে জানানো হয়, কংগ্রেস নেতা সোনিয়া গান্ধী এবং রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন ইউপিএ-কে নিয়েই পরিকল্পনা করতে হবে।

একত্রিত হতে হবে কংগ্রেসকে নেতৃত্বে রেখেই

একত্রিত হতে হবে কংগ্রেসকে নেতৃত্বে রেখেই

কংগ্রেসের প্রতি সমর্থনের বার্তা দিয়েছে আদর্শগতভাবে বিরোধী শিবসেনা। কংগ্রেস ও শিবসেনা অপ্রত্যাশিতভাবে কাছে এসেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিপরীত অবস্থানের কারণে। যুক্তি একটাই বিজেপির বিরোধিতা। ২০২৪-এ বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারকে পরাস্ত করায সে জন্য বিরোধী সমস্ত দলের একত্রিত হওয়ার দরকার। আর একত্রিত হতে হবে কংগ্রেসকে নেতৃত্বে রেখেই।

বিজেপিকে হারাতে হলে কংগ্রেসের হাত ছাড়লে হবে না

বিজেপিকে হারাতে হলে কংগ্রেসের হাত ছাড়লে হবে না

কেননা কংগ্রেস ছাড়া 'প্যান ইন্ডিয়া' তকমা কোনও দলের নেই। কেউই তা রাতারাতি অর্জন করতেও পারবে না। তাই কংগ্রেসকে ছাড়া বিজেপিকে হারানো অসম্ভব। আর পৃথক বিকল্প গড়ে তোলার অর্থ বিজেপিকেই সহায়তা করা। বিজেপির জয়ের পথকে সুগম করা। এটা শিবসেনা করবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্পষ্ট বার্তা, বিজেপিকে হারাতে হলে কংগ্রেসের হাত ধরেই হারাতে হবে, কংগ্রেসের হাত ছাড়লে হবে না।

রাহুল নন, মমতাই মোদি-বিরোধী প্রধান মুখ

রাহুল নন, মমতাই মোদি-বিরোধী প্রধান মুখ

সম্প্রতি তৃণমূলের মুথপত্র 'জাগো বাংলা'য় নিয়মিত কংগ্রেসকে নিশানা করা হচ্ছে। শুক্রবারও তৃণমূলের মুখপত্রে 'জাগো বাংলা' কংগ্রেসের উপর নতুন করে আক্রমণ করে। তারা জানায়, কংগ্রেস এখন 'ডিপ ফ্রিজারে' চলে গেছে। সম্প্রতি 'জাগো বাংলা'য় দাবি করা হয়েছিল যে, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে বিরোধীদের মুখ।

তৃণমূল নয় কংগ্রেসকেই অগ্রাধিকার ইউপিএ শরিকদের

তৃণমূল নয় কংগ্রেসকেই অগ্রাধিকার ইউপিএ শরিকদের

উল্লেখ্য, ২০২১-এ বাংলায় বিজেপিকে পর্যুদস্ত করার পর তৃণমূল ভিনরাজ্যে সংগঠন গড়ে তুলতে মনোযোগী হয়েছে। ত্রিপুরার পাশাপাশি গোয়ায় কংগ্রেসকে ভেঙে সংগঠন গড়েছে। কংগ্রেসকে ভাঙিয়ে মেঘালয়ে প্রধান বিরোধী দলে রূপান্তরিত হয়েছে তৃণমূল। তারপর হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, বিহারেও তৃণমূল কংগ্রেস সংগঠন গড়ে তুলতে তৎপর। এই অবস্থায় তৃণমূল এখন জোটসঙ্গী খুঁজতে ময়দানে নেমেছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই অবস্থান স্পষ্ট করেছে শিবসেনার মতো অনেক দলই। এনসিপি, আরজেডি, জেএমএমও তাঁদের অবস্থান স্পষ্ট করে কংগ্রেসকেই অগ্রাধিকার দিয়েছে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+