‘তাঁকে এবার জবাব দিতে হবে’, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তৃতায় SFI-এর বিক্ষোভ প্রসঙ্গে বললেন দিলীপ ঘোষ
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লন্ডনের কেলগ কলেজে বক্তৃতা দেওয়ার সময় ছাত্রদের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। এ নিয়ে নতুন করে সরগরম রাজ্য-রাজনীতি। তৃণমূল সমর্থকরা এই ঘটনাকে কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না। আবার তৃণমূল বিরোধীরা বলছেন এমনটা হওয়ারই ছিল। স্বাভাবিক ভাবেই এই ঘটনা বিদেশের মাটিতে ঘটলেও, বঙ্গ রাজনীতিতে তুলেছে বিতর্কের ঝড়।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যুক্তরাজ্য সফর এবং কেলগ কলেজে তাঁর বক্তব্য প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ মন্তব্য করেছেন, "তিনি যখন যুক্তরাজ্যের কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা দিতে যাবেন, তখন আরজি কর কলেজে কী ঘটেছিল তার জবাব তাকে দিতে হবে"।

দিলীপ ঘোষ এদিন বলেন, "বাংলায় মহিলারা নিরাপদ নন। এখানে যে ঘটনাগুলো ঘটছে, তার জন্য তাকে জবাব দিতে হবে"। বিজেপির দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের জন্য "কলঙ্ক"। একই দাবি করেছেন অমিত মালব্যও।
বিজেপি নেতা অমিত মালব্য একটি ভিডিও শেয়ার করে দাবি করেন, "লন্ডনের কেলগ কলেজে বাঙালি হিন্দুরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখোমুখি হন, আরজি করের ডাক্তার হত্যাকাণ্ড, সন্দেশখালিতে নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধ, হিন্দুদের গণহত্যা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। হিন্দু বাঙালি প্রবাসীরা তাকে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে সরাতে চান কারণ তিনি বাংলার ঐতিহ্য ধ্বংস করেছেন"।
গতকাল বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "রাজনীতি করবেন না, নেতিবাচক বক্তব্য তৈরি করা খুব সহজ"। তৃণমূল কংগ্রেসের পোস্ট করা ভিডিওতে তিনি আরও বলেন, "আপনারা আমাকে উৎসাহিত করুন, আশা করুন যে দিদি প্রতিবার আসবেন, দিদি বিরক্ত করবেন না, দিদি রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মতো হাঁটেন, আর যদি পারেন তবে আমাকে ধরুন"।
অন্যদিকে এই প্রসঙ্গে, স্টুডেন্টস ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (এসএফআই) ইউকে শাখা এই বিক্ষোভের দায় স্বীকার করেছে। সংগঠনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "আমরা তার মিথ্যাচারের বিরোধিতা করেছি এবং সামাজিক উন্নয়নের দাবির প্রমাণ চেয়েছিলাম। আমাদের শান্তিপূর্ণ মত প্রকাশের অনুমতি না দিয়ে পুলিশ ডাকা হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গের ছাত্র ও শ্রমজীবী মানুষের সমর্থনে, এসএফআই-ইউকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্নীতিগ্রস্ত শাসনের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে"।
স্বাভাবিক ভাবেই এই বিষয়ে এবার নতুন করে চড়ছে বিতর্কের পারদ। এসএফআই-এর এহেন প্রতিবাদকে চরম ধিক্কার জানাচ্ছে তৃণমূল-কংগ্রেস। সেখানে পাল্টা তাঁদের এই কাজের জন্যে তারা মুখ্যমন্ত্রীকেই দোষারোপ করছেন। আর সবের মাঝে থেকে মজা দেখছে গেরুয়া শিবির। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই সব কিছু নিয়ে তপ্ত বঙ্গ রাজনীতি।












Click it and Unblock the Notifications