তৃণমূলকে বিঁধে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বড় ঘোষণা, বাংলায় সরকার গড়ারও জোরালো প্রত্যয় অমিত শাহের

পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে বিঁধলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুরে কার্যকর্তা সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, রাজ্য সরকারের ভূমিকায় জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

শাহ বলেন, কলকাতা হাইকোর্টও বলেছে, বিএসএফকে জমি দিতে হবে। কিন্তু মমতা দিদি দেবেন না। আমরা কথা দিচ্ছি-বিজেপি সরকার এলে ৪৫ দিনের মধ্যে সীমান্তে বেড়া দেওয়ার কাজ শেষ হবে।

অমিত শাহ বলেন, এই বছর বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর পূর্তি। বাংলার মহান সন্তান বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ইংরেজদের বিরুদ্ধে জাতিকে জাগাতে বন্দে মাতরম রচনা করেছিলেন। আর এই বন্দে মাতরম ধীরে ধীরে স্বাধীনতার স্লোগানে পরিণত হয়েছিল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যখন এই গান গেয়েছিলেন, তখন সারা দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামীরা বন্দে মাতরমকে মুক্তির মন্ত্র বানিয়েছিলেন। স্বাধীনতা সংগ্রামে যাঁরা শহিদ হয়েছেন, যাঁদের ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছে-তাঁদের মুখের শেষ কথা ছিল "বন্দে মাতরম"। নরেন্দ্র মোদীর সরকার বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর দেশজুড়ে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আবার একবার বাংলা থেকে ওঠা বন্দে মাতরমের ধ্বনি কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী এবং গুজরাত থেকে বাংলা পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত আমাদের নেতা নরেন্দ্র মোদী নিয়েছেন।

শাহের কথায়, দুর্ভাগ্যের বিষয়, যে বন্দে মাতরমের জন্ম বাংলায়, সেই বন্দে মাতরম নিয়ে সংসদে আলোচনা হলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাংসদরা তার বিরোধিতা করেন। আমাকে বলুন, বন্দে মাতরমের বিরোধিতা কি বাংলার মাটি সহ্য করতে পারে? আমাদের প্রতিটি ভোটার, প্রতিটি নাগরিকের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিতে হবে যে ভোটব্যাংকের তোষণ এবং অনুপ্রবেশকারীদের খুশি করার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেস বন্দে মাতরমের বিরোধিতা করছে। মমতা দিদি, বন্দে মাতরমের বিরোধিতা করে আপনি নরেন্দ্র মোদীর নয়, বাংলার আত্মসম্মান ও ভারতের গৌরবের বিরোধিতা করছেন। বাংলার আত্মসম্মানের অপমান কি বাংলার মানুষ সহ্য করবে? আমি বাংলার মানুষকে অনুরোধ করতে এসেছি-যে তৃণমূল কংগ্রেস বাংলার আত্মসম্মানের বিরোধিতা করে, তাদের আগামী নির্বাচনে শিকড়সহ উপড়ে ফেলুন এবং এখানে দেশপ্রেমিকদের সরকার গড়ুন।

শাহ বলেন, বাংলায় প্রশাসন ভেঙে পড়েছে। ২০২৬ সাল তৃণমূলকে টাটা-বাই-বাই বলার বছর। এখানে কাটমানি, সিন্ডিকেট, পুলিশের অপব্যবহার, অনুপ্রবেশ শিল্পে পরিণত হয়েছে। আমি আজ বলছি, বাংলায় বিজেপি প্রচণ্ড সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গড়বে। ২০১৪ সালে আমরা ২টি আসন পেয়েছিলাম। ২০১৯ সালে ১৮টি আসন। ২০২৪ সালে ভোটশেয়ার বেড়েছে। ২০২১ সালে ৭৭টি বিধানসভা আসন পেয়েছি। এবার ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে সরকার গড়ব। ২০২৪ সালে নরেন্দ্র মোদী তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। অন্ধ্রপ্রদেশ, ওডিশা, অরুণাচল, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র, দিল্লিতে বিজেপি সরকার গঠন করেছে। এবার বাংলার পালা। মা-মাটি-মানুষ-মমতা দিদির এই স্লোগানের বাস্তবতা হলো মা অসুরক্ষিত, মাটি দখল হয়ে যাচ্ছে, মানুষ সিন্ডিকেটে অতিষ্ঠ। তাই বন্দে মাতরমের সম্মান রক্ষাকারী বিজেপির সরকার দরকার। বাংলায় সরকার গঠন শুধু রাজ্যের জন্য নয়, দেশের নিরাপত্তার জন্য জরুরি।

শাহ আরও বলেন, বাংলার মাটি থেকে উঠে আসা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের দল আজ ২১টি রাজ্যে সরকারে। আমাদের লক্ষ্য-বাংলাতেও বিজেপির রাজ্য হবে। মতুয়া ও নামশূদ্র সমাজকে ভয় দেখানো হচ্ছে। আমি স্পষ্ট বলছি ভয় পাওয়ার দরকার নেই। ন্যায্যভাবে ভোটার তালিকা সংশোধন হবে এবং বিজেপি সরকার এলে অনুপ্রবেশকারীদের নাম বাদ যাবে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+