লাভপুর গণধর্ষণ কাণ্ডে নির্যাতিতাকে ৫ লক্ষ টাকা রাজ্য সরকারকে দেওয়ার নির্দেশ

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি পি সদাশিবন এবং বিচারপতি এস এ বোবড়ে ও এন ভি রামন এদিন রাজ্য সরকারের ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, পীড়িতার মৌলিক অধিকার রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে রাজ্য সরকার। প্রধান বিচারপতি জানিয়ে দিয়েছেন, নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী বিয়ে করা যে কোনও নাগরিকের মৌলিক অধিকার। এবং সেই অধিকার নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের কর্তব্য। মহিলাদের অধিকার রক্ষার দায়িত্ব রাজ্য সরকারকেই নিতে হবে৷
লাভপুর কাণ্ডে পীড়িতার মৌলিক অধিকার রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে রাজ্য সরকার : শীর্ষ আদালত
উল্লেখ্য, লাভপুরের সুবলপুরের আদিবাসী কিশোরীর সঙ্গে চদ্দাহা গ্রামের এক যুবকের সম্পর্ক তৈরি হয়। ভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে এই সম্পর্ককেই সহজভাবে নিতে পারেননি গ্রামবাসীরা। এর বিহিত করতে ২০ বছরের মেয়েটির উপর গণধর্ষণের নিদান দেয় সালিশী সভা। ৫০,০০০ টাকার জরিমানাও চাওয়া হয়। সারা রাত মেয়েটি ও তার পুরুষ বন্ধুকে গাছেক সঙ্গে পিঠ মোড়া করে বেঁধে রাখা হয়। পরে সালিশি সভা সংলগ্ন একটি রান্নাঘরের নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। মোট ১৩ জন মিলে সারারাত ধরে ২০ বছরের মেয়েটির উপর অত্যাচার চালায়। এই ঘটনায় সমালোচনার ঝড় ওঠে সর্বত্র।
লাভপুর গণধর্ষণ মামলায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে রিপোর্ট তলব করে শীর্ষ আদালত। ৩১ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যের মুখ্য সচিবের কাছে জানতে চায় এই ঘটনায় পুলিশ কী পদক্ষেপ নিয়েছে। মুখ্য সচিবের রিপোর্ট দেখে শীর্ষ আদালত জানায়, রাজ্য সরকার পদক্ষেপ নিলেও তা যথেষ্ট নয়। আরও কঠিন পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল সরকারের।
এই ঘটনায় গ্রামের মোড়ল সহ অভিযুক্ত ১৩ জনকেই গ্রেফতার করে পুলিশ।
এদিকে অভিযুক্তদেক হেফাজত নিয়েই দানা বাধে বিতর্ক। অভিযুক্তদের পুলিশ নিজের হেফাজতে নেওয়ার আর্জি না জানানোয় অভিযুক্তদের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয় বোলপুর আদালত। কেন পুলিশ অভিযুক্তদের হেফাজত চায়নি তা নিয়েই বিতর্ক তৈরি হয়। খবর শোনা যায় পুলিশের ভূমিকায় অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। ঘটনার তদন্তে পুলিশি তৎপরতার অভাব আছে বলেই মনে করছিলেন মমতা। আর সেই কারণেই সেই রাতেই জেলার পুলিশ সুপার এস সি সুধাকরকে শো কজ করে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও প্রশাসনিক তরফে জানানো হয়েছিল।












Click it and Unblock the Notifications