সারদা কেলেঙ্কারি: আমি চোর নই, আগ বাড়িয়ে মন্তব্য মদন মিত্রের

সারদা কেলেঙ্কারিতে যখন মদন মিত্রকে সিবিআই জেরা করতে পারে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, তখনই মন্ত্রী নিজে বলে বসলেন যে, তিনি চোর নন! সিবিআই যতই তাঁকে সারদা-কাণ্ডে জড়ানোর চেষ্টা করুক, তাতে লাভ হবে না।
পেটে ব্যথা নিয়ে গত কয়েক দিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন পরিবহণ মন্ত্রী মদন মিত্র। শনিবারই বাড়ি ফিরেছেন তিনি। সারদা-কাণ্ডে তাঁকে সিবিআই জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে, এই সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় সাংবাদিকরা মদনবাবুর প্রতিক্রিয়া জানতে চান। তিনি বলেন, "আমি এখনও অসুস্থ। কড়া অ্যান্টিবায়োটিক চলছে। ডাক্তাররা আমাকে আরও কিছুদিন হাসপাতালে থেকে যেতে বলেছিলেন। কিন্তু আমি থাকিনি। আসলে গুজব রটানো হচ্ছিল, আমি নাকি সিবিআইয়ের ভয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। কিন্তু আমি চোর নই। কেন সিবিআইয়ের ভয়ে হাসপাতালে থাকব?"
সিবিআইয়ের তদন্তে রাজনীতি রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, "সিবিআই ভুল পথে তদন্ত নিয়ে যাচ্ছে। আমি লাল পাঞ্জাবি পরলাম নাকি হলুদ, তা নিয়ে তো তদন্ত হতে পারে না। সন্ধেবেলা কোন বান্ধবীকে নিয়ে ক্লাবে গেলাম, সেটাও তদন্তের বিষয়বস্তু হতে পারে না। আসল লোকদের গায়ে হাত দেওয়ার ক্ষমতা নেই ওদের। হিম্মত থাকলে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর আত্মীয়দের ধরুক।"
সুদীপ্ত সেনের উত্থানের পিছনে সিপিএম রয়েছে দাবি করে মদন মিত্র বলেছেন, "যাদের হাত ধরে সুদীপ্ত সেন জন্মাল, সেই চক্রবর্তী-ভট্টাচার্য-দেব-বসুদের তো সিবিআই ডাকছে না! তা হলে কীসের তদন্ত? আসলে সিপিএম-বিজেপি-কংগ্রেস মিলে মদন মিত্রের পিছনে লেগেছে।"
প্রশ্ন উঠেছে, তদন্তের স্বার্থে পুলিশ বা গোয়েন্দারা যে কাউকে ডাকতে পারে। এটা তদন্তের পদ্ধতি। তাতে কেউ চোর হয়ে যায় না। যেহেতু মদন মিত্রের প্রাক্তন আপ্ত সহায়ক বাপি করিমের সঙ্গে সারদা গোষ্ঠীর প্রাথমিক যোগাযোগ ছিল বলে জানা গিয়েছে, তাই মদন মিত্রকে ডাকতে চায় সিবিআই। অথচ মদনবাবু আগে থেকেই বলে দিলেন যে, তিনি চোর নন! আগ বাড়িয়ে এই আক্রমণ কেন করছেন তিনি? তা হলে কি কিছু জানাজানি হওয়ার ভয়ে ঘাবড়ে গিয়েছেন?
সারদা গোষ্ঠীর প্রাক্তন কর্মীদের দাবি, মদন মিত্র ছিলেন সারদা এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সভাপতি। সারদা মিডিয়ার অন্তর্গত অফিসগুলিতে তাঁর নাম লেখা বোর্ড শোভা পেত। নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে সারদা গোষ্ঠীর অনুষ্ঠানে তিনি ভাষণ দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, "সুদীপ্ত সেন বিন্দু থেকে সিন্ধু হয়েছেন।" সেই সব প্রমাণই জোগাড় করেছে সিবিআই। পাশাপাশি, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুরে বিধায়ক থাকার সময় সুদীপ্ত সেনকে নানাভাবে তিনি সহায়তা করেছিলেন বলে অভিযোগ। জেরার মুখে মদনবাবুর আপ্তসহায়ক বাপি করিম এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন গোয়েন্দাদের।












Click it and Unblock the Notifications