সারদা-কাণ্ড: মুখ্যমন্ত্রীকে 'মিথ্যেবাদী' বললেন আসিফ খান

সারদা-কাণ্ডে অভিযুক্ত তৃণমূল কংগ্রেসের সাসপেন্ডেড সাংসদ কুণাল ঘোষ গত এক বছর ধরে জেলে রয়েছেন। কিন্তু বন্দি অবস্থাতেই বারবার তোপ দেগেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। বলেছেন, "সারদা মিডিয়ার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সুবিধা যদি কেউ সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পেয়ে থাকেন, তিনি হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।"
আরও পড়ুন: সারদা-কাণ্ডে মুখ বন্ধ রাখতে বলছে পুলিশ, হুমকি দিচ্ছে: আসিফ খান
কুণালের সুরে সুর মিলিয়ে গতকাল একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে আসিফ খান বলেন, "কেউ যদি বলে থাকেন যে, পয়লা বৈশাখের আগে সারদা গোষ্ঠীর কাজ-কারবার নিয়ে কিছুই জানতেন না, তা হলে বাংলায় তাঁর চেয়ে বড় মিথ্যেবাদী আর কেউ নেই। পয়লা বৈশাখ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খবর পেলেন যে সারদার সংবাদমাধ্যমগুলি ডুবছে আর সঙ্গে সঙ্গে মুকুল রায়কে বললেন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে? ওই দিনই মুকুল রায় টাকা নিয়ে হাজির হয়ে গেলেন 'কলম' পত্রিকার দখল নিতে? এমন কখনও হয়? আইনি ব্যাপার কিছু দেখলেন না? অপরাধী যে-ই হোক, আমি বা মুখ্যমন্ত্রী, সে ধরা পড়ুক।"
২০১৩ সালের ১৫ এপ্রিল সারদা গোষ্ঠীর পতনের বিষয়টি প্রথম সামনে আসে। ওই দিন সারদার মালিকানাধীন একটি টিভি চ্যানেলের কর্মীরা প্রভাতী অনুষ্ঠানে কান্নায় ভেঙে পড়েন। সঙ্গে সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ব্যাপারে মুকুল রায়কে হস্তক্ষেপ করতে নির্দেশ দেন। মুখ্যমন্ত্রী পরে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, সারদা গোষ্ঠী কী ধরনের ব্যবসা করে, কে মালিক ইত্যাদি আগে জানতেন না। পয়লা বৈশাখই জানতে পেরেছিলেন। সেই সূত্র ধরেই মমতাকে বিঁধেছেন আসিফ খান।
তৃণমূল কংগ্রেসের এই প্রাক্তন নেতা তথা মুকুল রায়ের একদা ছায়াসঙ্গী বলেছেন, পয়লা বৈশাখের দুপুরে সারদা গোষ্ঠী পরিচালিত 'কলম' পত্রিকার অফিসে তিনি গিয়েছিলেন। ছিলেন মুকুল রায়, তাঁর ছেলে শুভ্রাংশু রায়, তৃণমূলের দুই সাংসদ আমহেদ হাসান ইমরান ও নাদিমুল হক। আসিফের দাবি, প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের রুটি-রুজির কথা ভেবে এঁরা হস্তক্ষেপ করছেন। পরে দেখা যায়, সারদার খবরের কাগজ ও টিভি চ্যানেলগুলি দখল নিয়ে নিজেদের স্বার্থে কাজে লাগানোর ছক বানিয়েছেন মুকুল রায়রা।
তাঁর অভিযোগ, ২০১৩ সালের ১৫ এপ্রিল একটা সুবর্ণ সুযোগ তৃণমূলের সামনে এসে গিয়েছিল। আসলে দু'বছর আগে থেকেই সারদা মিডিয়ার দখল নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল তৃণমূল নেতৃত্ব।
অন্যদিকে, সারদা-কাণ্ডে মুখ খোলায় পুলিশ তাঁকে শাসাচ্ছে বলে ইতিমধ্যে অভিযোগ করেছিলেন আসিফ খান। এ বিষয়ে তিনি কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।












Click it and Unblock the Notifications