রোগী মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সাগর দত্ত হাসপাতালে উত্তেজনা, চিকিৎসক নিগ্রহের চেষ্টা, আহত স্বাস্থ্যকর্মীরা
চিকিৎসকদের উপর হামলার প্রবণতা কিছুতেই কমছে না। সরকারি হাসপাতালগুলিতে যাতে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা যায় তা নিয়ে সরকারের কাছে নির্দিষ্ট দাবি পেশ করা হয়েছে। সেই দাবি মেনে সরকার কাজ করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। তা সত্ত্বেও প্রশাসনিক ব্যর্থতা নাকি উদাসীনতা, কী কারণে বারবার সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের আক্রমণের মুখে পড়তে হচ্ছে তা নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলছেন চিকিৎসক থেকে শুরু করে চিকিৎসা কর্মীরা। এদিন যেমন ফের একবার এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। এই ঘটনার জেরে ফের সম্পূর্ণ কর্মবিরতিতে গেলেন সাগর দত্ত হাসপাতালের জুনিয়র চিকিৎসকেরা।
অভিযোগ, হাসপাতালে আনার পরে রোগীকে চিকিৎসা না করে ফেলে রাখা হয়েছিল। ফলে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু হয়েছে রোগীর। এই অভিযোগ তুলেই রোগীর আত্মীয়রা চিকিৎসকদের ওপর চড়াও হন। অভিযোগ, বচসা-ধাক্কাধাক্কি চলতে থাকলে হাসপাতালে থাকা কর্মীরা এগিয়ে এসে ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। সেই ঘটনায় স্বাস্থ্যকর্মীদের আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে খবর। হাসপাতালের কম্পাউন্ডের ভিতরেই পুলিশ আউটপোস্ট থাকা সত্ত্বেও কীভাবে হামলার ঘটনা ঘটল তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন চিকিৎসকেরা।

জানা গিয়েছে, মৃত্যু হয়েছে একজন মহিলার। শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে তাঁকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তারপর অভিযোগ, বহুক্ষণ তাঁকে বিনা চিকিৎসায় ফেলে রাখা হয়। তারপর তাঁর মৃত্যু হয়। মৃতার নাম রঞ্জনা সাউ, বয়স ৩৬ বছর।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, বেশ কয়েকদিন ধরেই রঞ্জনা জ্বরে ভুগছিলেন। সঙ্গে পেট খারাপের সমস্যা ও শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যা ছিল। অবস্থা খারাপ থাকায় রোগীকে সঙ্গে সঙ্গে সিসিইউতে রেফার করা হয়। হাসপাতালে তরফে সিপিআর দিয়ে রোগীকে বাঁচানোর চেষ্টাও করা হয়েছিল। বিকেলের পর অবস্থার অবনতি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগীর আত্মীয়দের ডেকে খবর দেওয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো যায়নি।
এই ঘটনা জানার পরেই চিকিৎসকদের আক্রমণ করেন রোগীর আত্মীয়রা। অভিযোগ, ২০-২৫ জন চড়াও হন। পুলিশের সামনেই উত্তেজনা তৈরি হয়। মহিলা ওয়ার্ডে ঢুকে ইনটার্ন, পিজিটি, হাউসস্টাফদের যাঁরা সকলেই মহিলা, তাঁদের ওপর চড়াও হন অনেকে। চিকিৎসকদের অভিযোগ, পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তাঁরা আধ ঘণ্টা পরে আসে। হাসপাতালের নিরাপত্তা রক্ষীরাও বিশেষ তৎপর হননি বলেই অভিযোগ। মহিলা চিকিৎসকেরা একটি ঘরে ঢুকে যান। ভিতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। ফলে প্রাণে বাঁচেন তাঁরা। নাহলে ফের বড় হামলা হতে পারত চিকিৎসকদের ওপর।
এই মাসেই রোগী মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এই সাগর দত্ত হাসপাতালেই উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। চিকিৎসক হাসপাতালে এসে চিকিৎসা না করে রোগীকে ফেলে রেখেছিলেন বলে সেদিন অভিযোগ উঠেছিল। তারপর এদিন ফের একবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল সাগর দত্ত হাসপাতালে। আক্রান্ত হতে হল চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের। পশ্চিমবঙ্গ জুনিয়র ডাক্তারদের সংগঠনের তরফেও ঘটনা জানার পর তীব্র নিন্দা করা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications